কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার পরিস্থিতি ও কৌশলগত চিন্তা

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহেদুর রহমান
মিয়ানমার পরিস্থিতি ও কৌশলগত চিন্তা

মিয়ানমার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের নিকটতম প্রতিবেশী। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সম্পর্কটি বেশ জটিল এবং এর মূল বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, সমুদ্রসীমা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। কিন্তু শুরু থেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটি বিভিন্ন ইস্যুতে হোঁচট খেতে শুরু করে। বিশেষ করে ১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নাগরিকত্ব যাচাই ও অবৈধ অভিবাসন দমনের আড়ালে নিপীড়ন এবং ব্যাপক সহিংসতার স্বীকার হয়। এর ফলে দুই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৯ সালের মধ্যে ২৮ হাজার ৭৭৫ জন রোহিঙ্গা ছাড়া বাকি সব শরণার্থীকে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়। তবে একটি আবর্তনশীল সংকটের বীজ বপিত হয়।

১৯৯১-৯২ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত নৃশংস অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কর্তৃক গৃহীত প্রচেষ্টার ফলে একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু মিয়ানমারের অসহযোগিতার কারণে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত শ্লথগতি সম্পন্ন হয়। ২০০৫ সালে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণই বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। ক্রমাগত হত্যা, ধর্ষণ এবং নিপীড়নের মুখে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অত্যাচারের পরিধি এতই ব্যাপক হয় যে, জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ ঘটনাকে জাতিগত নির্মূলকরণ এবং গণহত্যার টেক্সটবুক উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে। ওই সালের মধ্যে প্রায় সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যা বাংলাদেশের কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থীশিবিরের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ মানবিক উদারতা দেখিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, পরিবেশ এবং নিরাপত্তার ওপর বিশাল চাপের সৃষ্টি করেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার পাশাপাশি আরও কয়েকটি সমস্যা বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় সমস্যার আবরণ তৈরি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে, অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য বা চোরাচালান; যার সিংহভাগই মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত। এ বাণিজ্য আমাদের ভৌগোলিক এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে সমস্যা ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র ট্রাইব্যুনালে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি: এরই মধ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমত, আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ৯৩ শতাংশের বেশি এলাকা নিজ দখলে নিয়েছে। সামগ্রিকভাবে মিয়ানমারের মধ্য অঞ্চলের সমতল ভূমি ছাড়া (প্রায় ৫৫ ভাগ এলাকা) বাকি এলাকা আরাকান আর্মিসহ অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে আছে। রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মিও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মতো অত্যাচার, হত্যা এবং নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে।

দ্বিতীয়ত, সামরিক জান্তা আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে পুরো মিয়ানমারে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, যদিও ঘোষিত নির্বাচন সুষ্ঠু সম্পাদন এবং এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল সংশয় প্রকাশ করেছে। দেশের ৪৫ ভাগ অংশ যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীদের নিয়ন্ত্রণে, যেখানে দেশের নাগরিকদের একটি জনগোষ্ঠী অন্য দেশে শরণার্থী হয়ে আছে, সেখানে একটি বাস্তব এবং অর্থবহ নির্বাচন সম্ভব কি না—এটি বড় প্রশ্ন। গণতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে, অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব স্থাপন করা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক জান্তার নির্বাচনের ঘোষণা একটি প্রহসন বলেই অনুমিত হয়।

কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক জটিলতা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার ছাড়াও বাংলাদেশ, ভারত এবং চীন সরাসরি জড়িত। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো, ওআইসি, জাতিসংঘ ইত্যাদি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকাটি মিয়ানমারকে পালন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা এবং এ-সংক্রান্ত আইন-বিধান প্রণয়ন করা। এর পাশাপাশি, মর্যাদাসম্পন্ন প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমারের সব জাতিসত্তার মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যদি অনুকূল না হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যতই ইতিবাচক ভূমিকা রাখুক না কেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যকরী এবং টেকসই হবে না।

