নতুন খামে পুরোনো চিঠি

করণিক আখতার এর ছবি

##################

*****

এদেশের জিডিপি বাড়ার অর্থ যে মুষ্টিমেয় কিছু সুযোগপ্রাপ্ত দলোগণের অবৈধ সম্পত্তির পরিমাণ চরম উচ্চহারে বেড়ে যাওয়া, সেটা কেবল তারাই বোঝে যাদের সচ্ছলতা কেড়ে নিয়ে নিয়ে অসচ্ছল বানিয়ে যাদেরকে শ্রমের মজুরিতে পারিশ্রমিকে চূড়ান্তভাবে ঠকানো হয়েছে এবং যাদের সম্ভাবনাময় সন্তানদেরকে লোভনীয় টোপ গিলিয়ে গিলিয়ে আত্মনিবেদিত দলীয় ক্যাডার ক্রীতদাস রূপে পেয়ে সুবিধাভোগকারী দলোগণ তাদের অবৈধ প্রতিপত্তির বিশ্বস্ত পাহারাদার বানাতে পেরেছে।

গণকরণিক : আখতার২৩৯

********************

মুক্ত প্রতিবেদন

===================

এই দেশে কাঁচামালের অভাব নেই। এদেশের কোনো শিল্প-কারখানা কাঁচামালের  অভাবে বন্ধ হয়নি। বরং, --এদেশের কাঁচা-রাবার, কাঁচা-চামড়া কাঁচা অবস্থাতেই নগণ্য মূল্যে পূর্বে-পশ্চিমে রপ্তানি হয়েছে এবং চ্ছে। অথচ ওগুলোরই প্রক্রিয়াজাত প্রস্তুতপণ্য আমদানি করতে করতে এদেশটি সংকটজন কভাবে ঋণাক্রান্ত

(ঋণগ্রস্ততা এবং অভাবগ্রস্ততা সমার্থক নয়। তবুও মুষ্টিমেয় যে জন বিদেশি-ত্রাণখোর চিহ্নিত ভিখারি বলে, -‘এদেশ দরিদ্র দেশ,’ -সম্ভবত তারা  উদ্দেশ্যেই বলে যাতে বিদেশি ত্রাণ বা সাহায্য টেনে এনে দলীয় পোষ্যপুত্রদেরকেছিটেফোঁটা ছিটিয়ে অবশিষ্ট সিংহভাগ দিয়ে নিজেদের ঝুলি ভরানো যায়।)

এদেশের মাটিতে ফলের এবং ফসলের এতই ফলন যে, -রপ্তানি না-করলে ওগুলো পচে গলে দুর্গন্ধ ছড়ায় তাই জনগণ বাধ্য হয়েই উর্বর জমি আবাদ না-রে ফেলে রাখে।

রপ্তানির লক্ষ্যে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য যেটুকু কারিগরি সহযোগিতা আবশ্যক তারচেবহু বহুগুণ প্রযুক্তি হেলায় খেলায় এদেশের পথে-ঘাটে বিলাস-ব্যবহারে অপচয়ে-অপকর্মে ক্ষয় হয়। এদেশে জ্বালানি-জড়শক্তি-জৈবশক্তির পরিমাণ যথেষ্টর চেয়েও বেশি। তারও চেয়ে বেশি আছে এখানে জনশক্তি। এদেশে অভাব নেই। এদেশকে দরিদ্র দেশ লে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা ঘৃণ্য অপরাধ

 পৈত্রিক বাস্তু বন্ধক রেখে কিম্বা কোনো হিতাকাঙ্ক্ষীর সহযোগিতায় কিম্বা লটারিতে  সুযোগ পেয়ে কিম্বা অবৈধ চোরাপথে এদেশ থেকে যেসব জনশক্তি পূর্বের কিম্বা পশ্চিমের দেশগুলোতে গিয়ে মূল্যের বিনিময়ে শ্রম দিচ্ছে অথবা শিক্ষা লাভ করছে,   -কেউই অদক্ষ হিসেবে চিহ্নিত চ্ছে না। বরং, এদেশের দ্বিতীয় সারির একজন শিক্ষার্থী অথবা যেকোনো ধরণের শ্রমজীবী বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রথম সারির দক্ষতমদের সমতুল্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দক্ষতর প্রমাণিত হয়েছে

