

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন হতে বাকি আছে মাত্র দুই সপ্তাহ। ৪ অক্টোবর নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে তপশিল ঘোষণা করা হলেও তা নিয়ে তেলেসমাতি চলছেই। গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিসিবির নির্বাচনে ভোটারদের তালিকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সেই তারিখ দুই দিন বাড়িয়ে করা হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ফলে নির্বাচনের তপশিলের ২০ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রথম ধাপটি পিছিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে এই তারিখ বাড়ানোর মধ্যে চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছে নির্বাচনে বুলবুলের বিপরীত পক্ষ। তাদের দাবি, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্বার্থ রক্ষার কারণে ক্রীড়া প্রশাসন সরকারের প্রভাব খাটিয়ে এসব কাণ্ডকারখানা করছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তে তপশিল ঘোষণা করে সেটি আবার বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়াই পাল্টে ফেলার মতো সরকারপক্ষের এহেন আচরণকে অস্বাভাবিক ও নিয়মবহির্ভূত নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাওয়া একাধিক প্রার্থী। এসব বিষয়ের আইনগত বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কর্মকর্তারা। তাদের কেউ কেউ সহসাই আইনের আশ্রয় নেবেন বলে কালবেলাকে জানিয়েছেন।
১৪ সেপ্টেম্বর বিসিবি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, কাউন্সিলরশিপ জমা দিতে ক্লাব, জেলা ও বিভাগগুলোকে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা এখন আরও তিন দিন বেড়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিভাগ ও জেলার কাউন্সিলরদের নাম প্রেরণের জন্য গতকাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। কিন্তু কার স্বার্থে বারবার পেছানো হচ্ছে কাউন্সিলরশিপ জমার দিনক্ষণ, তা জানতে বোর্ড প্রেসিডেন্ট বুলবুলকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। একটি পক্ষ জানাচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে অনিয়ম খুঁজে পাওয়া ১৪টি ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে নানা ছক কষছে ক্ষমতাসীন পক্ষটি। সেই জটিলতা নিরসনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জেলার কাউন্সিলরদের নাম নিয়ে আপত্তি থাকায় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে নতুন করে নাম চাওয়া হয়েছে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী ও বিসিবি সভাপতির নিজের স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠিতে।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রির ভাবনা ছিল নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু কাউন্সিলরদের তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় সেটাও পিছিয়ে গেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত একজন প্রার্থীর কাছে এমন ঘটনাকে কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা হচ্ছে বলে মনে হয়েছে। সম্ভাব্য ওই প্রার্থী কালবেলাকে বলেন, ‘কার স্বার্থে বোর্ড এমন করছে, কেন করছে—সেটা জানানো জরুরি মনে করি। এগুলো বর্তমান প্রেসিডেন্টের গায়েও কলঙ্ক মেখে দিচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।’ আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থীও একই সুরে বলেন, ‘জেলা ও বিভাগগুলো মনে হয় ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে ক্রীড়া প্রশাসন। যে কারণে তৃতীয়বারের মতো পেছাল কাউন্সিলরশিপ জমার দিনক্ষণ।’ একই সঙ্গে ১৪ ক্লাবের সমস্যার কথাও সামনে তুলে ধরেন তিনি।
নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের অধীনে বড় অনিয়ম হয়েছিল ক্লাব ক্রিকেটে। যেখানে ১৪টি ক্লাবের ব্যাপারে দুদকের তদন্তে অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্লাবগুলোর সঙ্গেও সমঝোতার চেষ্টা চলছে ক্রীড়া প্রশাসনের। অর্থাৎ সরকার মনোনীতদের ভোট দিতে রাজি হলেই ছাড় দেওয়া হবে তাদের। সেক্ষেত্রে ৫০-৬০ শতাংশ সমঝোতায় এলেই সবাইকে ছাড় দেওয়ারও আশ্বাস মিলেছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সরকার থেকে বিসিবি নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর কালবেলাকে বলেন, ‘যা হচ্ছে কিছুই ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভালো মনে হচ্ছে না। এগুলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ বিসিবি প্রেসিডেন্ট বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনও সাবেক এই অধিনায়কের এমন সব কর্মকাণ্ডে বিব্রত ও হতাশ।