এ সমস্যাটি সমাধানের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা রাখা অত্যাবশ্যক। ভারত মিয়ানমারের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমের প্রতিবেশী। অস্থিতিশীল মিয়ানমারের ক্ষতিকর প্রভাব ভারতের তিনটি রাজ্য মিজোরাম, মণিপুর ও নাগাল্যান্ডে সরাসরি পড়ছে। যোগাযোগ ও বাণিজ্যক্ষেত্রে ভারতের প্রচুর বিনিয়োগ রয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান ১১তম এবং ভারতের বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারত মিয়ানমারের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৪-২৫ সালে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি যোগাযোগ প্রকল্পে ভারতে বিনিয়োগ রয়েছে; এর মধ্যে কালাদান মাল্টি মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প, ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড হাইওয়ে প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। মিয়ানমারের নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে সব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ঝুঁকিপূর্ণ এবং শ্লথগতি সম্পন্ন হয়েছে।

চীন মিয়ানমারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের অংশ হিসেবে কায়াকফ্যু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং গভীর সমুদ্রবন্দর একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন মালাক্কা প্রণালি এড়িয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে বিশ্বে পৌঁছানোর বিকল্প পথ। কৌশলগত দিক থেকে এটি চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কায়াকফ্যু থেকে কুনমিং পর্যন্ত বিস্তৃত তেল ও গ্যাস পাইপলাইন চীনের জ্বালানি চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রাখবে। গত মে মাস পর্যন্ত চীনের ঘোষিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ১৪.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা যায়। মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে অদ্যাবধি চীন প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে। কৌশলগত স্বার্থ এবং বাণিজ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষার জন্যই মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চীন জোরালোভাবেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। মূল বিষয়টি হলো, রোহিঙ্গা সমস্যা কিংবা বৃহত্তর মিয়ানমার সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান চীনের অংশগ্রহণ ছাড়া অসম্পূর্ণ হবে।

আঞ্চলিক জোট: মিয়ানমার সংকট মোকাবিলার জন্য কার্যকর কোনো আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই। আসিয়ান (ASEAN) যদিও মিয়ানমারের জন্য প্রাথমিক আঞ্চলিক জোট কিন্তু সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন, হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং ঐকমত্যনির্ভর সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া ইত্যাদি কারণে এর প্রভাব সীমিত (ASEAN, 2023)। সংকটের ক্ষেত্রে আসিয়ানের পদক্ষেপ মূলত মানবিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ থেকেছে। বিমসটেক (BIMSTEC) একটি কৌশলগত শূন্যতা পূরণ করে এবং মিয়ানমারকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বৈধতা প্রদান করে। তবে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার কারণে এ জোট সমালোচিত। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এ জোট কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনি। সার্ক (SAARC) মোটামুটিভাবে একটি নিষ্ক্রিয় এবং অকার্যকর জোট। একে পুনরুজ্জীবিত করার আগে রোহিঙ্গা সংকটে কোনো ভূমিকা রাখার অবকাশ নেই। বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর (BCIM-EC) নামক একটি উদ্যোগ রয়েছে, তবে এটিকে রাজনৈতিক বা মানবিক আলোচনার জন্য ব্যবহার করা হয়নি। আদর্শভাবে এ ধরনের একটি কাঠামো সীমান্তবর্তী উদ্বেগগুলো সমাধানে বিশেষ করে রোহিঙ্গা সমস্যা কিংবা বৃহত্তর মিয়ানমার সংকটে ভূমিকা রাখতে পারত।

বার্মা অ্যাক্ট ও মার্কিন কৌশল: বার্মা অ্যাক্টে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কেবল দুটি দেশের নাম উল্লেখ আছে—থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ। থাইল্যান্ড যেখানে শক্তিশালী মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ তেমন কোনো সুরক্ষার আওতায় নেই, ফলে দেশটি কৌশলগতভাবে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থানে রয়েছে। অ্যাক্টের বিষয়বস্তু ইঙ্গিত করে যে, বাংলাদেশ অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি বৃহৎ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বের মধ্যে টেনে আনা হতে পারে, যা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আন্তর্জাতিক সম্মেলন—কক্সবাজার