 (সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন দ্রষ্টব্য Smile

 মাটিকে ভাঁটায় পোড়ানো লে ইটে পরিণত হয়। গুণগত মানসম্পন্ন ইটকে কাজে  না-লাগিয়ে যদি আরও পোড়ানো হয় তাহলে ফলাফলে ইট মান হারিয়েঝামাবাপিকেটয়ে যায়।একই  বিধানের নীতিতে মানসম্পন্ন জনগণের অর্থাৎ দক্ষ জনশক্তির গুণ বাড়ানোর বুলিসর্বস্ব প্রস্তাবকে শয়তানি বক্তব্য মনে করার বৈধ  অধিকার আছে এদেশের জনগণেরএদেশের জনসংখ্যাকেঅদক্ষজনশক্তিবলবার আগে আবারও একবার ভেবে দেখবার অবকাশ দেওয়া চ্ছে

নিজেরাই অদক্ষ এবং অভিজাত ভিখারি হিসেবে চিহ্নিত কিছুসংখ্যক নকল মালিক  নিজেদের ঘৃণ্য অস্তিত্বের স্বার্থে পোষ্যপুত্র বানিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, বেকার, ভবঘুরে ইত্যাদি ইত্যাদি পরিচয়ে যাদেরকে পরিচিত রাখতে চায়, -তারাও কর্মসংস্থান সমৃদ্ধ দেশগুলোতে গেলে পরে সসম্মানে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। তবুও শোনা যায় সভায়-জলসায়-সমাবেশে-অধিবেশনে অশ্লীল বক্তব্য যেমন, - -এদেশ দরিদ্র, এদেশের জনগণকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে, --ইত্যাদি ইত্যাদি

 (মালয়ভাষী স্বনামধন্য মাহাথির মোহাম্মদের শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলায় কথা বলতে না-পারাকেও অদক্ষতা হিসেবে গণ্য করতে চায় এদেশের চিহ্নিত ভিখারিরা।)

এদেশের জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তি বলতেই হবে।

যে-কেউ বলবে এদেশ দরিদ্র, তার গালে কষে থাপ্পড় মেরে তার কানটা রে হিড়হিড় রে টেনে নিয়ে গিয়ে বস্তির ডাষ্টবিনটার ময়লা আবর্জনায় নাকটা ষে দিন,--তাতে সামান্য জেল-জরিমানা তে পারে তা’ যেমন সত্যি, তার চেয়েও বড় সত্যি, আপনার সৎসাহসী কর্মটির জন্য আপনার উত্তরসূরিরা আগামীতে আপনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে

রঙ্গপুর

********************

অসচ্ছল, সচ্ছল এবং অসচ্ছলায়িত সম্পর্কে

===================

সচ্ছল এবং অসচ্ছলের মধ্যেকার সম্পর্কটি দাতা এবং গ্রহীতার মধ্যেকার সম্পর্কটির মতো, যেখানে মিত্রপক্ষ ভেবেই এক অপরকে প্রত্যাশা করে। সচ্ছল এবং অসচ্ছলায়িতের মধ্যেকার সম্পর্কটি কখনোই সেরকম হয় না। অসচ্ছলায়িতরা যেকোনো সময়ে প্রতিশোধ নিতে পারে, সেই ভয়ে সচ্ছলেরা একা একা আতঙ্কিত আয়ুষ্কাল যাপন করে যেতে বাধ্য হয়। সচ্ছলদের জন্যে এ এক বিশাল পরাজয়।

********************

সক্রিয় জনগণের অবর্তমানে

===================

(সচ্ছল এবং অসচ্ছলের মধ্যেকার সম্পর্কটি দাতা এবং গ্রহীতার মধ্যেকার সম্পর্কটির মতো, যেখানে এক অপরকে মিত্রপক্ষ ভেবেই প্রত্যাশা করে। সচ্ছল এবং অসচ্ছলায়িতের মধ্যেকার সম্পর্কটি কখনোই সেরকম হয় না। অসচ্ছলায়িতরা যেকোনো সময়ে প্রতিশোধ নিতে পারে, সেই ভয়ে সচ্ছলেরা একা একা আতঙ্কিত আয়ুষ্কাল যাপন করে যেতে বাধ্য হয়। সচ্ছলদের জন্যে এ এক বিশাল পরাজয়।)

