কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ঔপনিবেশিক কায়দায় কর আদায় করতে চায় সরকার

সরকার ঔপনিবেশিক কায়দায় কর আদায় করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির। তিনি বলেন, আগে যেমন ট্যাক্স না দিলে পাইক পেয়াদা দিয়ে বাড়িঘর ভেঙে ট্যাক্স আদায় করা হতো, নতুন আয়কর আইনে ট্যাক্স কালেক্টর নিয়োগের মাধ্যমে তাদের সেই ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আধুনিক যুগেও আমাদের উপনিবেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৩-২৪: ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

গোলটেবিল আলোচনায় কর ব্যবস্থাপনা ছাড়াও বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে সমালোচনা করেন বক্তারা। অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও বাজেটে তা পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বাজেটে বিদুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

নিহাদ কবির বলেন, নতুন আয়কর আইনে ট্যাক্স কালেকটর নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। কালেক্টর একটি ঔপনিবেশিক শব্দ। তারা কি আমাদের বাড়িঘর ভেঙে কর আদায় করবেন? তিনি বলেন, কর আহরণ বাড়ানোর জন্য রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি নিয়ে আসা হোক, ঢেলে সাজানো হোক, তাহলে কর জিডিপি বাড়বে।

‘আয়কর আইন ২০২৩’-এর খসড়ায় বলা হয়েছে, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের আয়-সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু তল্লাশি করতে কর কর্মকর্তারা যে কোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন, বিমানে প্রবেশ করতে পারবেন। দরজা, বাক্স, লকার, সেলফ, আলমারি বা অন্য যে কোনো কিছুতে তালা দেওয়া থাকলে তা ভাঙতে পারবেন। আয়-সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতুর গহনা বা অন্য মূল্যবান সামগ্রী তল্লাশি করে পাওয়া গেলে জব্দ করতে পারবেন।

টিআইএনের জন্য ন্যূনতম ২ হাজার এবং বিদেশে যেতে আয়কর অফিসে বাধ্যতামূলক সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রিটার্ন জমা দিলেই করযোগ্য আয় না থাকলেও ২ হাজার টাকা দিতে হবে। এটা ঠিক না। বিদেশ যাওয়ার জন্য কর অফিসে সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে কোন যৌক্তিতে? একজন ব্যবসায়ী বছরে ১০ থেকে ১২ বারও বিদেশে যান। তাহলে কি তার প্রতি মাসেই সম্পদ বিবরণী জমা দিতে হবে। এতে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়াবে। এনবিআরের কিছু কর্মকর্তার জন্য অসৎ পথ অবলম্বনের ক্ষেত্র তৈরি করবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য বেশি প্রয়োজন মাইক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি। সেটাকে যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা সেটা পারছি না। মূল্যস্ফীতি এখন ঊর্ধ্বগতিতে। আমাদের যে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, সেটা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। মূল্যস্ফীতি বৈদেশিক কারণে বেশি হচ্ছে নাকি অভ্যন্তরীণ কারণে বেশি হচ্ছে, সেটা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার আগামী বাজেটে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সেটা এই খাত বহন করতে পারবে না। এই টাকাটা কোথা থেকে আসবে। আমার যেটা ধারণা, এজন্য সরকারকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যেতে হবে, টাকা ছাপাতে হবে। এতে আমাদের মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে, দেশে যে একটা সংকট চলছে অর্থমন্ত্রী সেটাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। বরং সংকট স্বীকার করে নিলে সরকারের জন্য ভালো হতো। সে অনুযায়ী বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাগুলো আরও যৌক্তিকভাবে চিন্তা করা যেত। না করার ফলে যেটা হচ্ছে, আমাদের সবার মধ্যে এরকম একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছে এই সংকট চলে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের সবার বিশেষ করে সরকারের সহসা সংকট কেটে যাবে, এই জায়গা থেকে সরে আসা দরকার। সংকট থেকে উত্তরণ দরকার। সেজন্য সহজ পথ না খুঁজে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কর আইন যাতে যুগোপযোগী হয়, সেজন্য আমরা আমাদের ১৭টি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মিটিং করেছি। কিন্তু ইতোমধ্যে এই আইন সংসদে চলে গেছে। তাহলে আমাদের সঙ্গে এতদিন বৈঠক করে লাভ কি হলো। যেখানে এনবিআরকে ঘরের দরজা ভাঙার, জানালা ভাঙার অনুমতি দিয়েছে। সর্বোপরি আমি মনে করি, এবারের বাজেটে বরাদ্দ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির ওপর বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাজেটের অনেক ভালো দিক আছে। সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। করপোরেট কর বাড়ানো হয়নি, এটাও বাজেটের একটা ভালো দিক। যদিও আমি মনে করি, এটি আরেকটু বাড়ানো যেত। আরেকটি ভালো দিক হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। এটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজেরও একটা কমিটমেন্ট আছে। দারিদ্র্যের মূল জায়গা এখনো গ্রাম, যদিও শহরে দারিদ্র্য বেড়েছে ইদানীং, আবার কমছেও।

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ, বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম মান্নান কচি ও বেসিসের সাবেক সভাপতি আলমাস হোসেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২১ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

ইতিহাসের এই দিনে যত ঘটনা

গ্রিজমানদের খালি হাতেই ফেরত পাঠাল ইন্টার মিলান  

একটি হুইল চেয়ারের আকুতি প্রতিবন্ধী সিয়ামের

ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে চবিতে ফুলের দাম বেড়েছে ৩ গুণ

সীমান্তে শেষবারের মতো বোনের লাশ দেখলো স্বজনেরা

‘উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই’-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

‘ডাল ভাত খেয়েও যুদ্ধ করতে পারি’

ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

কোম্পানি রিটার্নের মেয়াদ ২ মাস বাড়ানোর দাবি এফবিসিসিআইর

১০

ন্যায্যতা সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস / উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান 

১১

এমপিদের থোক বরাদ্দের আগে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি টিআইবির

১২

চাকরি গেল জাবির আলোচিত সেই শিক্ষকের

১৩

পঞ্চগড়ে বন্যহাতির আক্রমণে যুবক নিহত

১৪

অনলাইনে ভিডিও দেখে গামছা বিক্রেতার ছেলের মেডিকেলে চান্স

১৫

বাড়ছে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম

১৬

‘দুই-তিনটা লাশ ফেলে দেব’- ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

১৭

বোরকা পরে বোনের পরীক্ষা দিতে এসে আটক ভাই

১৮

ভক্তদের বিরাট-আনুশকার সুখবর

১৯

নতুন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় রমরমা ‘ব্যাকডেট’ নিয়োগ বাণিজ্য

২০
X