বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরবন বাঁচাতে বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই

সুন্দরবন বাঁচাতে বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন এ দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছে। জলবায়ু পরিবর্তনগত কারণে আঘাত হানা ঝড়-ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিক্ষয় রোধসহ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করে আসছে। এই সুন্দরবনের এক অনন্য প্রজাতির প্রাণী হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। যে প্রাণী এটিকে টিকিয়ে রেখেছে। আজ বিশ্ব বাঘ দিবস। ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৯ জুলাই দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। ‘বাঘ করি সংরক্ষণ, সমৃদ্ধ হবে সুন্দরবন’এ প্রতিপাদ্যে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশের সরকারি এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা নানা বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে বাঘ দিবস পালন করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাটে দিবসটি ঘিরে নানা আয়োজন লক্ষ করা যায়। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করতে এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে এর সম্পর্কে থাকা ভুল ধারণা ও ভয় দূর করতেই দিবসটি পালন করা হয়।

সাধারণ মানুষের মতো বাঘেরও প্রধান দুটি মৌলিক চাহিদা হলো খাদ্য ও বাসস্থান। বিশেষ করে খাদ্যের জোগান এবং আবাসস্থল নিরাপদ করতে পারলে বাঘ বাঁচিয়ে রাখা কিংবা তাদের প্রজনন বৃদ্ধি করতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এ জন্য সুন্দরবনকে বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণের জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে বাঘসহ অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। পৃথিবীর মাত্র ১৩টি দেশে এখন বাঘের অস্তিত্ব আছে। বাঘ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের এসব দেশের সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশেও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বাঘ সংরক্ষণে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ধীরে ধীরে সেগুলো বাস্তবায়ন করছে। সুন্দরবনে বাঘ রক্ষার জন্য আবাসস্থলের উন্নয়ন ও নিয়মিত টহল প্রদান করে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উভয় সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ, শিকারি প্রাণী পাচার বন্ধ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মনিটরিং ইত্যাদির জন্য ২০১১ সালে একটি সমঝোতা স্মারক এবং একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। যেটি বাস্তবায়নে সরকার আগের তুলনায় আরও সচেষ্ট হয়ে উঠেছে।

সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষায় অন্য প্রজাতির প্রাণী থেকে বাঘ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সুন্দরবনে চোরাশিকার বাঘের প্রধান হুমকি। কিছু অতিলোভী চোরাশিকারি ও বনদস্যুদের জন্য দিন দিন বাঘের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ১১৪টি। তবে সাম্প্রতিককালে বড় বড় বনদস্যু দলের আত্মসমর্পণের ফলে বাঘ নিধন কিছুটা কমে এসেছে। দুই বছর আগেও খাদ্য সংকটে বাঘ লোকালয়ে এলে হত্যা করা হতো। এখন সেটিও অনেকটা বন্ধ হয়েছে। বন সংরক্ষণে বন মন্ত্রণালয়ের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় মানুষ আগের থেকে অনেক সচেতন হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেও দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে লোকালয়ে আসা একটি বাঘকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা আমাদের প্রাণ-প্রকৃতির জন্য একটি স্বস্তির খবর। এ জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর জীবিকায় সরকারকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের জীবন-জীবিকার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়ে আরও বেশি কাজ করতে হবে। তাই বলা যায়, সুন্দরবনকে বাঁচাতে এবং বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই। আর এ জন্য বন বিভাগ কিংবা সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে সুন্দরবন বা বাঘ কোনোটাই রক্ষা করা সম্ভব হবে না; যদি আমরা আমাদের নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন না হই। পাশাপাশি বাঘ নিধন ও হরিণ শিকার বন্ধের জন্য ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যে আইনের ৩৬ ধারায় বাঘ শিকারি বা হত্যাকারী জামিন-অযোগ্য হবেন এবং সর্বোচ্চ সাত বছর ও সর্বনিম্ন দুই বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ আইনটিও অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে সুন্দরবন বাঁচানোর পাশাপাশি বাঘ, হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

রিয়াদ হোসেন, শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সূচকে পেছাল বাংলাদেশ

সিলেট বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ মন্ত্রীর

বায়তুল মোকাররম এলাকায় মিটিং নিষিদ্ধের পাঁয়তারা সুখকর হবে না : চরমোনাই পীর

৬০ লাখ কর্মীকে বিদেশ পাঠাতে চায় সরকার

অফশোর গ্যাস উত্তোলনে বিদেশি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

বাকস্বাধীনতা না থাকলে ভাষা থেকেও লাভ হয় না : আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী

‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ১২ বিলিয়ন ডলার’

৪৫ এর কম এবং ৬৫ এর বেশি বয়সে ব্যাংকের এমডি পদ নয়

শাবিতে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত

বইমেলায় রাশিদুল হাসান বাচ্চুর ‘ওয়াকিং অন দি পাথ অব পোয়েট্রি’

১০

শেষ সময়ে বইমেলার নিরাপত্তায় ঢিলেঢালা

১১

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল চান সাইফুল হক 

১২

জাবির দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলের দাবি

১৩

শিশু চুরির মামলায় দুই নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১৪

বিআরটিসি যেন আর পিছিয়ে না যায় : তাজুল ইসলাম

১৫

ঢাবির নাটমণ্ডলে মঞ্চায়িত হচ্ছে থিয়েটার বিভাগের নাটক ‘সিদ্ধান্ত’

১৬

টিআইবির ফেলোশিপ পেলেন সাংবাদিক সজিবুর রহমান

১৭

রংপুরে এরিক ও বিদিশার ওপর হামলার অভিযোগ

১৮

বইমেলার সময় বাড়ল

১৯

রিহ্যাব নির্বাচনে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের নিরঙ্কুশ জয়

২০
X