জনগোষ্ঠীতে জনে জনে ভিন্নতাগুলোর অহঙ্কার সমুন্নত রাখা হলে, সমস্বার্থিক সাধারণ অভিন্ন বিষয়গুলোতে একতাবদ্ধ হওয়া সহজে সম্ভব হয়ে ওঠে না। কোনো জনসমষ্টি ব্যক্তি সংখ্যার যোগফলে যত বিশালাংকের-ই হোক না কেন, পারস্পরিক সমঝোতা না থাকলে, কখনোই কেবল সংখ্যাগুণে কোথাও সক্রিয়জনগণবা জনতাগড়ে ওঠে না। জনে জনে সমন্বয়হীতার সুযোগে ঐক্যবদ্ধ দলোগণ যাচ্ছেতাই করার সুযোগ পায়।

 যেকোনো ভূখণ্ডে ‘নিষ্কৃয় জনগণের থাকা’ এবং ‘জনগণের না-থাকা’ সমান অর্থই বহন করে।

 
যেখানে জনগণ (people) আছে, কেবল সেখানেই গণতন্ত্র সংজ্ঞা অনুসারে চলতে পারে

 সচ্ছল কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী কখনো বিপদে পড়লে সাধারণত সেখানে অসচ্ছলায়িত জনসমষ্টি থেকে কেউ সহজে তার সমব্যথী হতে পারে না।

 বহু ব্যক্তিমালিকের মধ্যে কিছু ব্যক্তি নিজেদেরকে দুর্বল ভেবে কিম্বা নিজ যোগ্যতার চে’ অতিরিক্ত কিছু পাবার লোভে পারস্পরিক সহযোগিতার চুক্তিতে দলবদ্ধ হয়। ক্ষমতায় এবং শক্তিতে, ব্যক্তি শূন্যের কাছাকাছি, তবে জনগণ প্রায় অসীমের সমান, ব্যক্তি এবং জনগণের মাঝামাঝি বিভিন্ন দলগুলোর সক্রিয় অবস্থান।


দলোগণ আর জনগণ সমার্থক নয়, যদিও বিভিন্ন দলোগণ তাদের নিজেদের চাওয়াগুলোকে জনগণের চাওয়া লে চালায় এবং জনগণশব্দটিকে আত্মরক্ষার অনিবার্যতায় দুর্ভেদ্য ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এজন্যেই যে, অনির্দিষ্ট যেকোনো সময়ে জনে জনে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগুলোই যেকোনো বিপর্যয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার অভিন্ন স্বার্থে  ‘জনগণ’ বা ‘জনতা’ হয়ে ওঠার ক্ষমতা ধারণ করে

গণকরণিক : আখতার২৩৯

********************

লিচুগাছে জলপাই

*****

-যে-চাওয়ায় যায় না পাওয়া,

--সে-চাওয়া মানুষের চাওয়া নয়

===================

--‘ওরে, তোরা কার কাছে কী চাচ্ছিস?’—প্রশ্নটার দিকে মনোযোগ না-দিয়ে আমরা কেবল বলেই যাচ্ছি,‘আমাদের চাওয়া এবং চেষ্টাতে তো কার্পণ্য ছিলো না। অথচ, কী আশ্চর্য! দেখুন, এবারেও আমাদের লিচুগাছটাতে জলপাই ধরলো না!’

********************

শ্রমজীবী কর্মীর মজুরি নির্ধারণ

===================

একটুখানি ভেবে বলুন তো, আমরা বুঝতে চাচ্ছি, --বিনিময়ে কত পেলে, শ্রমজীবীর মতোই আপনিও, শ্রম দিতে পেরে সন্তুষ্ট থাকবেন, সেটাই এখানে মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে আপনার কাছ থেকেই আমরা জানতে চাচ্ছি।

আমি যখন আপনার মতোন ঐ কারখানাটার গর্বিত মালিকদের একজন, আর আপনি, এই আমার মতোই একজন শ্রমজীবী কর্মী এবং ন্যায্য মজুরী পেতে চাচ্ছেন আপনার দেওয়া শ্রমের বিনিময়ে; আপনি যদি ভাবতে পারেন, তাহলে বুঝতেও পারবেন,- আপনাকে যে-হারে মজুরি দিলে, আপনার কাজের বিনিময়ে আপনাকে আমরা ঠকাইনি ভেবে আপনি তৃপ্ত হবেন, জেনে রাখুন, আপনার মতোই শ্রম দিয়ে সম্মানিত মজুরিটুকু আমাদের নিবেদিত শ্রমের মজুরি হিসেবে আমরাও পেতে চাই।

