কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০২:২০ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয়

দ্রুত কার্যকর হোক

দ্রুত কার্যকর হোক

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেওয়া আদালতের রায় দেশের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর সংঘটিত এ নৃশংস অপরাধ পুরো জাতিকে শোকাহত ও ক্ষুব্ধ করেছিল। সে ঘটনার বিচার মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হওয়া বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে বিচারক বলেছেন, এ মামলা শুধু একটি ফৌজদারি বিচার নয়। এটি সমাজের বিবেক, মানবতা এবং ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। বিচারকের এ পর্যবেক্ষণ বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কারণ শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়। এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তাবোধকে আঘাত করে।

এ মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার গতি। তদন্তকারী সংস্থা অল্প সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দিয়েছে। প্রসিকিউশন দ্রুত সাক্ষীদের আদালতে হাজির করেছে। আদালতও অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার সম্পন্ন করেছে। ফলে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলার যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে, এ বিচার তার বিপরীত একটি উদাহরণ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের অনেক আলোচিত মামলা বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তে বিলম্ব হয়। সাক্ষী হাজির হয় না। ফরেনসিক রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। আপিল প্রক্রিয়াও দীর্ঘ হয়। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। অপরাধীদের প্রতিও ভয় কমে যায়। রামিসা হত্যা মামলার বিচার দেখিয়েছে, রাষ্ট্র চাইলে দ্রুত তদন্ত এবং দ্রুত বিচার সম্ভব। প্রয়োজন আন্তরিকতা, সমন্বয় এবং দক্ষতা। তাই এ মামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। শিশু ও নারী নির্যাতনের অন্যান্য মামলাতেও একই মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।

এখন জনমনে আরেকটি প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মানুষ শুধু দ্রুত রায়েই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না। তারা চায় আইনি প্রক্রিয়ার বাকি ধাপও অযথা দীর্ঘ না হোক। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক। উচ্চ আদালতের পর্যালোচনা, আপিল এবং অন্যান্য আইনগত অধিকার সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার অংশ। এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে হবে। কিন্তু সে প্রক্রিয়া যেন অকারণ বিলম্বের শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

দ্রুত বিচার মানে শুধু দ্রুত রায় নয়। দ্রুত বিচার মানে আইনসম্মত, নিরপেক্ষ এবং সময়মতো বিচারিক নিষ্পত্তি। বিচারপ্রার্থী পরিবার এবং সমাজ উভয়ই সেই নিশ্চয়তা চায়। দীর্ঘসূত্রতা ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে সময়মতো বিচার মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি বিশ্বাস বাড়ায়। রাষ্ট্রের জন্য এখানেই বড় শিক্ষা রয়েছে। শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত সংস্থা, প্রসিকিউশন, আদালত এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।

রামিসা আর ফিরে আসবে না। তার পরিবারের শোকও কোনো রায় মুছে দিতে পারবে না। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করা সম্ভব, তা হলো ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখা। দ্রুত বিচার এই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন প্রয়োজন আইনসম্মত উপায়ে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিও দ্রুত সম্পন্ন করা। তবেই এ বিচার সত্যিকার অর্থে একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিচারককে হাইকোর্টে তলব / হবিগঞ্জে ৫ বছরেও শেষ হয়নি ‘ধর্ষণ ও হত্যা’ মামলার বিচার

নকল ও ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অপ্রতুল : বিএসটিআইকে ক্যাব

ইরান ও হুথিদের পদক্ষেপের প্রশংসায় হিজবুল্লাহ

মিরপুরে বৃষ্টির হানা, খেলা না হলে কে জিতবে?

শেষ ম্যাচে তারকাবহুল দল নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত বেড়ে ৩,৬৬৬

স্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে লেবানন

বাজেটে বেতন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর

রাজশাহীতে বাড়ছে ডেঙ্গু উদ্বেগ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি, এসএসসি পাসেই আবেদন

১০

চার খাতে অতিরিক্ত ৪২৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকির চাপ : অর্থমন্ত্রী

১১

তাপপ্রবাহ নিয়ে নতুন বার্তা

১২

তিন নতুন জিরো : ইউনূস সরকারের তিক্ত প্রাপ্তি

১৩

অভিজ্ঞতা ছাড়াই সিটি ব্যাংকে চাকরি, আবেদন অনলাইনে

১৪

ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ এক ডাচ ডিফেন্ডারের

১৫

ডিজিটাল মাধ্যমেও নারী-শিশুরা নিরাপদ নয় : নিপুণ রায় 

১৬

বকেয়া পৌরকরে ১৫ শতাংশ সারচার্জ মওকুফের ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

১৭

উত্তরা মটরসে চাকরি, বেতন ৪০ হাজার টাকা

১৮

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ২০ জনকে নিয়োগ দেবে মিনিস্টার, এখনই আবেদন করুন

১৯

১১ রানে হারল বাংলাদেশ

২০
X