

বিশ্বসাহিত্যের ভান্ডার যাদের জাদুস্পর্শে সমৃদ্ধ হয়েছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে আজও প্রভাবিত করে চলেছে, রুশ কথাসাহিত্যিক ফিওদোর দস্তয়েভস্কি তাদের মধ্যে অন্যতম। মূলত উপন্যাসের জন্য পরিচিতি পেলেও ছোটগল্প ও প্রবন্ধেও নিজের মুনশিয়ানা দেখিয়েছিলেন। উনিশ শতকের রাশিয়ার অস্থির সমাজ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জীবন্ত চিত্র তার সাহিত্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ ফুটে ওঠে। তার লেখায় খুঁজে পাওয়া যায় এক আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় বাতাবরণ। মানব হৃদয়ের অন্ধকারতম তলদেশে দস্তয়েভস্কির গভীর এবং তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পৌঁছে গিয়েছিল অনায়াসে। বিখ্যাত এই রুশ সাহিত্যিক ১৮২১ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম ফিওদোর মিখাইলোভিচ দস্তইয়েভস্কি।
তার অনেক রচনাই বিশ্বসাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রধান সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে, অপরাধ ও শাস্তি (Crime and Punishment), মৃত্যুপুরী (The House of the Dead), ইডিয়ট (The Idiot), ভূতলবাসীর আত্মকথা (Notes from Underground or Letters from the Underworld)। দস্তয়েভস্কি রচিত নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড (The Notes from Underground) অস্তিত্ববাদী দর্শনের ভিত্তি গড়তে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৮৩৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল কলেজে ভর্তি হন। চলে যান সাংকত পেতের্বুর্গে (সেন্ট পিটার্সবার্গ)। ১৮৩৮ সালের ৯ আগস্ট ভাইকে লেখা চিঠিতে জানান, শেকসপিয়র এবং প্যাস্কেলের সব সাহিত্যকর্ম, বালজাকের অধিকাংশ, গ্যেটে রচিত ফাউস্ট এবং ভিক্টর হুগোর প্রায় সব রচনা পড়ে শেষ করেছেন। ১৮৩৯ সালে দস্তয়েভস্কির বাবা তার অধীনে কর্মরত কৃষকদের হাতে নিহত হন। এটি তাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে। ১৮৪১ সালে তিনি সামরিক কলেজে কমিশন লাভ করেন। ১৮৪২ সালে লেফটেন্যান্ট পদ লাভ করেন। ১৮৪৩ সালে সামরিক বাহিনীর প্রকৌশল বিভাগে সেনা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। বালজাকের একটি বইয়ের অনুবাদ তার প্রথম সাহিত্যকর্ম হিসেবে প্রকাশিত হয়। ১৮৪৪ সালে সামরিক বাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন। পুরোদমে সাহিত্য রচনায় মন দেন। ১৮৪৫ সালে সাহিত্য জগতে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন। সমালোচকরা তাকে গোগলের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে অভিহিত করেন। ১৮৪৬ সালে তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশ পায়। ১৮৪৯ সালে ইউটোপীয় সমাজবাদী চিন্তাবিদদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অপরাধে ৪ এপ্রিল তিনি গ্রেপ্তার হন। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে শেষমুহূর্তে দণ্ড রদ করা হয়। নতুন দণ্ড হয় চার বছরের কারাবাস। ১৮৫০ সালে প্রথমে ছিলেন সাংকত পেতের্বুর্গে পেত্রপাভলস্ক কারাগারে। পরে নেওয়া হয় ওমসকের একটি কারাগারে। ১৮৫৪ সালের মার্চ মাসে ছাড়া পান। কিন্তু সেনাবাহিনীতে ভাড়াটে সেনা হিসেবে যোগ দিতে তাকে বাধ্য করা হয়। ১৮৬১ সালে হাউস অব দ্য ডেড প্রকাশ পায়। ১৮৬২ সালে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড বেড়াতে যান। ১৮৬৬ সালে ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট প্রকাশিত হয়। ১৮৬৮ সালে দ্য ইডিয়ট প্রকাশিত হয়। বিশ্বসাহিত্যের মহান এই লেখক ১৮৮১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।