নিজেকে অদক্ষ দাবি ক’রে বা অযোগ্য সেজে পালানোর চেষ্টা করবেন না। আমরা জানি, আপনি পারবেন, ভয় পাবেন না। একজন সাধারণ শ্রমজীবী হবার জন্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যদি আপনার না-ও থাকে, আপনাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দিয়ে গড়ে তুলবো আমরা। প্রশিক্ষণকালে আপনি আপনার মজুরির অর্ধেক পাবেন।

আপনার যে-মেধার প্রতি শ্রদ্ধাবনত থেকে আমরা আপনাকে মর্যাদা দেই, সেই মেধাটাকে খাটিয়ে যদি আপনি ভেবে দেখতে না-পারেন, আমরা পীড়াপীড়ি করবো না; বাস্তব শিক্ষাই আপনার প্রাপ্য বুঝে নিয়ে আমরা আপনাকে তা’ দেবো। আপনার পছন্দের যেকোনো কারখানায়, খুব বেশি লম্বা সময় আমরা নেবো না আপনার, কিছুকাল, -দু’বছরও হয়তোবা লাগবে না, আপনি চাইলে ছ’মাসেই শিখে নিয়ে, আমাদের মতো শ্রমজীবী কর্মী হয়ে উঠতে পারবেন, -প্রশিক্ষণের পর চার মাস, শ্রমজীবী হিসেবেই তখন পূর্ণ মজুরি পাবেন আপনি।

স্বেচ্ছায় আপনি যদি তারপরও, শ্রমজীবী রূপেই চুক্তিবদ্ধ থাকতে চান, -আপনি দক্ষ থেকে দক্ষতর হয়ে উঠলে আপনার মজুরিও বৃদ্ধি পাবে দক্ষতার সাথে সাথে। বৈধভাবে গড়ে ওঠা কোনো প্রতিষ্ঠান আপনাকে কখনো ঠকাবে না। ঠকাবে না এজন্যেই যে, মিল বা কারখানা তার শ্রমজীবী কর্মীদেরকে ঠকিয়ে এজগতে কোথাও দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারে না।

যখন আপনি জানেন, সন্তুষ্ট শ্রমজীবী কর্মীরা নিজেদের স্বার্থেই তাদের মালিককে কোনোভাবে ঠকানোর চিন্তাও মাথায় আনতে পারে না, তখন আপনার এ-ও বুঝতে পারার যোগ্যতা আছে যে, কোনো দল বা বাহিনী, কোনো ধরণের সিণ্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমজীবী কর্মীদের যেকোনো মজুরি বেঁধে দিলেই, তা’ আপনি সসম্মানে মেনে নিতে বাধ্য নন।

শ্রমজীবী কর্মীরা, কোন্ ধরণের শ্রমে কত হারে মজুরি পাবে, সেটা নিজে চেয়ে নেবার জন্যে আপনার স্বার্থেই আপনাকে আমরা ডেকে এনেছি এজন্যেই যে, আপনি এবং আপনার সন্তানেরাই, কর্মসংস্থানগুলোতে কখনোবা মালিক কখনো শ্রমজীবী কর্মী হিসেবে ছিলেন এবং আগামীতেও এখানে আপনারাই থাকবেন।

