বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতির পরম প্রত্যাশা

নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতির পরম প্রত্যাশা

কালবেলার সঙ্গে আমি খুব একটা পরিচিত নই। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটা জাতীয় পটপরিবর্তনে নানা সময় নানাভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে দেখেছি। সেখানে মাঝেমধ্যে আমার কথা, আমার অভিব্যাপ্তি, চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা কখনো-সখনো তুলে ধরা হয়েছে। অন্য পত্রপত্রিকায় অনেক খবর ছাপা না হলেও কালবেলায় হয়েছে। জাতীয় পত্রিকা কোনো দলের, কোনো মতের হওয়া উচিত নয়। জাতীয় দৈনিক সমাজের দর্পণ; তার বা তাদের প্রধান কাজই হচ্ছে সাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, কামনা-বাসনা, দুঃখ-বেদনা বুকে লালন করে পাঠকের সামনে উপস্থিত হওয়া। পাকিস্তান আমলে আমরা যখন ছোট ছিলাম—এত প্রচারমাধ্যম ছিল না। তখন প্রায় সব পত্র-পত্রিকা জনতার কথা বলত, সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনা বুকে ধারণ করত। এখন যখন সেসবের অভাব দেখি, তখন কেন যেন অজান্তেই একটা ব্যথা অনুভব করি।

