

বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের শতভাগ নিশ্চিত মুনাফা ও নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর কোনো বিকল্প নেই। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ইস্যুকৃত গেজেট অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ মে’র মধ্যে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকৃত মূলধন হতে মিউচুয়াল ফান্ডভেদে ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ মুনাফার যথেষ্ট পরিমাণ সম্ভাবনা রয়েছে। ১২ নভেম্বর ২০২৫ সালের গেজেটটির শিরোনাম হলো মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনী-২০২৫। এই বিধিমালার ৪২ ও ৪৩ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লিখিত ৬২ নম্বর ধারাটি ভালোমতে পড়লে বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারবেন কোন মিউচুয়াল ফান্ডে কত শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যাবে। এ ধারাটি মূলত বাজারে বিদ্যমান মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ ধারাটির মূল কথা হলো বাজারে তালিকাভুক্ত যেসব মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড এরই মধ্যে ১০ বছর মেয়াদ শেষ করেছে কিন্তু বিগত মাফিয়া সরকারের স্বার্থের কারণে অন্যায়ভাবে আরও ১০ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত হলো নিম্নরূপ:
এসব মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ১২ নভেম্বর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে যদি তাদের বাজারে লেনদেন মূল্য তাদের গড় সম্পদ মূল্যের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ না হয় তাহলে সেগুলোকে অবসান করে দিতে হবে অথবা ৭৫ শতাংশ ইউনিট হোল্ডারের সমর্থন সাপেক্ষে বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর করা যাবে। এখন আসা যাক ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য কী? উদাহরণ হিসেবে দেখে নেওয়া যাক—একটি তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূল্যে ইউনিটপ্রতি সম্পদ মূল্য ৮ টাকা এবং ক্রয় মূল্যে ১২ টাকা, এই মিউচুয়াল ফান্ডটির গড় সম্পদ মূল্য দাঁড়াবে ৮+১২=২০÷২=১০ টাকা; এখন এই মিউচুয়াল ফান্ডটির বাজারে লেনদেন হচ্ছে ৩ টাকায় কিন্তু ১২ মে ২০২৬-এর মধ্যে এর বাজারে লেনদেন যদি ১০×৭৫%=৭.৫০ টাকা না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টিকে এ মিউচুয়াল ফান্ডটি অবসান করে ইউনিট হোল্ডারদের মধ্যে তাদের ইউনিটপ্রতি সম্পদ মূল্য বুঝিয়ে দিতে হবে অথবা ৭৫ শতাংশ ইউনিট হোল্ডারের সম্মতিক্রমে এ মিউচুয়াল ফান্ডটিকে দে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের রূপান্তর করা যাবে।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা সাপেক্ষে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিনিয়োগের একমাত্র নিরাপদ খাত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড খাত। এ সুযোগ ইতিহাসে বিরল তাই সুযোগটি গ্রহণ করা প্রত্যেক সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একান্তভাবে উচিত।
লেখক: সোলায়মান রুবেল