গণকরণিক : আখতার২৩৯

********************

ক্রীতদাসের ভাষায় ‘মানুষ’ শব্দটির ব্যবহার   

===================

সেদিনও তুমি এই কথাটাই বলেছিলে

তবে, সেদিন, কথাটার অর্থটা ছিল ভিন্ন,

--তা’ যে আমি বুঝতে পেরেছি, জানতে পেরেছো তুমি তা’,

তাই তো তোমার কাছে আজকের আমি ঘৃণ্য।

তুমি তো তোমার ভাষায় এদেশের মানুষের কল্যাণ চাও।

‘মানুষ’ বলতে পরিণতি ভাবনা সমৃদ্ধ বিবেকবান কোনো মানবসন্তানকে

তোমার হিসেবের গণনায় না-নিয়ে, সেদিনও তুমি এখানে

‘আমি এদেশের মানুষের কল্যাণ চাই’ বলেছিলে প্রকাশ্যে।

‘মানুষ’ বলতে, তোমার ভাষায়, তোমার মতোই, তোমার দলীয় কিছু লোক,

তারা ক্যাডার ক্রীতদাস ছাড়া অন্য কেউ যে নয়, -

‘মানুষ’ বলতে তুমি যে কেবল তোমার দলোগণকেই বোঝাও,

--তা’ যে আমি বুঝতে পেরেছি, জানতে পেরেছো তুমি তা’,

তাই তো তোমার কাছে আজকের আমি ঘৃণ্য।

যোগ্যতা অর্জনের প্রতিযোগিতায় পরাজিতরাই তোমার মতো,

তাদের অদক্ষতার নিত্য চেষ্টায়, বিনাশ্রমে বিশাল কিছু পাবার আশায়,-

আর, ঐ বিশাল কিছুটা! যদি এমন কিছু হয় যা’ মানুষের সরলতার সুযোগে

সবকিছুকে ডিঙিয়ে কেবল চাপাবাজ চোয়ালের গুণে

মুক্তভাবে শয়তানি চালানোর সুযোগ!-

তোমার মতো পরাধীন ক্রীতদাসের জন্যে তো সেটা চরম পাওয়া!-

স্বাধীন দাসদের উপর নির্দেশদাতা সেজে থাকার সুযোগের মতো,-

এখানে ঐ সুযোগটা পাওয়ার লোভেই ক্রীতদাসেরা কখনো মুক্তি চায় না,

বরং ক্রীতদাসত্বকেই ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ ভেবে নেয়। 

আত্মবিশ্বাসহীন নিজেদেরকে নরাধম জেনেই ক্রীতদাসেরা কখনোই

ক্রীতদাসত্বকে ছেড়ে দিয়ে দাসত্বকে বরণ করার সাহস পায় না।

মানুষের মতো সসম্মানে দায়বদ্ধতার দাসত্বের দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা চালানোতে,

ক্রীতদাসেরা নিজেদেরকে অযোগ্য জেনে, মানুষের সাথে প্রতিযোগিতায় যায় না। 

‘মানুষ’ শব্দটি উচ্চারণে, তোমার ভাষায়,

তুমি যে কেবল তোমার দলোগণকে বোঝাও,

--তা’ যে আমি বুঝতে পেরেছি, জানতে পেরেছো তুমি তা’,

তাই তো তোমার কাছে আজকের আমি ঘৃণ্য।

 

করণিক : আখতার২৩৯

********************

পোশাক ব্যবহারে যন্ত্রণার জ্বালা

===================

পঞ্চাশ ডলারের বিনিময়ে একটা টি-সার্ট বা একটা গেঞ্জি কেনার সময় যে-ক্রেতাটি গর্বভরে ভেবেছিল, তার দেওয়া চড়ামূল্য থেকে গার্মেন্টস্‌-এর শ্রমজীবী কর্মীটিও সমান হারে তার প্রাপ্য উপযুক্ত মজুরি পেয়েছে, সেই গর্বিত ক্রেতাটি যেন নিজের গালে নিজে কষে চড় মেরে পরনের ঐ পোশাক খুলে ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

উন্নত কোনো দেশের সভ্য নাগরিকের পরিচয়ধারী পোশাক ব্যবহারকারীটি যদি কোনো বিবেকবান ব্যক্তি হয়ে থাকে তো, চরমভাবে অবহেলিত শ্রমিকের শ্রমে তৈরি পোশাকটি পরিধান করামাত্রই তার দেহে তেমনি যন্ত্রণার জ্বালা ধরা স্বাভাবিক, যেমন যন্ত্রণা নিয়ে জ্বলে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেছে গার্মেন্টস্‌-এর কর্মীরা এখানে সাভারের ধসে পড়া ভবনে।

********************

সতর্কের গণবিজ্ঞপ্তি : জুন, ২০১৩

===================

তা’ যেভাবেই লুট করা হোক, লুটের সম্পদের ওপর কিম্বা কোনো ধরণের অবৈধ উপার্জনের ওপর রাষ্ট্রীয় শুল্ক, কর বা ট্যাক্স রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের তদারকির হিসেবের ভিতরে কোনো অবৈধ সম্পদ ঢোকানোর বিধান নেই।

অবৈধ সম্পদের ধারকগণ তাদের ঐ হিসাব-বহির্ভূত সম্পদ ব্যয় করে রাষ্ট্রের ভিতরে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা গড়ে তুললে, কোনো ধরণের নিরাপত্তা প্রদানে রাষ্ট্র বাধ্য নয়। কোনো সম্পদের বৈধ মালিককে খুঁজে না-পেলে ঐ সম্পদ রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।

