

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ সত্ত্বেও নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্য শঙ্কা রয়েই গেছে। কেননা, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে এক হতে পারেনি। জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে তার অধীনে এবং পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ সাতটি রাজনৈতিক দল। এ দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে দলগুলো। আলাদাভাবে পালিত এসব কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে তাদের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলগুলোর নেতারা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বায়তুল মোকাররমের উত্তর ও দক্ষিণ ফটক, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও বিক্ষোভকারী অন্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শুরু করেছে এই সাতটি রাজনৈতিক দল। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী চায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যাক। সেজন্য চতুর্মুখী প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে, সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে, রাজপথে ও ঐকমত্য কমিশনে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, একটি মহল প্রভাব খাটিয়ে বা দুঃখজনকভাবে কোনো শক্তির কাছে মাথানত সরকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ কখনো কখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রক্ষা করতে পারছে না। তারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে তার আলোকে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু একটি দল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিরোধিতা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, পিআর নিয়ে তারা বহু বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন। দেশের অধিকাংশ মানুষ পিআর চায় মর্মে একাধিক জরিপে উঠে এসেছে। এখন পিআর নিয়ে তারা রাজপথে আন্দোলন করতে চান না।
তবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে পিআর ইস্যুতে দলগুলোর রাজপথে নামার বিষয়টি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতমুখী এমন অবস্থানে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়া না হওয়ার নানা গুঞ্জন ডালপালা ছড়াতে শুরু করেছে। সর্বশেষ গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও বলেছেন, কিছু শক্তি এখনো নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। তিনি অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করে একই সময় বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতো আমরাও মনে করি, বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে কিংবা নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে দেশ আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে। আমাদের প্রত্যাশা, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী সব দলের সমন্বয়ে অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ আবার গণতান্ত্রিক যাত্রায় শামিল হবে।