কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩, ০২:৩০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
অবস্থান কর্মসূচি

আগুন ও ভাঙচুরে ১৪ মামলা, আসামি ৫৭৬

রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে গত শনিবার বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশের ওপর হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলাগুলোতে ৫৭৬ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ তালিকায় ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। আছে বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী ও যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নামও। প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাত আসামির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, দায়ের মামলাগুলোর মধ্যে ১৪৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গতকাল রোববার ১১১ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে নেওয়া হয় ২৮ জনকে। দায়ের মামলাগুলোর মধ্যে ৯টির বাদী পুলিশ এবং দুটির বাদী সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তরা।

পুলিশ জানায়, বংশাল থানার মামলায় ২৫, সূত্রাপুরে ২৪, যাত্রাবাড়ী থানায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় ১০৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া দারুস সালামে ৫২, ডেমরায় ১০৭, উত্তরা পূর্ব থানার দুই মামলার একটিতে ৩৫ এবং অন্যটিতে ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরা পূর্ব থানায় তিনটি এবং বিমানবন্দর ও কদমতলী থানায় একটি করে মামলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন জানান, মামলাগুলোর এজাহারে আসামি হিসেবে ৪৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত ১৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত শনিবার বিএনপি যে কর্মসূচি পালন করেছে, তার কোনো অনুমতি ছিল না। বেআইনি সমাবেশ করে তারা বাসে আগুন দেয়, পুলিশের এপিসি, পুলিশের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন ভাঙচুর করে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এমনকি পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলাও চালিয়েছে।

বিভিন্ন থানার ওসি ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই ঘটনায় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বাসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বিস্ফোরকের ঘটনায় ১১ মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপির ১৩৯ নেতাকর্মীকে আদালতে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে ১১১ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ২৮ আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল রোববার শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে সূত্রাপুর থানার মামলায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদসহ পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আজাদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বাকি চার আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উত্তরা পশ্চিম থানার তিন মামলায় ৩৩, দারুস সালাম থানার এক মামলায় ৫২, কদমতলী থানার এক মামলায় দুই, শ্যামপুর এক থানার মামলায় দুই ও বংশাল থানার এক মামলায় পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। যাত্রাবাড়ী থানার দুই মামলায় ১৬ জনের একদিনের রিমান্ড ও দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরা পূর্ব থানায় দুই মামলায় ২২ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আটজনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ১৪ আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রণক্ষেত্র ঢাকার প্রবেশপথ: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও গত শনিবার ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের একদফা দাবির অংশ হিসেবে বিএনপির এই কর্মসূচি ছিল। তবে অনুমতি না থাকায় জনসমাগম ও কর্মসূচি পরিচালনার কারণে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ঢাকার মাতুয়াইল, গাবতলী, ধোলাইখাল, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বিএনপিকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে। বিএনপি নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় বেশ কয়েকটি এলাকায় বাসে আগুন দেয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এই সংঘর্ষে শনিবার সকাল থেকে দিনভর ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাসহ অসংখ্য আহত, লাঞ্ছিত হন।

মাতুয়াইলে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ: রাজধানীর মাতুয়াইলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ঢাকার প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান নেওয়ার কথা থাকলেও শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মাতুয়াইলে অবস্থান নেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এরপর দুপুর ১টার দিকে এবং দেড়টার পর আরও দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা বাসের আগুন নেভান। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, শনিবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে মাতুয়াইলে একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের খবর পাই। এরপর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। এরপর আরও দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর সেগুলোর আগুনও নেভান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার এসএম মেহেদী হাসান জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান নিলে তাদের শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলা হয়। যেহেতু অনুমতি ছিল না, তাই জনস্বার্থে তাদের সেই কর্মসূচি না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়; কিন্তু তারা রাস্তা বন্ধ করে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। এরপর পুলিশ সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং ইটপাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় তিনিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ধোলাইখালে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ: ধোলাইখালে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা হয়। অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে সকাল ১১টা থেকে ধোলাইখালে বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী লাঠিতে জাতীয় পতাকা বেঁধে জড়ো হন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়েন। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে পুলিশকে ধাওয়া দেন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়া হয় বিএনপির মিছিল থেকে। এ সময় পুলিশও সশস্ত্র অবস্থান নেয়। সংঘর্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা আহত হন। সংঘর্ষের সময় এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধোলাইখাল থেকে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করেন। এরপর দুপুর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ডিএমপির লালবাগ জোনের উপকমিশনার জাফর হোসেন জানান, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