কীভাবে আমি আমার দখলের সম্পদের বৈধ মালিকানার দাবিদার, তা’ দর্শানোর দায়িত্বভার অন্যের ওপরে চাপানো হয় না, বরং আমাকেই বহন করতে হয়, বিধানটি সকলের জন্যেই সমানভাবে প্রযোজ্য। অবৈধ মালিক কখনোই রাষ্ট্রের কাছে আসল মালিকের মর্যাদা পায় না।

কোনো সম্পদ ‘অবৈধভাবে অর্জিত বা উপার্জিত’ প্রমাণিত হ’লে, ঐ সম্পদের মালিকানার দাবিদারও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিধানে অবৈধ মালিক হিসেবে গণ্য হবে, তা’ সকলের-ই জানা। তাই, রাষ্ট্রের বেতনজীবী সম্মানিত চাকরবাহিনীর মধ্যে তদারকির দায়িত্বপূর্ণ চাকুরি যাদের, তাদের ভিতরে যারা অবৈধখোর কুলাঙ্গার, তাদেরকে ঘুষ-ঘাস খাইয়ে অবৈধ মালিকানাধারীদেরকে সাময়িক আত্মগোপনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়েছে।

নির্বোধ বৈধ মালিকেরা, তথা রাষ্ট্রের জনসাধারণ চিরকাল নিষ্ক্রিয় থেকে যাবে, -এমনটা যারা ভাবছে, আর ভাবছে যে, জনগণ অন্ধ, সম্পদের ভারে চরম মোহমুগ্ধ তারাই এখানে দখলান্ধ। অন্ধ মোহগ্রস্তরা আজও গণপিটুনিদাতা জনগণকে চেনেনি, তাই নিজেদেরকে ভাবছে তারা আত্মরক্ষিত, ঝুঁকিমুক্ত। আত্মরক্ষা করতে চাইলে ওভাবে না-ভেবে, অবৈধ মালিকানাধারীরা যেন তাদের লুটের মাল বিদেশে পাচার ক’রে দিয়ে নিজেরাও তল্পিতল্পাসহ ২০১৫-এর আগেই চিরতরে গোপনে এদেশ থেকে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে।

অবশ্য যে-ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বিদেশের পদদলিত জঞ্জালে পরিণত হওয়ার চেয়ে বরং আগেভাগেই আত্মসমর্পিত হয়ে প্রায়শ্চিত্ত করে নিয়ে এদেশে টিকে থাকাকে সম্মানজনক ভাবতে পারবে, তার বরাদ্দে গণপিটুনি বা গণরোষ রাখা হচ্ছে না।

গণকরণিক : আখতার২৩৯

********************

পূর্বপ্রস্তুতি : ১১(এগারো)

