

হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক নন, তিনি এক যুগের আবেগ, এক প্রজন্মের চিন্তার প্রতীক। তার কলমে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের জীবন, প্রেম, বেদনা এবং স্বপ্ন একাকার হয়ে উঠেছিল। মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিই তার সাহিত্যকে তার সময়ে সবচেয়ে আলাদা ও গভীর করে তুলেছে। মানুষের মনের ভেতরের অদৃশ্য জগৎ—ভয়, একাকিত্ব, অপরাধবোধ, ভালোবাসা, বিভ্রম, কিংবা অজানা আকর্ষণ—এসবকে অসাধারণ সূক্ষ্মতায় তুলে ধরেছিলেন হুমায়ূন। তার সৃষ্ট চরিত্র মিসির আলি মনস্তত্ত্বের সরাসরি প্রতীক—একজন যুক্তিবাদী মনোবিজ্ঞানী, যিনি মানুষের আচরণের আড়ালে থাকা অবচেতনের রহস্য উন্মোচন করেন। আবার বিপরীতে হিমু হলো মানবমনের অযৌক্তিক, মুক্ত, স্বপ্নদর্শী দিকের প্রতিরূপ। এ দুই চরিত্রের মধ্য দিয়ে হুমায়ূন মানুষকে দেখিয়েছেন—মস্তিষ্ক ও মনের, যুক্তি ও অনুভূতির চিরন্তন সংঘাত। ১৩ নভেম্বর তার জন্মদিন।