

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম না পাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলায় ১০টি হিমাগার রয়েছে। চলতি মৌসুমে কৃষক এসব হিমাগারে ৭৩ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন আলু মজুত রেখেছেন। তবে গত জুন থেকে সাড়ে চার মাসে বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন আলু। এখনো ৫৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আলু হিমাগারে পড়ে আছে।
ভাদ্র মাস শেষের পথে। মাত্র দেড় মাস পর কার্তিক মাসে শুরু হবে আগাম আলু রোপণ। কিন্তু পুরোনো আলু হিমাগারে জমে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, এভাবে যদি আলু বিক্রি না হয়, তবে নতুন মৌসুমের আলু চাষ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
বর্তমানে হিমাগার থেকে প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়, অর্থাৎ কেজিপ্রতি মাত্র ১২ টাকায়। অথচ এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়েছে ২২ টাকা। ফলে কেজিপ্রতি ১০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে, উত্তরবঙ্গে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে আমন ধান কাটার পর আগাম আলু রোপণ শুরু হবে। ফলে নতুন আলু বাজারে আসা শুরু করলেই পুরোনো আলুর দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সিরাজদীখানে ৮ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২২৫ হেক্টর বেশি। এ বছর উপজেলায় আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন—লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন বেশি। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। তুলনামূলক এ বছর ৮ হাজার ৫৮২ মেট্রিক টন আলু বেশি হয়েছে।
উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামের আলু চাষি নূর ইসলাম বলেন, আমি প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। আলু উত্তোলনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিক্রি করে আমার লোকসান প্রায় ১০ লাখ টাকা। হিমাগারে এখনো আলু মজুত আছে। যে আলু কেজিতে খরচ পড়েছে ২২ টাকা, সেটা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়। লোকসানের কোনো অন্ত নেই।
খাসকান্দি গ্রামের কৃষক শুক্কুর আলী বলেন, আমি ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। কিন্তু এখনো চালানের অর্ধেক মূল্যও তুলতে পারিনি। এ অবস্থায় কৃষকরা জানাচ্ছেন, লোকসান এভাবে চলতে থাকলে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কৃষক আলুর দাম পাচ্ছে না, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, এ উপজেলায় গতবারের চেয়ে এ বছর আলুর উৎপাদন বেশি হয়েছে। কিছু পাইকার ও ব্যবসায়ীরা উত্তরবঙ্গের আলু কিনে এনে এ উপজেলার ১০টি হিমাগারে মজুত করেছে। আর এ কারণে স্থানীয় কৃষক পড়েছেন বিপাকে।
সব মিলিয়ে হিমাগার ভরা আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন সিরাজদীখানের কৃষকরা। তারা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও বাজার সংকট কাটাতে না পারলে আলু চাষ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।