বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
জান্নাতুল ফেরদাউস অহনা
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চারদিক

প্লাস্টিক বর্জ্য ও জলজ প্রাণী

প্লাস্টিক বর্জ্য ও জলজ প্রাণী

নদী, খাল, বিল, হ্রদ ও সমুদ্র—বাংলাদেশের জলজ সম্পদ একসময় ছিল প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল। কিন্তু এখন সেই জলাশয়গুলো ক্রমেই হারাচ্ছে প্রাণ। একদিকে শিল্পবর্জ্য, অন্যদিকে প্লাস্টিক ও পলিথিনের আগ্রাসন—সব মিলিয়ে পানির নিচের জীবন যেন নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। প্লাস্টিক বর্জ্য এখন এক নীরব ঘাতকের মতো জলজ প্রাণীর জীবন শেষ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে মাছ। নীরবে, অদৃশ্যভাবে প্লাস্টিকের বিষ ছড়িয়ে পড়ছে পানির নিচে, মৃত্যুর ফাঁদে পড়ছে জলজ প্রাণ।

আজকাল শহর থেকে শুরু করে গ্রাম—সব জায়গাতেই প্লাস্টিকের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিন ব্যাগ, চিপসের মোড়ক, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের গ্লাস ও চামচ—সব কিছুই শেষ পর্যন্ত নদী বা ড্রেনে গিয়ে জমা হচ্ছে। বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে এ বর্জ্য ভেসে চলে যাচ্ছে নদী ও সমুদ্রে। ধীরে ধীরে সেগুলো ভেঙে তৈরি হচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা খালি চোখে দেখা যায় না; কিন্তু ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে জলজ জীবনে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাছ এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলোকে খাবার ভেবে খেয়ে ফেলছে। ফলে তাদের পরিপাকতন্ত্রে ক্ষত তৈরি হচ্ছে, খাদ্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে তারা মারা যাচ্ছে। অনেক মাছের শরীরে বিষাক্ত রাসায়নিক জমে যাচ্ছে।

এই দূষণ শুধু মাছ নয়, পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্ন করছে। মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়া, এমনকি জলজ পাখিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তলদেশে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। আমাদের দেশ যেমন নদীমাতৃক, তেমনি নদীর প্রাণই এখন মরে যাচ্ছে মানুষের অবহেলায়।

আর এই চক্র এখানেই শেষ নয়। দূষিত মাছ শেষ পর্যন্ত মানুষের খাদ্যতালিকায় ফিরে আসছে। অর্থাৎ আমরা নিজেরাই নিজের ক্ষতি ডেকে আনছি। একদিকে নদী মরছে, অন্যদিকে সেই নদীর মৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

এখনই সময় সমাধানের পথে হাঁটার। সমস্যার সমাধানে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। প্রথমত, সরকারকে কঠোরভাবে প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব বিকল্প যেমন কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের প্যাকেট বা বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার (recycling) ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, গণমাধ্যম, স্কুল-কলেজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে—কারণ সচেতন মানুষই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে গেলে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার, প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক পণ্য এড়িয়ে চলা—এসব ছোট পদক্ষেপই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা যদি এখনই ব্যবস্থা না নিই, তাহলে একদিন হয়তো নদী থাকবে, কিন্তু তাতে কোনো প্রাণ থাকবে না।

তাই, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে মানুষ কখনো জয়ী হতে পারে না। সুতরাং এখনই আমাদের বুঝে নিতে হবে—প্রকৃতি বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব। নদী ও মাছের প্রাণ বাঁচাতে হলে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুরু করতে হবে আজ থেকেই, প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ববোধ থেকেই।

জান্নাতুল ফেরদাউস অহনা

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চোখে আলো ফিরেছে ৮৪ জনের

বাজেটে মোবাইল, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিপণ্যে বড় সুখবর

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

বাংলার নদী, বাংলার জীবন : ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

১১

ল্যাবএইডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১২

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

১৩

কক্সবাজারে ১৯ রোহিঙ্গা আটক

১৪

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় পিছু হটল ইসরায়েলি বাহিনী

১৫

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

১৬

কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু 

১৭

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে, তুলে ধরল একাধিক কারণ

১৮

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের উপদেষ্টা মঞ্জুশ্রী রায় চৌধুরীর পরলোকগমন

১৯

রামিসা হত্যা : দ্রুতই শুনানি করতে চান রাষ্ট্রপক্ষ

২০
X