===================

তুমি ওদেরকে সাধারণভাবে কে বা কারা এই দেশটাকে হানাদার মুক্ত করেছিল?’ জিজ্ঞেস করলে, যদি ওরা সত্যাচারী হয়, তাহলে অবশ্যই ওরা বলবে, ‘নিশ্চয়ই এদেশের জনসাধারণের আন্তরিক সমর্থন এবং সহযোগিতাকেউ-ই আমি বা আমার দলএমন জবাব দিয়ে অন্যদের সাথে দলধ্বংসী কোন্দল বাধাবার ঝুঁকি নেবে না, কেহই সচেতনে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যর্থ চেষ্টায় আত্মঘাতী হতে চাইবে নাদুঃসময়ের ঘটনাগুলো কেউ-ই ভুলে যায়নি, তবুও দেখা যায়, কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থে ওদের একাংশ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তো করলোই না, হানাদারদের চেয়েও জঘন্য আচরণের প্রকাশ ঘটালো এদেশের শান্তিকামী জনগণের বিরুদ্ধেসমস্ত অর্জনের সফলতার প্রশংসা নিজেদের দিকে টেনে নিলো আর ঘৃণ্যতম যে কাজটি তারা করলো, সেটা ছিল সনদ প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভক্তিকরণ এবং কোঠা বাণিজ্যসাধারণ জনগণের উন্নতিতে ওরা এমনভাবে বাধা দিল যে, বিশাল সম্ভাবনাময় একটা জনগোষ্ঠী বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে দয়াপ্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেলোধর্মব্যবসায়ীরাও ফাঁক ফোকর বুঝে তাদের স্বর্গ বেচার সুযোগটা নিল, মূর্খদের মাঝে তাদের প্রতারণা চালাতে পারলো সমান তালেচূড়ান্ত লাভের এ কারবারে স্বর্গ বিক্রেতারা প্রচূর পরিমাণে জাগতিক সম্পদের মালিকানা পেলো, ক্রেতারা বেহেস্তের টিকেট কিনে নিয়ে তাদের জীবদ্দশায় এ-জগতে দারিদ্র্যের যন্ত্রণা পেয়েও সন্তুষ্ট থাকলোস্বর্গের টিকেটটা ক্রেতার মরদেহের কাফনের সাথে কবরে দেওয়া হচ্ছে কি-না, তাপরখ করে নিচ্ছে তার সঙ্গীদের মধ্যে যারা জীবিত আছেদুই ধরণের মুক্তিযোদ্ধা সনদ আর বহু তরিকার স্বর্গের টিকেট বিক্রেতার দখলের এই দেশে, দক্ষ এবং যোগ্য মানবসন্তানগুলো নিজেদের কর্মসংস্থান খুঁজে না-পেয়ে মাদকাসক্তি আর হতাশায় ডুবে যেতে বাধ্য হলোদখলদারেরা অযোগ্য আর লোভীদেরকে খুঁজে খুঁজে কিনে নিয়ে নিয়ে নিজেদের স্বার্থে তাদেরকে যোগ্যদের আসনে বসতে দিলসকল গণবিরোধী কীর্তিকলাপ তারা চালালো তাদের শয়তানি কৌশলেনা-বুঝে অচেতনে কেউ যে কিছু করেনি, তাবোঝা যায় তাদের দেশত্যাগী হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি দেখেযেকোনো সময়ে গণপিটুনি শুরু হবার আভাস পাওয়ামাত্র অন্য কোনো দেশে গিয়ে আশ্রয় নিতে যেন ঝামেলায় পড়তে না-হয়, এরা প্রত্যেকে তার নিজের পছন্দমতো দেশে আগামীতে থাকবার জন্যে নাগরিকত্ব নিয়ে রেখেছেতাদের কেউ কেউ বিলাসবহুল অট্টালিকাও কিনে রেখেছে

গণকরণিক : আখতার২৩৯

********************

উসুল

===================

দায়বদ্ধ তোমার বাবা এখন নাগালের বাইরে 

আমার কিছু পাওনা আছে তার কাছে 

তুমি তাদিতে চাইলেও নেবো না এখন 

তোমার বাপের ঋণমুক্তির সনদ পাচ্ছো না 

অত সহজে তুমি সনদখানা পাচ্ছো না হে 

তবে তোমার বাবার ঋণমুক্তিকে তালিকায় রেখেছি 

আমাদের প্রতিজ্ঞার তালিকায় সযত্নে আছে 

ব্যস্ত হয়ো না 

বরংতুমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো 

আর এব্যাপারে আশাবাদী থাকতে পারো যে 

শেষপর্যন্ত কাউকেই ঋণগ্রস্ত রাখা হবে না 

খেলাপী খাতকের যোগ্য সন্তান তুমি 

নিজের যা অর্জন তাতে তোমার নিজেরই চলে না 

এখনো বাপের দানের উপর প্রতিষ্ঠিত 

তোমার ঐ ঝুলি থেকে তুলে দিলে 

নিতে আমাদের আত্মসম্মানে বাধে 

অস্থির হয়ো না ধৈর্য ধরো ধৈর্য ধরো 

যথাসময়ে উসুল করে নেওয়া হবে 

 