কালবেলার একটা লেখা চাই শুনে খুবই খুশি হয়েছি। আগে এক পাতা লিখতে তিনবার কলম ভাঙত, গুছিয়ে লিখতে পারতাম না। এক প্যারার সঙ্গে আরেক প্যারার যোগ দিতে পারতাম না। কারণ, স্কুল-কলেজে তেমন লেখাপড়া করিনি। ছিলাম একেবারে নাদান। চিরকাল শুনে এসেছি, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। কিছু হারালে কিছু পাওয়া যায়। আমার জীবন অনেকটা তেমনি। ছেলেবেলায় একেবারে অপদার্থ ছিলাম। আজও যে খুব একটা পদার্থ হয়েছি—তেমন ভাবি না। ছোটবেলায় আমার কাছে সত্য-মিথ্যার কোনো পার্থক্য ছিল না। সত্য-মিথ্যার কোনো জ্বালাতন ছিল না। ছিলাম বড় বেশি নিমুরাদ, ভীতু। বাংলার যুবক-যুবতীরা যৌবনে সবাই প্রেম করে কবিতা লিখে, গান গায়। আমি নারীপ্রেম করতে পারিনি। নারীপ্রেম কাকে বলে জানি না। কারও রঙিন চোখ আমাকে আকৃষ্ট করেনি। আমার ভালোবাসা ছিল মা-বাবা, ভাইবোনের প্রতি। দেশকেও যে ভালোবাসা যায়, মা আর মাতৃভূমির মধ্যে যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই—এর সামান্য জ্ঞানও আমার ছিল না। বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী বৃহত্তর ময়মনসিংহে তখন একজন নামকরা ছাত্রনেতা। ষাটের দিকে তিনি তারস্বরে আইয়ুব-মোনায়েমবিরোধী বক্তৃতা করতেন। কখনো-সখনো ভিড়ের মধ্যে তার বক্তৃতা শুনে কাঁপতাম আর ভাবতাম যে, বক্তৃতা করছে সেই লতিফ সিদ্দিকী আর আমি কাদের সিদ্দিকী একই পিতার ঔরসজাত, একই মায়ের গর্ভজাত। তার অত সাহস আর আমি এত ভীতু কেন? আস্তে আস্তে ভিড়ের মধ্যে স্লোগান দিতাম। স্লোগান দিতাম বললে ভুল হবে, কেউ স্লোগান দিলে তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলাতাম। যে স্লোগান দেয় আর যারা ধরে তাদের মধ্যেও পার্থক্য আছে। আমি স্লোগান দেওয়ার দলে ছিলাম না, স্লোগান ধরার দলে ছিলাম। আস্তে আস্তে স্লোগান ধরতে গিয়ে নাক-কান ঘেমে যাওয়া, হাঁটু কাঁপা বন্ধ হয়েছিল। পোস্টার লাগাতাম, কোনো সভা-সমাবেশ হলে মাঝেমধ্যে মাইক মারতাম, প্রচার করতাম। এভাবেই চলছিল। এ সময় আইয়ুব খান বুনিয়াদি গণতন্ত্র নামে এক আজব নির্বাচনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। আইয়ুব খানের সময় কত নেতা, পাতিনেতাকে বাহাদুরি করে ঘুরে বেড়াতে দেখতাম। কিন্তু শেখ মুজিব তখনো বঙ্গবন্ধু হননি। সকাল-বিকেল গ্রেপ্তার হতেন। সকালে গ্রেপ্তার হলে বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জামিন নামঞ্জুর, জজ কোর্টে মঞ্জুর। আইয়ুব-মোনায়েমের আমলেও জামিন ছিল। ছোট মানুষ বুদ্ধিশুদ্ধির তেমন বালাই ছিল না। তাই মনে হতো আমরা আইয়ুববিরোধী কথা বলি, আইয়ুব খান বারবার শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করে, তাহলে তিনিই তো আমাদের প্রধান নেতা। কীভাবে যেন আপনাআপনি সারা হৃদয় তার জন্য ব্যাকুল হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু আমাকে কতটা ভালোবাসতেন সেটা বলতে পারব না, তবে একজন প্রেমিক যেভাবে প্রেমিকাকে ভালোবাসে, আমি তার চেয়ে কোনো অংশেই বঙ্গবন্ধুকে কম ভালোবাসতাম না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকে আমার মধ্যে দেশপ্রেমের জন্ম হয়। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসার আগে আমি মা-বাবা, ভাইবোনকে ভালোবাসতাম; কিন্তু দেশকেও যে ভালোবাসা যায়, একজন মানুষের কাছে দেশপ্রেম যে সবচেয়ে বড় ইমান—আমার জানা ছিল না। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে আমি মাতৃভূমিকে ভালোবাসতে শিখেছি। জননী জন্মভূমি যে এক ও অভিন্ন; এটা বঙ্গবন্ধুকে পেয়ে বুঝতে শিখেছি। আজ আমার কাছে আমার সন্তান-সন্ততি, মা-বাবা, ভাইবোন আর দেশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরং কেউ যদি প্রশ্ন করে জননী-জন্মভূমি, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়স্বজন এসবের সবার আগে কে। জননীর আগে আজ আমার কাছে সমস্ত অস্তিত্বে জন্মভূমির স্থান। দেশপ্রেম এক অমূল্য সম্পদ। যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, শুধু হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়; সেই দেশপ্রেম সবার মধ্যে জাগে না, অনেকে সারা জীবন বুঝতেও পারে না।

