মদন এর ব্রাজিল এর জার্সি

সুজিত দেব রায় এর ছবি

মদন এর ব্রাজিল এর জার্সি

সুজিত দেব রায়

 

মদন বাজারে এসেছে একখানা টি শার্ট কিনবে বলে । বেশ কিছুদিন ধরে কিনবে কিনবে করছে, কিন্তু কেনা হচ্ছে না । সময় করতে পারছে না, কারন বাজার তার ঘর হতে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে । সে গ্রামের প্রায় শেষ প্রান্তে একটা ঘরে একা থাকে । সেখানে কারেন্ট এর লাইন ও পৌঁছে নি । যাক সে কথা । আসল কথায় আসি ।

মদন বাজারে এসেছে । কিন্তু সে ঠিক বোঝতে পারছে না, কোন গেঞ্জি কিনবে । একে তো রঙ পছন্দ হচ্ছে না । আবার রঙ মিলে গেলেও সাইজ এ হচ্ছে না । শেষে একটা হলুদ রঙের গেঞ্জি সে কিনল । দোকানের আয়নায় নিজেকে বার কয়েক দেখল । খারাপ দেখাচ্ছে না তাকে । তাই গেঞ্জি পরেই বাসার দিকে রওয়ানা হল ।

কিন্তু আজকে তার একটু একটু আশ্চর্য লাগছে । কারণ তার সাথে সাধারণত কেউ কথা না বললেও আজ সবাই তার দিকে জানি কেমন কেমন করে তাকাচ্ছে । বাজার সে কৌতূহল নিয়ে ক্রস করল । বাজার ক্রস করে মূল লম্বা রাস্তায় আসলো । পাকা রাস্তা । লম্বা । বৃষ্টিতে রাস্তা ভিজে আছে ।

 

মিনিট পাঁচ এক হাটার পর সে দেখতে পেল কয়েকটা পুরনো বন্ধুকে । তারা রাস্তার পাশেই বসা ছিল, তাকে দেখে উথে আসলো । একজন বলল, “কিরে মদনা ? ব্রাজিল, না?”

মদন কিছু বোঝতে পারল না । আরেকজন বলল, “শালা আমারা সবাই আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি, আর তুই শালা ব্রাজিল । ধুর শালা মদনা”।

মদন একবার বলার চেষ্টা করল যে সে খেলা দেখে না । আর তাই কোন দল ই সাপোর্ট করে না । কিন্তু তারা ততক্ষণে তার মাথায়, পিঠে চর থাপ্পড় দিয়ে বাজারের দিকে রওয়ানা হল ।

 

তারপর আবার মিনিট পাঁচ এক যাবার পর আবার কিছু লোক তাকে থামাল । তাদের সবার চখে কাল চশমা । এই বৃষ্টির দিনে এর রহস্য তারা বোঝতে পারল না । তাদের মধ্যে যাকে দলনেতা মনে হচ্ছে তিনি বললেন, “হুম ব্রাজিল । ভাল । আমাদের নেত্রি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রাজিল সাপোর্ট করেন । ভাল । তোমার নাম কি”?

“মদন”।

“ভাল মদন ভাল । আমাদের সরকার যেমন ক্রিকেট বিশ্বকাপ এর আয়োজন করেছে ফুটবল এর ও করবে ইনশাল্লাহ । কারন আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি”।

 

তাদের হাত থেকে রেহাই পেয়ে সে কিছুদূর এগুতেই দেখা পেল এলাকার মেম্বার এর । উনি বি.এন.পি করেন । মদনের মাথায় বাজ পরল । নির্ঘাত এখন তাকে গালি শুনতে হবে । কিন্তু যখন মেম্বার তার সামনে আসলো । উনি হাসিমুখে বললেন, “কিরে মদনা ? ব্রাজিল?”

