বিজ্ঞান ও ছদ্মবিজ্ঞান

সুজিত দেব রায় এর ছবি

                       বিজ্ঞান ও ছদ্মবিজ্ঞান

 

বিজ্ঞানের যে জিনিসটা আমার খুব ভাল লাগে সেটা হচ্ছে বিজ্ঞান কখনও বলে না যে বইয়ে যা আছে তাই সত্যি, এর থেকে বেশি জানার কিছু নেই । তোমরা তাই অনুসরন কর । বিজ্ঞান বলে আমি আবিষ্কার করে যাচ্ছি সত্য, করতে থাকব ।

 

হাজারও বছরের পুরনো বিজ্ঞান মিথ্যাকে মিথ্যা প্রমাণিত করার মাধ্যমে আমাদের পথ দেখাচ্ছে । কোপারনিকাসের পর জ্যোতির্বিজ্ঞান এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে । মহাবিশ্ব হয়ে গেছে বিশাল । কিন্তু এখনও আমরা অনেকেই রয়ে গেছি অন্ধকার যুগে । কিছু কিছু জিনিস আমাদের ভ্রান্ত করছে ।

যেমন, জ্যোতিষ শাস্ত্র । অনেক আগে  [ ৩০০০বছর/ আরও আগে]  এর সৃষ্টি ব্যাবিলনে । তখন পাখিদের উড়ে যাওয়া, গ্রহ নক্ষত্র দেখে, জবাই করা পশুর অন্ত্রের ভাজ দেখে ভাগ্য নির্ণয় করা হত রোমে । রাজাদের কাছেও তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে । রাজ জ্যোতিষী নিয়োগ হয় । ভুল গণনার জন্য শাস্তি মিত্যু দণ্ড । 

প্রাচীন মিশরের জ্যোতির্বিদেরা লুব্ধকে দেখে বলে দিতে পারতেন যে নীল নদে প্লাবন হবে । কিন্তু প্লাবন হয় মূলত পৃথিবীর ওই সময় বিশেষ অবস্থানে থাকার ফলে ।

 

লাতিন একটা প্রবাদ আছে, “পোস্ট হক, এরগু প্রুপটের হক”। অর্থাৎ, “যেহেতু পরে হয়েছে, সেহেতু এর কারণে”।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের শুরুর দিকে ১৬০০ অব্দে শুক্রের গতিবিধি একটি পুথিতে লিপিবদ্ধ হয়েছিল । এটা বিজ্ঞান । আর ওই শুক্রের গতিবিধির সাথে তখনকার ঐতিহাসিক ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে ভবিষ্যতে যখন শুক্র এমন গতিবিধি অনুসরন করবে তখন এই ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটবে । এটাই ছদ্মবিজ্ঞান

 

জ্যোতিষীরা ভাগ্য গণনার জন্য ১২ টি রাশির মাধ্যমে সূর্যের যাত্রাপথ ব্যাখ্যা করেন । যেটা যুক্তিসংগত নয় ।

পাশ্চাত্যে শুক্রকে বলা হয় প্রেমের দেবী । যার জন্য মনে প্রেমের উদয় হয় । কিন্তু ভারতীয় পুরাণে শুক্রকে অসুরদের গুরু বলা হয়েছে, যার জন্য প্রেমের উদয় হওয়ার প্রশ্নই আসে না ।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের ব্যাখ্যা খুব কম সময়ই ফলে । যেমন ১১৮৬/১৫২৪/১৯৮২ এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী প্রলয় কোথাও হয় নি ।   

 

আমরা যেহেতু আধুনিক মানুষ সবকিছু যুক্তি দিয়ে চিন্তা করি, তাই আমরা ভ্রান্ত কিছুতেই বিশ্বাস রাখব না । এখন জ্যোতিষ শাস্ত্রকে আধুনিক যন্ত্রপাতির আশ্রয়ে প্রকাশ করা হয় বলে অনেকেই একে বিজ্ঞান মনে করে ।

কিন্তু এ বিজ্ঞান নয়, এ ছদ্মবিজ্ঞান ।

 

     {কিছু তথ্যের জন্য হুমায়ূন আজাদ স্যারের ‘মহাবিশ্ব’ বইটির আশ্রয় নেয়া হয়েছে ।}

ভোট: 
Average: 9 (2 votes)