খুনসুটি

অনেকক্ষণ থেকে কাব্যের মোবাইলটা বেজেই যাচ্ছে কিন্তু কাব্য ফোন রিসিভ করছে না। এখন ফোন রিসিভ করলেই ঝামেলা।টানা ৪ বার রিং হওয়ার পর পঞ্চম বারে কাব্য ফোন রিসিভ করলো। কারন ফোন না ধরা পর্যন্ত এই ফোন আসতেই থাকবে।

কাব্যঃ-হু।
লাবণ্যঃ-এই কই তুমি?কতক্ষণ থেকে ফোন দিচ্ছি,ফোন ধরছো না কেন?
লাবণ্যঃ-কি হু, হাঁ করছো?কোথায় আছো উত্তর দিতেছো না কেন? তুমি কি বাইরে?শব্দ কিসের?
কাব্যঃ-শব্দ শুনে ফেলছো?কিসের শব্দ সেটা তুমিই বলো, তুমি তো শার্লক হোমসের ভাতিজী। ঝামেলাতে আছি এখন,পরে কথা বলবো।
লাবণ্যঃ-কিসের ঝামেলা?রাত বাজে সাড়ে এগারোটা আর তুমি এখনও বাইরে! এতো রাতে তুমি বাইরে কেন?
কাব্যঃ-উফ লাবণ্য!চিল্লাতেইছো কেন?সারা দিন শুধু ক্যাঁচক্যাঁচ করো।সাড়ে এগারোটাতে বাইরে থাকা যাবেনা, এমন কোন কথা আছে?
লাবণ্যঃ-আমি ক্যাঁচক্যাঁচ করি?কি বলতে চাও তুমি?সমস্যা কি তোমার?
কাব্যঃ-সমস্যা আমার না তোমার। সারা দিন এটা করো না,ওটা করো না,এটা খাও,এখনো ঘুমাওনি কেন?বাইরে কেন?গার্লফ্রেন্ড হয়ে মায়ের মতো আচারন করো, আর ভাল্লাগেনা তোমার এই গার্জিয়ানগিরি।
লাবণ্যঃ-তুমি মনে হয় ভুলে গেছো আমি তোমার গার্ল ফ্রেন্ড না হবু বউ।
কাব্যঃনা ভুলি নাই,কেমনে ভুলি?তুমি ভুলার
 সুযোগ রাখছো?বিয়ের আগেই  গার্জিয়ানগিরি করতেছো, আর বিয়ের পরে না জানি কি করবা আল্লাহ্ মাবুদই জানে!
লাবণ্যঃবাবু এমন করতেছো কেন?কি হইছে তোমার?অফিসে কোন ঝামেলা হইছে?
কাব্যঃ-উফ!!তোমাকে অনেকবার বলছি আমাকে বাবু -ফাবু বলবা না।আমি কাব্য, আমাকে কাব্য বলবা।যদি জামাইয়ের নাম নিতে না চাও ,তাহলে এই শুনছো বললেই হবে। আর যে ঝামেলাই হোক তোমাকে সব বলতে হবে?আমার কোন স্বাধীনতা নাই?
লাবণ্যঃ-তুমি এইরকম প্রলাপ বকতেছো কেন?চিটাগাং যাওয়ার পর থেকেই খিটমিট শুরু করছো।
কাব্যঃ-চিটাগাং তো তুমিই আমাকে ঠেলে পাঠাইছো, আর এখন এই কথা বলতেছো হাহ।আমার খিটমিট ভালো না লাগলে আমাকে ফোন দিওনা। তুমি ফোন করে খিটমিট শুনতে চাইলে আমি কি করবো?
লাবণ্যঃ-উফ অসহ্য!দিনদিন তোমাকে সহ্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কাব্যঃ-সহ্য করতে কে বলছে?সহ্য করছো কে- এ-ণ? কাব্য সবটুকু আর বলতে পারলোনা তার আগেই অন্যপাশ থেকে লাবণ্য লাইন কেটে দিলো।লাইন কেটে যাওয়াতে কাব্য বেশ খুশি হল।যাক এতোক্ষণের চেষ্টা সফল হয়েছে।এই রাতে লাবণ্য রেগে যাওয়া মানে আজ আর তার ফোন কল আসবে না।আজ রাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন থাকাটা খুবই দরকার।অনেক বেশী দরকার।

কাব্যের জন্ম, বড় হওয়া,পরিবার,বন্ধুবান্ধব সব কিছুই ঢাকাতে।এই সব কিছু ছেড়ে কাব্যকে চাকরীর সুবাদে চট্টগ্রামে আসতে হয়েছে।কাব্য যেতে চায়নি, কিন্তু লাবণ্যের জোরাজুরিতে শেষ পর্যন্ত না গিয়ে আর পারেনি।অবশ্য এতো ভালো চাকরী আর সুযোগ- সুবিধা যে ,প্রতিষ্ঠিত হতে বেশী দিন  লাগবে না।একেবারে নতুন  জায়গাতে গিয়ে মানিয়ে নিতে কাব্যের বেশ কষ্ট হচ্ছে।তারপরে আবার বন্ধুবান্ধব কেউ নেই ওখানে।এইসব কিছুর জন্য লাবণ্যই দায়ী। লাবণ্যের মধ্যেও একধরনের অনুশোচনা কাজ করছে।ধুর!লাবণ্যের কিছুই ভালো লাগে না।অনুশোচনা আর একারাশ মন খারপ নিয়ে লাবণ্য একটা সময় ঘুমিয়ে গেলো। সকাল বেলা লাবণ্যের ঘুম ভাঙ্গলো মায়ের ডাকাডাকিতে।আজ লাবণ্যের নাচের প্রোগ্রাম আছে দুপুরে।মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিলো কিন্তু লেট করে ঘুমানো কারনে সেটা টের পায়নি সে।লাবণ্য ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে গিয়ে পুরাই থ হয়ে গেলো।মুখ দিয়ে একটা শব্দ পর্যন্ত বের করার শক্তি নেই।কাব্য নাস্তার টেবিলে বসে নাস্তা খাওয়ার আয়োজন করছে। লাবণ্যকে দেখে তার বিখ্যাত হাসি দিলো। লাবণ্য কোনমতে টেবিলের কাছে এগিয়ে গেলো।
লাবণ্যঃ-তু-তু-মি... এইখানে?কখন এলে?
কাব্যঃ-সকালে এসেছি। তাড়াতাড়ি আসো নাস্তা করি, আমার খুব  ক্ষুধা লেগেছে।
লাবণ্যঃ-আমাকে আগে বলনি কেন?
কাব্যঃ-আগে বললে তো আর সারপ্রাইজ হতে না। আর আসতেও না করতে তাই বলিনি।
লাবণ্যঃ-এভাবে হুট করে কেনো এলে? তুমি কি চাকরীটা ছেড়ে দিছো?
কাব্যঃ-আরে নাহ চাকরী ছাড়বো কেন?আজ ছুটি নিছি।তোমার কোনো প্রোগ্রামে আমি ছিলাম না এমনটা তো কখনো হয়নি। এখন হবু শাশুড়ি আম্মার বানানো নাস্তা খাবো। তারপর তোমাদের সাথে তোমার প্রোগ্রাম এ যাবো,তোমার নাচ দেখবো।রাতের গাড়ীতে আবার চলে যাবো।কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে শেষ করলো কাব্য। আনন্দে লাবণ্যের চোখমুখ চকচক করছে তবুও মুখে একটা কৃত্রিম রাগ ফুটিয়ে তুলার ব্যর্থ চেষ্টা করলো সে। লাবণ্যঃ-তুমি কি পাগল নাকি?
কাব্যঃ-হুম পাগলই তো,তোমার পাগল..... ..... .......

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ তওহিদ

বিশেষ ধন্যবাদঃনাজমুস সম্পদ

ভোট: 
Average: 8.3 (3 votes)