ছাত্ররাজনীতিতে এসে মানুষকে চিনতে শুরু করেছিলাম, দেশের আত্মা খুঁজতে শুরু করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর মধ্য দিয়ে দেশমাতৃকার যে স্ফুরণ ঘটেছিল, সেটা মুক্তিযুদ্ধে এসে ভীষণভাবে জমাট বাঁধে। মানুষ যে শুধু তারই জন্য নয়, শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কাউকে সৃষ্টি করেননি, এ বোধটা আমাদের অনেকের জীবনে জাগার সুযোগ ঘটে না। নিজের জন্য কেউ বিব্রত হলে, কষ্ট পেলে আকুল হয়ে কাঁদলে মহান প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তা নিয়ে খুব একটা ভাবেন না; কিন্তু অন্যের বিপদে কেউ যদি চোখের পানি ফেলে স্রষ্টা উতলা হয়ে যায়—কী করে তার বিপদ দূর করবেন। আমার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধটা ছিল সেই রকম। সবাই যখন আমাদের ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে গিয়েছিল, দেশের লক্ষ-কোটি নিরাশ্রয় মানুষ নিয়ে তখন কী করব? সবাইকে রেখে গেলে কোনোদিন যদি দেশ স্বাধীন হয়, তখন ফিরে এলে সাধারণ মানুষ যে বাঁকা চোখে দেখবে, তার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভালো। তাই মৃত্যুভয় না করে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আল্লাহর দয়া এবং অনুগ্রহ পেয়েছিলাম, বিজয়ী হয়েছিলাম। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া কারও বিজয় নেই। অন্তত একজন মুসলমান হিসেবে তেমনটা আশা করা বাতুলতা নয়। আর এটাও আমি বিশ্বাস করি, সামরিক শক্তি পাকিস্তান হানাদারদের একশ ভাগের দশ ভাগও আমাদের ছিল না। তবু আমরা কেন কীভাবে পাকিস্তান হানাদারদের সত্যিকার অর্থেই নিদারুণভাবে পরাজিত করেছিলাম। ভারতীয় মিত্র বাহিনী এ ক্ষেত্রে প্রচণ্ড সহযোগিতা করেছে, সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানি হানাদাররা আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে হেরেছে। তারা নির্বিচারে ওভাবে নিরীহ মানুষদের হত্যা না করলে, ঘরবাড়ি না জ্বালালে, মা-বোনের ইজ্জত-সম্ভ্রম নষ্ট না করলে হয়তো পরাজিত হতো, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হতো না। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে বড় কিছু নেই। ঘর-দুয়ার জ্বালিয়ে হানাদাররা কত পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ হত্যা করেছে। তাদের আত্মার বদদোয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতিক্রম করতে পারেনি। মা-বোনের সম্মান সম্ভ্রম সব থেকে বড় কথা। যারা মা-বোনের সম্মান নষ্ট করে আল্লাহর দরবারে তাদের পতন ছাড়া জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই পাকিস্তানি হানাদাররা নির্মমভাবে পরাজিত হয়েছিল। এরপরও যারা এমন করবে, তাদের পরিণতি পাকিস্তানিদের চেয়ে আলাদা হবে না—এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

ইদানীং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানান রকম কথা চলছে। শহীদদের সংখ্যা নিয়ে, মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানাজনের নানা কথা। কদিন আগে আমার এক প্রিয় বীরযোদ্ধা ও বীরবিক্রম অলি আহমদ শহীদের সংখ্যা কয়েক হাজার বলেছেন। তার কথা নানাজন নানাভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। অলি আহমদকে যেভাবে চিনি, জানি, মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে দেখে এসেছি, যুদ্ধে অনেকের অনেক অবদান আছে। আজ জিয়াউর রহমান যে দেশনেতা, তার জন্য অলি আহমদের ভূমিকা খুব একটা কম কিছু নয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমানের রুখে দাঁড়াতে অলি আহমদের যে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা; ঠিক তেমনি জিয়া ব্রিগেড গঠনের মধ্য দিয়ে পরবর্তী যুদ্ধকালীন পুরো সময় তার ভূমিকা মোটেই কম ছিল না। তাই তিনি দুই-আড়াই লাখ মুক্তিযোদ্ধা, ১০-১৫ হাজার শহীদ—এ কথা বলা মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ হওয়া বলেছেন, না সার্বিকভাবে? ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলেছেন এটাকে বিবেচনা করতে হবে। যদি সমগ্র মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের কথা বলা হয়, তাহলে ভারতে যে এক কোটি শরণার্থী গিয়েছিল, তাদের মধ্যেই ৮-১০ লাখ শরণার্থী অসুখে-বিসুখে প্রাণ হারিয়েছে। সেখানে চার-পাঁচ লাখ শিশু হবে। ৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে শুধু ঢাকাতেই তিন লাখের ওপর লোক মারা গিয়েছে। সারা দেশে সেই এক রাতে না হলেও পাঁচ লাখ লোক মারা গেছে। বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়িতে হানাদাররা যদি বঙ্গবন্ধুকে না পেত, তাহলে ৩০ লাখ নয়, হিটলার যেমন ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করেছিল, আমাদের দেশেও হত্যার সংখ্যা ৬০ লাখের ওপর উঠত। কারণ, পাকিস্তানিদের প্রধান টার্গেট ছিল শেখ মুজিব। আজ অনেক নেতা অনেক কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু বা তার সময় নেতানেত্রীরা পরের ওপর ভরসা করে চলতেন না। তারা পরিশ্রম করতেন, মানুষের সঙ্গে মিশতেন, মানুষকে ভালোবাসতেন, সাধারণ মানুষের ভালোবাসাও তারা পেতেন। তাই কোনো উপন্যাস বানানোর মতো কিছু বললে এখন বলা যেতে পারে, তখন এসবের কোনো মূল্য ছিল না। পরে এসব কথার কোনো মূল্য থাকবে না; কিন্তু বর্তমানে একটা প্রভাব তো থেকেই যায়।