গত ২৪-২৬ আগস্ট কক্সবাজারে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৪০টি দেশের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সরাসরি নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পায়। সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ৭-পয়েন্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যা রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ভিত্তি হিসেবে প্রাসঙ্গিক: (১) দ্রুত, নিরাপদ, সম্মানজনক, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা; (২) ২০২৫-২৬ সালের Joint Response Plan-এ তহবিল ঘাটতি পূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করা; (৩) রোহিঙ্গাদের প্রতি আক্রমণ বন্ধ করা, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মিয়ানমার ও আরাকান আর্মি দ্বারা আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন; (৪) দ্বন্দ্ব নিরসন ও সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য অন্তভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করা; (৫) সীমান্তবর্তী অপরাধ মোকাবিলা করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে শান্তি ও স্থিতি স্থাপন করা; (৬) মিয়ানমারসহ সংঘাতের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সতর্কভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করার পাশাপাশি দৃঢ়ভাবে জাতিগত নির্মূল করাকে প্রত্যাখ্যান করা; (৭) আইসিজে এবং আইসিসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে আইসিজের পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

ভবিষ্যৎ করণীয়: নিরাপদ, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রফেসর ইউনূসের সাত দফার আলোকে বাংলাদেশকে উদ্যোগী হয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের জন্য একটি পথনকশা সংবলিত রেজল্যুশন গ্রহণ করা। প্রয়োজনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত করা। এ প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সহায়তা খুব বেশি জরুরি। বাংলাদেশকে এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরালো করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক পর্যায়ে চীন, ভারত এবং আসিয়ানকে সংকট সমাধান প্রক্রিয়ায় ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। তৃতীয়ত, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা জারি রাখার পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। চতুর্থত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা। যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সফলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রায় ৪০ বছর ধরে শরণার্থী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গুরুভার বাংলাদেশ বহন করছে। এটাও সত্য যে, এর কোনো স্বল্পমেয়াদি সমাধান নেই। তাই বাংলাদেশকে সতর্কতা, কৌশলগত ধৈর্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সক্রিয় সহায়তা এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও ক্রমাগত আলোচনার মাধ্যমে সামনে এগোতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে বাংলাদেশ যেন কোনো ভূরাজনৈতিক ‘মাইনফিল্ড’-এ পা না দেয়, যেখানে সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লেখক: এনডিসি, পিএসসি (অব.), সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হবে আজ

সকালের মধ্যে ১৮ জেলায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে ব্যাপক বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিতর্ক: শেয়ার মালিকানা প্রকাশের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নাসির-তামিমার ভাগ্য নির্ধারণ আজ, দোষ প্রমাণিত হলেই ভয়ঙ্কর পরিণতি

‘ফিল্মি স্টাইলে’ হামলা চালিয়ে পুলিশের হাত থেকে আসামি ছিনতাই

অবশেষে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা-দাফনের সময় জানাল ইরান

বিশ্বকাপের আগেই সুসংবাদ / নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির বার্তা

মাঝ আকাশে বিমানের জানালার কাচ ভাঙলেন যাত্রী!

আলভারেজকে নিয়ে রিয়ালের ‘মেগা বিড’, প্রত্যাখ্যানের ঘোষণায় চমকে দিল অ্যাটলেটিকো 

সম্পদ-দলীয় প্রতীক সবই হারাচ্ছেন মমতা!

১০

বিমান বাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

১১

চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড্যাব

১২

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চোখে আলো ফিরেছে ৮৪ জনের

১৩

বাজেটে মোবাইল, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিপণ্যে বড় সুখবর

১৪

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৫

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

১৬

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

১৭

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

১৮

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

১৯

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

২০
X