কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেই দিনটি

স্লেভ ট্রেড অ্যাক্ট

স্লেভ ট্রেড অ্যাক্ট

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮০৭ সালের ২৫ মার্চ ‘স্লেভ ট্রেড অ্যাক্ট’ পাসের ঘটনাটি ছিল মানব ইতিহাসের এক অনন্য এবং বৈপ্লবিক অধ্যায়। যদিও এ আইনটি দ্বারা তৎক্ষণাৎ দাসপ্রথা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি, তবে এটি আটলান্টিক মহাসাগরীয় দাস ব্যবসার মতো একটি অমানবিক প্রথার মূলে কুঠারাঘাত করেছিল।

অষ্টাদশ শতাব্দী জুড়ে ব্রিটেন ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান দাস ব্যবসায়ী শক্তি। আফ্রিকা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে আমেরিকায় দাস হিসেবে পাচার করা হতো। এ অমানবিক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হন কোয়েকার সম্প্রদায়ের মানুষ এবং পরবর্তীকালে ইভানজেলিকাল খ্রিষ্টানরা। তাদের দাবি ছিল—মানুষ কেনাবেচা করা শুধু অনৈতিক নয়, বরং এটি ধর্মীয় এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থি।

এ আন্দোলনের মূল নায়ক ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য উইলিয়াম উইলবারফোর্স। তিনি টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পার্লামেন্টে দাস ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। তার সঙ্গে ছিলেন টমাস ক্লার্কসন এবং ওলাউডাহ ইকুয়ানো (যিনি নিজে একজন প্রাক্তন দাস ছিলেন)। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, জনমত গঠন এবং দাস জাহাজের বিভীষিকাময় বর্ণনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। দীর্ঘ তর্কের পর, ১৮০৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি হাউস অব কমন্সে বিলটি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এবং ২৫ মার্চ এতে রাজকীয় সম্মতি (Royal Assent) মেলে।

১৮০৭ সালের এ আইনের একটি সূক্ষ্ম দিক ছিল এই যে, এটি ‘দাস ব্যবসা’ (Slave Trade) নিষিদ্ধ করেছিল, কিন্তু ‘দাসপ্রথা’ (Slavery) নয়। এর অর্থ হলো, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে নতুন করে কোনো মানুষকে দাস হিসেবে আনা অবৈধ হয়ে যায়, কিন্তু যারা আগে থেকেই দাস হিসেবে কাজ করছিলেন, তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। তবে এ আইনটি পাস হওয়ার ফলে আটলান্টিক দাসের বাজারের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে আটলান্টিক মহাসাগরে টহল দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় যাতে কোনো জাহাজ অবৈধভাবে দাস পাচার করতে না পারে।

১৮০৭ সালের আইনটি ছিল প্রথম বড় পদক্ষেপ। এর প্রায় ২৬ বছর পর ১৮৩৩ সালে ‘স্লেভারি অ্যাবলিশন অ্যাক্ট’ পাসের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বত্র দাসপ্রথাকে আইনত নিষিদ্ধ করা হয়। ১৮০৭ সালের ২৫ মার্চের সেই সিদ্ধান্তটি বিশ্বকে এ বার্তা দিয়েছিল যে, অর্থনৈতিক মুনাফার চেয়ে মানবিক মর্যাদা অনেক বেশি মূল্যবান। এটি পরবর্তী সময়ে আমেরিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাকিস্তানি রিভলভার ও গুলিসহ যুবক আটক

কক্সবাজারে পাচারচক্রের সদস্য আটক

আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া লড়াই

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বাগযুদ্ধকে ‘প্রেমিক-প্রেমিকার ঝগড়া’ বললেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত

খাল নেই, তবু কোটি টাকার সেতু

দৃষ্টিহীন মালেকের হাত ধরে আলোকিত হচ্ছে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

দেশের ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

প্রকৃতির অলংকার অনিন্দ্যসুন্দর প্রজাপতি ‘হরতনি’

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, বিশ্বকাপ থেকে বাদ রেফারি ওমর আরতান

১০

নেইমারের চোটের বর্তমান অবস্থা জানাল ব্রাজিল

১১

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হয়নি : নেতানিয়াহু

১২

ডিআইজির কক্ষ থেকে আরও ২ কালনাগিনী সাপ উদ্ধার

১৩

আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৪

নাইটক্লাব কাণ্ডে তদন্তে স্টোকস, নেতৃত্ব নিয়েও শঙ্কা

১৫

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক / ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার

১৬

চেকপোস্টে ৩ বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ যুবক আটক

১৭

জোড়া পেনাল্টিতে নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নেদারল্যান্ডসের

১৮

ভোরে ঝরল ৪ প্রাণ

১৯

অপরাধবিষয়ক টিভি অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করল ইরাক

২০
X