তোমার সম্ভাবনাময় সন্তানটি 

যাকে তুমি মাঝে মধ্যে বাবা বলে ডাকো 

আমরা শুনেছি-- আমরা কি ভুল শুনেছি, বলো

তোমার বাপের বিকল্পকে মেনে নিতে 

আমাদের আপত্তি নেই 

তোমার ঐ সন্তানের উপার্জন থেকে সমুদয় পাওনা 

যথাকালে প্রকাশ্যে কেটে নেওয়া হবে ধৈর্য ধরো 

জনগণ ব্যস্ত এখন নিজেদেরকে সমন্বিত করার কাজে 

আর পাওনাদার আমিও ঢুকেছি তাদের মাঝে 

ধৈর্য ধরো অস্থির হয়ো না ধৈর্য ধরো 

খেলাপীর সন্তান পরিচয়ে হীনমন্যতায় ভুগে ভুগে 

নিত্য অপদস্থ বাপের ঋণমুক্তির সনদ যেভাবে চাচ্ছো 

তোমার বাবা দায়মুক্তি পাবে সে তো আমরাও চাই 

অস্থির হয়ো না ধৈর্য ধরো জাগছে জনগণ 

তন্দ্রার ঘোর কাটতেও সময় যাবে আরো কিছুক্ষণ

********************

প্রজন্মকে ব্যর্থতা প্রদর্শন       

===================

আমরা যাপারিনি, তাছিল আমাদের ব্যর্থতা। 

বহু ব্যয় বহু ক্ষয় করে যে জ্ঞান অর্জন করেছি,-

কিভাবে কোন্‌ পথে গিয়ে প্রকাশ্যে ঠকেছি,-

আবারো ব্যর্থ হ’তে না-চাই যদি ধুকে ধুকে 

তবে যেন নিত্য প্রজন্মের চোখের সম্মুখে

খুলে মেলে  ধ’রে থাকি সেই অভিজ্ঞতা

প্রমাণিত ব্যর্থতার সত্য কাহিনীকে চেপে রাখলে 

         সফলতার সম্ভাবনাও চাপা প’ড়ে যায়,’- 

স্বাভাবিক বাস্তবতার সমীকরণেও সমসূত্রই চলমান, 

--স্মরণকাল থেকে আজ পর্যন্ত সমভাবেই চলমান 

 

আগামীটা সর্বকালেই গত’-অনুগতিক 

এই গতানুগতিক বাস্তবতায় ব্যতিক্রমও ঘটে, - 

  -তবে তাব্যতিক্রমেই সীমাবদ্ধ, -স্বকক্ষে আবর্তনশীল 

ব্যতিক্রম কখনোই চলমান বাস্তবতার সাথে সমতালে সচল নয়

সাধারণ অর্থেই প্রজন্মকে অসত্য গৌরবকেচ্ছা শোনানো 

আর প্রজন্মকে নরাধমের লেজুর বানানোর ঘৃণ্য প্রচেষ্টা 

       সমান অর্থই বহন করে 

অন্যের বানিয়ে দেওয়া পথ ধ’রে চলতে গেলে 

 স্বাভাবিকভাবেই মর্যাদাবান মানবসন্তাদের আত্মসম্মানে বাধে 

আগ্রহ সৃষ্টিতে অথবা পথপ্রদর্শন কালে নগণ্য সাফল্যের গল্প শোনানোর চে 

বরং পূর্বসতর্কতার সহায়ক সাবধানতা হিসেবেও বিচিত্র ব্যর্থতার বর্ণনাগুলো 

 দিয়ে দিয়ে গেলে পরে আগামী প্রজন্ম তাদের নিজ নিজ যোগ্যতায় 

    সঠিক পথ সহজেই খুঁজে পেতে পারে নিজেদের ইচ্ছেমতো, 

       তাদের পথকে তারা নিজেদের সাথে সঙ্গতি রেখেই 

          সাজিয়ে নিতে পারে দৈর্ঘে-প্রস্থে-উচ্চতায় 

প্রমাণিত ভুল পথগুলো আগেভাগে জানার মধ্যে রেখে চেষ্টা চালালে 

প্রজন্মের জন্যে সহজ হয় সঠিকতর পথগুলো খুঁজে খুঁজে পাওয়া 

অসত্য গৌরবকেচ্ছাকাহিনি শুনিয়ে শুনিয়ে কালক্ষয় না-করে, 

তাই তো ব্যর্থতার ইতিহাস মেলে ধ’রে দেখিয়ে দেখিয়ে যাওয়া

********************

সবই আছে কেবল সাজিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় ... 

===================

অভাব তো দেখি না কোথাও, --

 

যাআছেতাযথেষ্টেরচেঅনেক অনেক বেশি

 

তবে এলোমেলো বিক্ষিপ্তভাবে ছিটানো ছড়ানো

 

এমনকী ঘোলাচোখেও দেখা যায়

 

নিচে যেগুলো চাপা প’ড়ে প’ড়ে নষ্ট হচ্ছে নিত্য

 

বিনষ্ট হচ্ছে বিচ্ছিন্ন জনগণের অযত্নে অবহেলায়

 

সবই আছে কেবলি যথাযথভাবে সাজানোর অপেক্ষায় ..

 

গণকরণিক : আখতার২৩৯

ভোট: 
Average: 7 (1 vote)