কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৩০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয়

ব্যবস্থাপনার পুরোনো সংকট

ব্যবস্থাপনার পুরোনো সংকট

বছর শেষ হয়ে এলো। আর দুদিন পরেই শুরু হবে নতুন বছর। অথচ মাধ্যমিক স্তরের বই এখনো ছাপানো শেষ হয়নি। বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবস্থাপনার অসংগতির বহিঃপ্রকাশ। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের জন্য যে ২১ কোটির বেশি বই ছাপানোর কথা, তার সাড়ে ১১ কোটির বেশি এখনো ছাপা বাকি। ফলে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ১ জানুয়ারি নতুন বই হাতে না পেয়েই শ্রেণিকক্ষে যেতে বাধ্য হবে। এ বাস্তবতা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক সবার মধ্যেই হতাশা সৃষ্টি করছে।

তবে এটাও সত্য যে, এমন পরিস্থিতি একেবারেই নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার বই ছাপা ও বিতরণে বিলম্ব হয়েছে, কখনো দরপত্র জটিলতায়, কখনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতায়, আবার কখনো কাগজ ও ছাপার সক্ষমতা-সংক্রান্ত সমস্যায়। সে কারণে বর্তমান সংকটকে শুধু একটি নির্দিষ্ট বছরের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতারই পুনরাবৃত্তি।

এবারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের বই তুলনামূলকভাবে সময়মতো ছাপা ও সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু মাধ্যমিক স্তরে এসে প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। চার কোটির বেশি বইয়ের বিপরীতে ছাপা হয়েছে মাত্র কয়েক শতাংশ। সপ্তম শ্রেণিতেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে কিছুটা এগোলেও বছরের শেষেও বিপুলসংখ্যক বই ছাপা বাকি থাকাটা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের শুরুতেই নভেম্বরের মধ্যে বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং মে মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু দরপত্র ঘিরে অভিযোগ, বাতিল ও পুনঃদরপত্রের দীর্ঘসূত্রতা পুরো প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিয়েছে। দরপত্র বাতিল হওয়ায় কয়েকটি শ্রেণির কাজ নতুন করে শুরু করতে হয়েছে, যা সময়মতো শেষ করা বাস্তবিক অর্থেই কঠিন হয়ে পড়ে। বড় আকারের এ কর্মযজ্ঞে সামান্য দেরিও যে কীভাবে বিশাল ঘাটতিতে রূপ নিতে পারে, এবারের পরিস্থিতি তার উদাহরণ।

এনসিটিবির ভেতরে সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য ও প্রভাবশালী বলয়ের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে এটাও মনে রাখা জরুরি, বই ছাপা ও বিতরণ একটি অত্যন্ত বড় ও জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে বহু পক্ষ জড়িত। যেমন—পেপার মিল, প্রেস, প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকরা। এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি পুরো ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবসম্মত ও সময়ানুগ করে তোলাও প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ সংকটের খেসারত যেন শিক্ষার্থীদের দিতে না হয়। মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষার কথা বলা মানে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করা। তাই জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা, ধাপে ধাপে বই সরবরাহ এবং শ্রেণিকক্ষে সাময়িক সহায়ক উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রতি বছর একই ধরনের সংকট ফিরে আসা প্রমাণ করে, সমস্যার মূল জায়গায় এখনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া সহজীকরণ, কাগজ ও ছাপার মান নির্ধারণে বাস্তবতা বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে নতুন বছরের শুরুতে বই নিয়ে অনিশ্চয়তার পুরোনো গল্প বারবারই ফিরে আসবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গুগল সার্চ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার আবেদন করবেন যেভাবে

 তবে কি নায়িকারূপে পর্দায় আসছেন ‘রকস্টার’ প্রযোজক স্বর্ণা?

প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নারীর রহস্যজনক মৃত্যু

খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

‘গোলাপ’ নিয়ে পরীমণি-নীরবের ইতিবাচক আলোচনা 

নজর কাড়ছে কসাই রিপনের পশুর মাথার শোপিস

‘ভুয়া’ চিকিৎসকের পরিচয় প্রকাশ করে প্রতিবেদন, প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে বিশেষ দায়িত্ব পেল বিমানবাহিনী

সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

চলচ্চিত্রের গল্পে নারী সুরক্ষা ও দেশীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

১০

জাপানের পর এবার নেপালেও নিষিদ্ধ ভারতের আম

১১

গাড়ি চালিয়ে পার্থকে নিয়ে ‘সংসদের পথে’ প্রধানমন্ত্রী

১২

দিনে কয়টি আম খাওয়া উচিত? সুস্থ থাকতে জানুন সঠিক পরিমাণ

১৩

বাজেটে বাড়ছে না সিগারেটের দাম

১৪

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নারীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

১৫

প্রথমবার ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত

১৬

ছুরিকাঘাতে লাদেন নিহত

১৭

বাজেটে পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর

১৮

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

১৯

পূর্ণিমাকে নিয়ে শাবনূর বললেন ‘আমাদের দা-কুড়াল সম্পর্ক না’

২০
X