যে যাই বলুন, ২০২৪-এ গণজাগরণের মূল কারণই ছিল সাধারণ মানুষের অস্বস্তি। তারা দীর্ঘদিন তাদের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারেনি। দেশের মানুষ একবেলা খেতে না পেলে হয়তো মেনে নিতে পারে; কিন্তু তারা ভোট থেকে বঞ্চিত হতে চায় না, ভোট দিতে চায়। সেজন্য বড় কারণই ছিল স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আজও নির্বাচনই বড় কথা। মানুষ তার বিশ্বাসযোগ্য সরকার চায়, তাদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হোক এটা চায়। তাই রাস্তাঘাটের কথা অনুসারে তাদের মতামত শুনে মনে হয়, যত তাড়াতাড়ি সুন্দর ভোট হবে, নির্বাচন হবে, জাতির জন্য তত মঙ্গল। ইদানীং কিছু কিছু জিনিস আমাকে আহত করে। যে যাই বলুন, সারা জীবন সোজা পথে হেঁটেছি। এই বিজ্ঞানের অগ্রগতির জামানাতেও মোবাইল ফোনই ভালো করে চালাতে পারি না। ফোনে কত কারুকাজ! ফোনের বোতাম টিপলেই ওর বাড়ি থেকে এক হাজার কোটি, তার বাড়ি থেকে সাতশ, অমুকের বাড়িতে পাঁচশ, অমুককে গ্রেপ্তার, অমুককে জেলে, হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো নানা ধরনের রক্তাক্ত বিশ্রী সব ছবি। প্রধান উপদেষ্টার হাতে হ্যান্ডকাফ, সেনাপ্রধানকে হ্যান্ডকাফ পরানো, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে গ্রেপ্তার দেখানো এসব লেগেই আছে। সেনাবাহিনী আমাদের গৌরব। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যার জন্ম সেই সেনাবাহিনী নিয়ে কত কথা। কেউ কেউ তো ক্যান্টনমেন্ট গুঁড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। কারও কোনো আকার-বিকার নেই। একবার এমন হলে পরে সামাল দেবে কী করে? আর লাগামহীন কথা বলা—এও এক মস্তবড় অপরাধ, সেটাই আমাদের দেশে চলছে। এই কদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা একদল লোক নিয়ে জাতিসংঘে গিয়েছিলেন। ৭০০-৮০০ কোটি টাকা নাকি খরচ করেছেন। গরিবের রক্ত ঘামে পয়সা কী করে তারা খরচ করেন? সেখানে এই প্রথম তিনটি দলের ছয়জন নেতাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কী আজব ব্যাপার, বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই তারা আলাদা হয়ে গিয়েছেন। প্রধান ব্যক্তি, তার দলের সহযাত্রীদের ফেলে কীভাবে চলে গেলেন, কারও মধ্যে কোনো আকার-বিকার নেই। বিএনপি মহাসচিব একজন পোড় খাওয়া মানুষ। হুজুর মওলানা ভাসানীর একসময় অনুরক্ত ভক্ত ছিলেন। ভদ্র পরিবারের সন্তান। তার আচার-আচরণও অসাধারণ। এ মানুষটি কেন গিয়েছিলেন, কার কথায় গিয়েছিলেন এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। আর যা কিছু হোক, এভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো দেশ চলতে পারে না।

