

বৈশ্বিক মন্দা ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় তৈরি পোশাক খাত চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও মার্চ মাসের অগ্রিম মজুরি পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই আবেদন জানানো হয়। বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খানের সই করা চিঠিতে অন্তত ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মন্দা ও শুল্কযুদ্ধের কারণে রপ্তানি আয়ে ধস নেমেছে। এর ফলে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার পরিমাণও কমানো হয়েছে। তৈরি পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে ৬০ দিনের মধ্যে ২৫ দিন কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ ছাড়া অর্ডার পিছিয়ে যাওয়া এবং ডেফার্ড শিপমেন্টের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কারখানাগুলোর তারল্য সংকট চরমে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চায় সংগঠনটি।
চিঠিতে ইনামুল হক খান উল্লেখ করেছেন, ‘ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে এই কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং রপ্তানি কার্যক্রমের মন্থরতায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ক্রমেই কমে আসছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে, যা আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে বিপদে পড়েছে। এর কারণ হচ্ছে রপ্তানির ধীরগতি, ডেফার্ড শিপমেন্ট এবং অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। বিশেষত, কারখানাগুলো শ্রমিকদের বেতন, ইউটিলিটি বিল, পরিবহন খরচ এবং ব্যাংক সুদের পরিশোধে চরম চাপের মধ্যে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে চেয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়া হলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পারবে এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে।
সংগঠনটির দাবি, রপ্তানি আয় হ্রাসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তাই জরুরি ভিত্তিতে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ।