আলাপচারিতা (লালন দর্শনে রচিত)

পাগল দেবা এর ছবি

একদা এক “পাগল” বসে তার মনের সুখে গান বাঁধিতে ব্যাস্ত ছিলেন। এমন সময় তার ঐ বসিবার অঞ্চলের মালিক স্বরূপ বাবু মশাই যাচ্ছিলেন পাশ দিয়ে...

সেই পাগলের কণ্ঠের কিছু মধুর কথা আর সুর বাবু মশাইয়ের কানে এসে ভাবের বাসা বাধে...

আমার দেহ কাইন্দা কয়

তোর মনতো ভাল নয়

মনের মানুষ লইয়া সে যে

দেহ গেছে ছাড়ি......।।

পেয়াদা পাঠিয়ে তাকে তলব করা হয় তার উঠনে। সেই সময়কার কিছু আলাপচারিতা নিয়েই সাজানো এই লিখাটা......

পাগল-দেহের কষ্টতো সইতে পারি, মনের কষ্ট যে পারিনা ? তারে বাঁধি কি করে বাবু মশাই ?

বাবু মশাই- তার মানে তুমি দেহ আর মনকে কি আলাদা করে ভাবছো ? কিন্তু কেন, মনতো দেহের বাইরে নয় ?

পাগল- (একটু মুচকি হেঁসে) না.........বাবু মশাই, এইটা আপনি ঠিক কইলেননা। দেহতো দেহের জায়গায়ই পইরা থাকে, কিন্তু মন ? সেতো নিজ নিয়মে ঘুইরা ফিরে। আপনি তারে যতই বাঁধার চিষ্টা করবেন ততই সে পালাবে...।

আবার দেখুন, মানুষের যখন মৃত্যু হয় তখন এই খাঁচা রূপী দেহ পইরা থাকে। আর অন্তর আত্মা কোন দরজা দিয়া পালায় কেউ কিচ্ছু কইতে পারেনা। তখন কি আর মন সাথে থাকে ? এই আত্মাই হচ্ছে গিয়ে মন। আবার, যখন জীবিতো থাকে তখন সে কি আপনার দেহের ভিতর রাখতি পারেন ? সে তখন তার মনের মানুষের কাছেই থাকে। পেলেও থাকে, না পেলেও থাকে... আর যারা এই দুনিয়াতে গুরু গোঁসাইয়ের সঙ্গ ধরতে জানে তারাও মন বাধিতে পারেনা। মন তখন গোঁসাইয়ের কাছেই বাঁধা পরেগো বাবু মশাই...

ভোট: 
Average: 10 (1 vote)