শেখ হাসিনার পতনের পর অধ্যাপক ইউনূস যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন, তখন অনেক মানুষ খুশি হয়েছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের লোকেরা কেউ কেউ শান্তির আশা করেছিল। আমিও উৎসাহী ছিলাম। কারণ, গ্রামীণ ব্যাংকের যখন দুঃসময় তখন ড. কামাল হোসেনের অনুরোধে অধ্যাপক ইউনূসের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যখন যা করার করেছি, তা না হলে সেই সময় গ্রামীণ ব্যাংকের অর্ধেক স্থাপনা ধুলোয় মিলিয়ে যেত। কিন্তু তার গত এক বছর দুই মাস রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রায় সবাই হতাশ। রাস্তাঘাটে বেশি মানুষই বলছে, এনজিও আর রাষ্ট্র চালানো এক কথা নয়। রাস্তার মানুষের কথাকেই মনে হয় অধ্যাপক ইউনূস সত্য বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। দেশে তেমন কোনো আইন নেই, বিচার-আচার নেই, বড়-ছোটর বাছ-বিচার নেই, চারদিকে মানুষের মধ্যে একটা ত্রাহি ত্রাহি ভাব। শিক্ষা-সংস্কৃতির অধঃগতির কারণে বাচ্চাদের জীবন অন্ধকার। ব্রিটিশের সময় মহাজনের হাতে নিষ্পেষিত বাংলার কৃষককুলকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ঋণ সালিশি বোর্ড করে বাঁচিয়ে ছিলেন। আজ বাংলাদেশের সবাই ঋণে জর্জরিত। এক বিশ্বব্যাংকের ঋণ আমরা চাই বা না চাই, প্রত্যেকের মাথার ওপর এক লাখ, কয়েক হাজার; অন্যদিকে গ্রামে ১০টা মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে না যাদের কোনো সমিতিতে, কোনো এনজিওতে ঋণ নেই। ঋণ শোধ করতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যা করছে। অথচ এসব নিয়ে তেমন কারও ভাবনা-চিন্তা নেই। রাজনৈতিকভাবেও এসব কোনো ধর্তব্যের মধ্যে নেই।

এতকিছুর পরও বলব—নির্বাচন, নির্বাচন, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য সুন্দর একটি নির্বাচন জাতির পরম প্রত্যাশা। একটা ভালো নির্বাচন করতে পারলে এতকিছুর পরও অধ্যাপক ইউনূস হয়তো মানুষের দোয়া পাবেন। তাই সবাই নির্বাচন নিয়ে সৎ ও পবিত্র দেখতে চায় তাকে।

লেখক: সভাপতি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাসির-তামিমার ভাগ্য নির্ধারণ আজ, দোষ প্রমাণিত হলেই ভয়ঙ্কর পরিণতি

‘ফিল্মি স্টাইলে’ হামলা চালিয়ে পুলিশের হাত থেকে আসামি ছিনতাই

অবশেষে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা-দাফনের সময় জানাল ইরান

বিশ্বকাপের আগেই সুসংবাদ / নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির বার্তা

মাঝ আকাশে বিমানের জানালার কাচ ভাঙলেন যাত্রী!

আলভারেজকে নিয়ে রিয়ালের ‘মেগা বিড’, প্রত্যাখ্যানের ঘোষণায় চমকে দিল অ্যাটলেটিকো 

সম্পদ-দলীয় প্রতীক সবই হারাচ্ছেন মমতা!

বিমান বাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড্যাব

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চোখে আলো ফিরেছে ৮৪ জনের

১০

বাজেটে মোবাইল, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিপণ্যে বড় সুখবর

১১

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

১৩

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

১৪

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

১৫

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

১৬

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

১৭

বাংলার নদী, বাংলার জীবন : ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা

১৮

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

২০
X