

ফরিদপুর-৪ আসন থেকে ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার প্রতিবাদে আন্দোলনে থাকা লোকজন সোমবার থানা, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। আগুন দেওয়া হয় বেশ কিছু গাড়ি ও মোটরসাইকেলে। এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় বিক্ষোভকারীরা। ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার প্রতিবাদে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে স্থানীয় লোকজন। ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার থেকে তিন দিনের মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে তারা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া জুলাই মাসের শেষদিকে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ৩০০ আসনে ছোটখাটো পরিবর্তনের প্রস্তাব করে দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণে কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পার্বত্য এলাকার তিন জেলার তিনটি আসন অপরিবর্তনীয় রাখা। দুই আসনবিশিষ্ট জেলার আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা। কারণ, ভোটার বা জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বৃদ্ধি করলে অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস (জেলাভিত্তিক ভোটারের জাতীয় গড়ের তুলনায়) পায়। আবার দুটি আসনকে একটি আসনে হ্রাস করলে ভোটার সংখ্যা গড়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। তিন আসনবিশিষ্ট জেলার আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা। আসন হ্রাস বা বৃদ্ধিতে ভোটার বা জনসংখ্যার অনুপাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে। যেসব আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য কোনো আবেদন দাখিল হয়নি, সে আসনগুলো অপরিবর্তিত রাখা।
প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার গণ্য করে উপজেলা বা থানা ইউনিটকে যতদূর সম্ভব অখণ্ড রাখা। জেলার মধ্যকার আসনের ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ব্যবধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। যতদূর সম্ভব, প্রশাসনিক ও নির্বাচনী সুব্যবস্থার বিষয় বিবেচনায় রেখে উপজেলা, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডের অখণ্ডতা বজায় রাখা। ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড ও পৌরসভার একাধিক সংসদীয় আসনের মধ্যে বিভাজন না করা।
সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ৪২টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে কারিগরি কমিটি। এর মধ্যে ৩৯টি আসনে সীমানা সামান্য পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এ ছাড়া আড়াইশ আসনের বিষয়ে কারও কোনো আপত্তি আবেদন না আসায় বিদ্যমান সীমানাই বহাল রাখা হয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি যে আসনে ভোটার, সেখানে একটি আসন বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি। সবচেয়ে কম ভোটারের আসন থেকে একটি আসন কমানোর বিষয়ে প্রস্তাব করেছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানোর এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমানোরও প্রস্তাব রয়েছে।
ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস প্রসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে সোমবার চিঠি দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা। তিনি বিষয়টি ‘জনগণের আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ে। চিঠিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ আসনে সংযুক্ত করায় দুই ইউনিয়নের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ফলে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ফরিদপুরে যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। আমাদের প্রত্যাশা, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি আমলে নেবে এবং জনআকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করবে।