উত্তরায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ: রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুরমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে। জবাবে ইটপাটকেল ছোড়েন অবস্থানকারীরাও। এ সময় উত্তরায় বিএনএস সেন্টার এলাকা থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, বিএনপি অবস্থান কর্মসূচি পালন করার জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি। তাই তাদের অবস্থান করতে না দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গাবতলীতে সংঘর্ষ: গাবতলীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়কের একপাশে অবস্থান নেন। কাছাকাছি দূরত্বে হানিফ বালুর মাঠের কাছে অস্থায়ী মঞ্চ করে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এক সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক সময় পুলিশ আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে; কিন্তু সরে না গিয়ে মাজার রোডে আমান উল্লাহ আমান শুয়ে পড়েন। সেখান থেকে আমান উল্লাহকে একটি পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। আমানের আটকের সংবাদে দুপুর ১২টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মীর একটি দল বেড়িবাঁধের দিক থেকে মিছিল নিয়ে এলে যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।

পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও বাসে আগুন: রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ কয়েকজন এসে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া ওয়েলকাম পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর করা হয়।

এদিকে বিএনপির ডাকা অবস্থান কর্মসূচির নামে পরিকল্পিতভাবে রাজধানীতে চলাচল করা বিভিন্ন পরিবহনের সাতটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সম্পূর্ণ ধ্বংসসহ ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। রোববার মালিক-শ্রমিক নেতাদের এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়। সেইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতারা।

কর্মসূচি না দিয়েও মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ: কোনো কর্মসূচি না থাকলেও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা শনিবার রাজপথে অবস্থান করছিল। সকাল থেকেই গাবতলীসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ চার প্রবেশপথে দেখা যায় তাদের। সড়কে অবস্থানের পাশাপাশি রাজধানীর আমিনবাজার, গাবতলী, উত্তরা এবং ধোলাইখালে মিছিল করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ বলেন, ডিএমপির বিধিনিষেধের কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার বদলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দলীয় কার্যালয়গুলোতে শান্তিপূর্ণ সতর্ক অবস্থানে ছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি যেন নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীরা মাঠে ছিলেন।

বিএনপির ৫০০ নেতাকর্মী আহত, গ্রেপ্তার ১২৪ জন: গত শনিবার ঢাকার প্রবেশপথে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও ক্ষমতাসীনদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলা-গুলিতে সেদিন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আহত এবং ১২৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ দলটির। শনিবার নয়াবাজারের ধোলাইখালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের আক্রমণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম আজাদ (গ্রেপ্তার), আবু আশফাক, কৃষকদলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, যুবদলের নূরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ আহত হন। গাবতলীতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা সাজিদ হাসান বাবু প্রমুখ। সেখান থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান ইয়াহিয়া, মানিকগঞ্জের শরিফুল ইসলাম চান, মহসিন উজ্জামান, আবু বক্কর রুবেলসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গত শুক্রবার ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে মানুষের বাঁধভাঙা ঢলে শেখ হাসিনার হিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শনিবার ঢাকার প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচিকে তারা রক্তের হোলি খেলায় পরিণত করেছে। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সরকারদলীয় সশস্ত্র ক্যাডাররা। ব্যাপক গুলিবর্ষণ, অজস্র কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও বেপরোয়া লাঠিচার্জে অগণিত নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করা হয়। পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের যৌথ অ্যাকশনে শেখ হাসিনার ব্যাপক জুলুম নিপীড়নের আরেকটি নৃশংস অধ্যায় রচিত হলো। রিজভী বলেন, শনিবার অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে আহত হয়েছেন ৫০০ জন এবং ১২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাভারে খঞ্জনকাঠি খাল উদ্ধার করল উপজেলা প্রশাসন

শোক ও গৌরবের একুশে আজ

২১ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

ইতিহাসের এই দিনে যত ঘটনা

গ্রিজমানদের খালি হাতেই ফেরত পাঠাল ইন্টার মিলান  

একটি হুইল চেয়ারের আকুতি প্রতিবন্ধী সিয়ামের

ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে চবিতে ফুলের দাম বেড়েছে ৩ গুণ

সীমান্তে শেষবারের মতো সরুকজানের লাশ দেখল স্বজনরা

‘উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই’- প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

‘ডাল ভাত খেয়েও যুদ্ধ করতে পারি’

১০

ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

১১

কোম্পানি রিটার্নের মেয়াদ ২ মাস বাড়ানোর দাবি এফবিসিসিআইর

১২

ন্যায্যতা সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস / উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান 

১৩

এমপিদের থোক বরাদ্দের আগে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি টিআইবির

১৪

চাকরি গেল জাবির আলোচিত সেই শিক্ষকের

১৫

পঞ্চগড়ে বন্যহাতির আক্রমণে যুবক নিহত

১৬

অনলাইনে ভিডিও দেখে গামছা বিক্রেতার ছেলের মেডিকেলে চান্স

১৭

বাড়ছে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম

১৮

‘দুই-তিনটা লাশ ফেলে দেব’- ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

১৯

বোরকা পরে বোনের পরীক্ষা দিতে এসে আটক ভাই

২০
X