গণতন্ত্রে সততার চর্চা

করণিক আখতার এর ছবি

গণতন্ত্রে, যেহেতু কোনো জনপ্রতিনিধি স্বেচ্ছায় তার নিজের খেয়াল-খুশিতে যাচ্ছেতাই চাইতে বা করতে পারে না, বরং যেকোনো জনপ্রতিনিধির সকল চাওয়া এবং পালনীয় দায়িত্বগুলো তার নির্বাচক জনসাধারণের চাওয়ার মতোই হ’তে বাধ্য, -রাষ্ট্রে দুর্নীতি কমাতে বা দমাতে চাইলে দুর্নীতি-প্রবণতা থেকে নির্বাচক জনসাধারণকেই মুক্ত থাকতে হবে।

(অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থার পরিণাম যেকোনো ধরণের অরাজকতা এমনকী সন্ত্রাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর এজন্যেই যে, অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে সভ্য সাধারণও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়।)  

যারা জানে তারা ভালোভাবেই জানে- যেখানে যেমন জনগণ, সেখানে প্রতিনিধিরো তেমনি আচরণ।

আচরণে জনসাধারণের মতো হ’তে না-পারলে কেউ যে জনপ্রতিনিধি রূপে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না, স্মরণকালের ইতিহাস ঘেঁটেই তা’পাওয়া যায়। এমনকী, রাজতন্ত্রেও দেখা গেছে, রাজাকেও টিকে থাকতে হয়েছিল ‘প্রজাতন্ত্রের’ অনুগত রূপে। অসন্তুষ্ট প্রজাদের মাঝে কোনো রাজা তার স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রাধান্য দিয়ে টিকতে পারেনি।

মন্ত্রী আর আমলারা সৎ হ’লেই দেশের দুর্নীতি কমবে’- এ-ধরণের বক্তব্য রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র কিম্বা যেকোনো ধরণের একনায়কতন্ত্রেই যথাযথ অর্থে প্রযোজ্য হ’তে পারে, তবে তা’ কখনোই গণতন্ত্রে নয়।

গণতন্ত্রে সততার চর্চা চালানোটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।

 

কোনো দলীয় নীতিমালাতে এমন কোনো নিয়ম বা বিধান নেই যে, জেনে বুঝে দলীয় বিধানে কোনো প্রতারককে দলে দলভুক্ত ক’রে নিতে পারবে কিম্বা দলোগণের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তিও নেই যে, সজ্ঞানে স্বেচ্ছায় দলভুক্ত ঐ ব্যক্তিটি প্রতারকদের তালিকাভুক্ত রূপে নিজেকে দেখতে চায়।

দলোগণ যদি গণতন্ত্র বুঝতো, তাহলে অত সহজে ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি মুখে উচ্চারণ করতে পারতো না।

 

গণকরণিক : আখতার২৩৯                  রঙ্গপুর : ৩১/০১/২০১৪খ্রি:

ভোট: 
Average: 10 (1 vote)