পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগে

করণিক আখতার এর ছবি

*****

কোনো অপরাধের তুলনায় সেটার শাস্তিটাকে বিচারের রায়ে বড় হ’তে দিলে বিচারবিভাগটাই তার বৈধতা হারিয়ে অচল হ’য়ে যায়।

যেকোনো অপরাধে, বাস্তবতার অস্তিত্বের সাথে সঙ্গতি রেখেই, শাস্তির চেয়ে অপরাধের পরিমাণ বেশি রাখা আছে বাস্তব বিধানে।

( বাস্তব গণিতে,-

   ‘অপরাধের পরিমাণ’ বিয়োগ  ‘ক্ষমা’ সমান  ‘শাস্তির পরিমাণ’,

   অথবা, ‘অপরাধের পরিমাণ’ =  ‘শাস্তির পরিমাণ’ +  ‘ক্ষমা’,

   অথবা, ‘অপরাধের পরিমাণ’ - ‘শাস্তির পরিমাণ’ =  ‘ক্ষমা’ )

শাস্তি না-পাওয়া আপরাধটুকুই, যেকোনো বিচারের রায়ে, ‘ক্ষমা’-র তালিকায় গিয়ে ঢোকে।

শাস্তির ঘনত্ব কমলেও সভ্য সমাজে বিচার বিভাগ চলমান থাকতে পারে, -তবে কিনা- কোনো বিচারবিভাগে ক্ষমার বিধানটুকু না-রাখলে, মানবসমাজে ঐ বিচারবিভাগটাই টিকে থাকতে পারে না।

দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তির বিধানে, অপরাধের সম-পরিমাণে শাস্তির রায় প্রদানের বিধান আছে এবং যেকোনো অপরাধে শাস্তির পরিমাণটি ঐ অপরাধের মাত্রার চেয়ে কখনোই বেশি হ’তে পারে না, বরং কমই হ’তে বাধ্য। এমনকী, নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার ‘পক্ষপাতী’ হ’য়ে বিচারকের আসন থেকেও যেকোনো বিচারক শাস্তির পরিমাণ কমিয়ে রায় দিচ্ছে- দেখা যেতে পারে। বিচারকের ঐ স্ব-পক্ষপাতিত্বটুকু প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো পক্ষের কারো পক্ষে নয়, বরং নিজের আত্মপক্ষের অস্তিত্বের সমর্থনেই তার ঐ পক্ষপাত, তাই ঐ রায়টিকে পক্ষপাতদুষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত রূপে ধরা যায় না।

আমরা যেমন কোনো বিচারকর্মে ‘পক্ষপাতদুষ্ট বিচারবিভাগ’ থেকে কোনো নিরপেক্ষ রায় প্রত্যাশা করতে পারি না, তেমনি, তারও আগে এখানে কোনো ‘অ-নিরপেক্ষ বিচারকের’ বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ উত্থাপনকারীরাই পক্ষপাতদুষ্ট কি-না, - সেটাও বিবেচনায় রাখা উচিত মনে করি।

কোনো বিবেকবান ব্যক্তি তার কোনো অপরাধে শাস্তি পেলে, ঐ শাস্তিকে যথেষ্টের চেয়ে আনেক কম মনে করে। সে তার বোধন থেকে বুঝতে থাকে যে, ‘অযোগ্য বিচারক’ তাকে শাস্তি দিতে কার্পণ্য করেছে- তার প্রাপ্যের চেয়ে তাকে কম শাস্তি দিয়েছে।

বিবেকচালিত ব্যক্তির বোধন কখনোই কোনো ধরণের আবেগাক্রান্ত ব্যক্তির বোধনের সমান হ’তে পারে না।

কোনো আবেগাক্রান্ত ব্যক্তি তার কোনো অপরাধে নিজেকে দোষী ভাবতে পারে না। সাধারণের সামনে সে তো নিজের দোষ সহজে স্বীকার করতেই পারে না। নিজের অস্তিত্ব হারানোর মতো আতঙ্কে সে নিজের অপরাধের বোঝা অন্য কারো ওপর চাপানোর চেষ্টায় যুক্তির পর যুক্তি খাটাতেই থাকে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হ’লে পরে, বিচারের রায়ে যখন সে শাস্তি পায়, পরিমাণে তার অপরাধের তুলনায় কম হ’লেও ঐ শাস্তি তার কাছে অনেক বেশি মনে হয়।

আবেগাক্রান্ত কিম্বা বিবেকচালিত, প্রমাণিত অপরাধী কেউ কখনো বিচারে শাস্তি পেলে পরে, সে তার সেই বিচারবিভাগটির দক্ষতা আর নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করবেই। সম-বিধানের সাজাকেই কারো কাছে মনে হবে খুবই বেশি কারো কাছে মনে হবে খুবই কম, যদিও ঐ দণ্ড বা শাস্তি- কমও নয়, বেশিও নয়।   

 

গণকরণিক : আখতার২৩৯         রঙ্গপুর : ০১/০২/২০১৪খ্রি:

ভোট: 
No votes yet