মদন আমতা আমতা করে বলল, “না, মানে...”।

‘না মানে কিরে ? ব্রাজিল ই তো সেরা । আমাদের নেত্রি বেগম খালেদা জিয়া যে এদের ই ফ্যান”।

মদনের মুখে হাসি ফুটে উঠল । সে মেম্বার কে সালাম দিয়ে বিদায় নিল ।

 

প্রায় ১০ মিনিটের মত চলে গেল কেউ ই আর তার রাস্তায় আসলো না ।

শান্তির নিঃশ্বাস নিবে ঠিক এমন সময় ফোন আসলো ঝিলিকের । ঝিলিক তার গার্ল ফ্রেন্ড এর নাম । যদিও তার আসল নাম ছিল কেয়া । তবুও বর্তমানে সে নাম রেখেছে ঝিলিক । ফেসবুক এ জিলিক ই । কেউ অন্য নামে ডাকলে ভীষণ রাগ করে । ঝিলিক এর ফোন রিসিভ করে মদন বলল, “হ্যালো ডার্লিং”।

অমনি ওপাশ থেকে, “ডার্লিং এর গুষ্টি কিলাই । তুমি জানও না আমি আর্জেন্টিনা । আর তুমি নাকি ব্রাজিলের জার্সি কিনছ ! আবুল আমারে এই মাত্র হুয়াটস আপ এ জানাইসে”।

মদন বলতে চাচ্ছিল কিছু তখন ই ঝিলিক বলে উঠল, “দেখ মদন, আমার বাসা ক্রস করেই তোমার বাসায় তোমার বাসায় যেতে হয় । যদি তোমার গায়ে ব্রাজিলের জার্সি দেখেছি, তবে খবর আছে । আমাদের রিলেশন শেষ”।

 

মদন বিরাত ঝামেলায় পরেছে । কারণ তার গেঞ্জিটা ভুলে দোকানে ফেলে এসেছে । সে চিন্তা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ই আবার কিছু লোকের দেখা পেল । আশ্চর্যের বিষয় এদের সবাই হলুদ পাঞ্জাবি পরে । মদন এদের চিনে । এরা গাছ তলায় বসে গাঞ্জা টানে । তারা মদনের কাছে এসেই বলল, “মদন দাঁ । ভাল । আপনিও আমাদের দলে আসছেন । আসেন । হিমুরাই সর্বশ্রেষ্ঠ । আমাদের মত আপনিও হলুদ পোশাক পরা শুরু করেছেন । ভাল আমারা সবাই হিমু । হিমু”।

 

মদন প্রায় চুপ থেকেই ও দের কে অতিক্রম করল । তার মাথা প্রচণ্ড ব্যথা করছে । কি করবে বোঝতে পারছে না । গ্রামের রাস্তায় ঢুকে পরেছে । কিছু একটা করতে হবে । ঠিক এমন সময় একটা ছেলে এসে তাকে বলল, “ভাই ৫ টা টাকা দেন না”।

মদন একে চেনে । এলাকায় ই থাকে । তার মা রাস্তায় ঘুমায় । সে ও মা এর সাথেই থাকে । ছেলেটার বয়স ১০ এর মত হবে । কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাকে কোন দিন পোশাক গায়ে তাকে এলাকায় দেখা যায় নি । শরীরের হাড় প্রায় সবকটি ই গুনা যায় । মদন বলল, “আমার কাছে তো ভাংতি নাই রে । আমার গেঞ্জি টা দিলে পড়বি”?

ছেলেটা বলল, ‘হয় । পরমু”।

মদন গেঞ্জিটা ছেলেটা কে খুলে দিল । সে গেঞ্জি গায়ে দিয়ে “মা” “মা” বলে চিৎকার করতে করতে গ্রামের ভিতরের দিকে দৌড়াতে লাগলো । মদন তারপর খালি গায়ে ই তার প্রেমিকার বাসার উঠুন পেরিয়ে গ্রামের প্রায় সিমানায়,পুকুরের সামনে গেল ।

এবং কোন কিছু বোঝে উঠার আগেই পুকুরে ঝাপ দিল ।

 

এইমাত্র লিখা গল্প । যদি ভাল লাগে, আশা করি শেয়ার করবেন ।

ধন্যবাদ...............%

ভোট: 
Average: 10 (2 votes)