কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মণিপুর রাজ্যের সহিংসতা নিয়ে মুখ না খোলায় সংসদে (লোকসভায়) বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব করলে এটি গ্রহণ করেন স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক দিনের মধ্যেই ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে। খবর এনডিটিভির।

লোকসভায় গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসাম থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য গৌরব গগৈ এ অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। ইন্ডিয়ার পক্ষে এই প্রস্তাবের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের শাসক দল ভারত রাষ্ট্র সমিতির (বিআরএস) তরফ থেকে নম নাগেশ্বর রাও পৃথক আরেকটি অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। বিআরএস ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক নয়। তাদের নীতি কংগ্রেস ও বিজেপি দুই দলের সঙ্গেই সমদূরত্ব বজায় রাখা। প্রস্তাব বিধিসম্মতভাবে পেশ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন স্পিকার ওম বিড়লা। তারপর সেটি গৃহীত হলে আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক করবেন।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিতে লোকসভার অন্তত ৫০ সদস্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন। সেই সংখ্যা ইন্ডিয়া জোটের আছে; কিন্তু প্রস্তাবটি পাস করানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা লোকসভায় বিরোধীদের নেই। কাজেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আনা এই দ্বিতীয় প্রস্তাব আলোচনার পর ভোটাভুটিতে যে খারিজ হয়ে যাবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে এর আগে ২০১৮ সালে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল তেলুগু দেশম পার্টি। ৩২৫-১২৬ ভোটে সেটি খারিজ হয়েছিল। অনাস্থা প্রস্তাব একবার খারিজ হলে পরবর্তী অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিতে গেলে ছয় মাস অপেক্ষায় থাকতে হয়।

ইন্ডিয়া জোট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাব খারিজ অনিবার্য জেনেও এ উদ্যোগের কারণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মণিপুরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে জবাবদিহিতে বাধ্য করানো। গত ৯ বছরে কোনো বিষয়ে তিনি সংসদের ভেতর অথবা বাইরে কাউকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি। পৌনে তিন মাস ধরে মণিপুর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ, তা সত্ত্বেও তিনি সংসদে নীরব। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন সভাকক্ষের বাইরে ৩৬ সেকেন্ডের জন্য মুখ খুলে শুধু বলেছিলেন, ‘দেশবাসীর মাথা লজ্জায় নত হয়ে গেছে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’ মণিপুরে নিজের দলের সরকার থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করেননি, তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেননি; এমনকি সরকার লোকসভা ও রাজ্যসভা কোথাও মণিপুর নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনার দাবি মেনে নেয়নি। তাই বিরোধী জোট অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

মণিপুরের জাতিগত দাঙ্গা শুরু হয়েছে ৩ মে। সেই থেকে প্রায় দেড়শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত এক হাজারের বেশি। সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও গির্জা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গৃহহীনের সংখ্যা অন্তত ৬০ হাজার। মণিপুরের এই দাঙ্গার আঁচ পড়েছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য মিজোরামেও।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাভারে খঞ্জনকাঠি খাল উদ্ধার করল উপজেলা প্রশাসন

শোক ও গৌরবের একুশে আজ

২১ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

ইতিহাসের এই দিনে যত ঘটনা

গ্রিজমানদের খালি হাতেই ফেরত পাঠাল ইন্টার মিলান  

একটি হুইল চেয়ারের আকুতি প্রতিবন্ধী সিয়ামের

ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে চবিতে ফুলের দাম বেড়েছে ৩ গুণ

সীমান্তে শেষবারের মতো সরুকজানের লাশ দেখল স্বজনরা

‘উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই’- প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

‘ডাল ভাত খেয়েও যুদ্ধ করতে পারি’

১০

ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

১১

কোম্পানি রিটার্নের মেয়াদ ২ মাস বাড়ানোর দাবি এফবিসিসিআইর

১২

ন্যায্যতা সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস / উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান 

১৩

এমপিদের থোক বরাদ্দের আগে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি টিআইবির

১৪

চাকরি গেল জাবির আলোচিত সেই শিক্ষকের

১৫

পঞ্চগড়ে বন্যহাতির আক্রমণে যুবক নিহত

১৬

অনলাইনে ভিডিও দেখে গামছা বিক্রেতার ছেলের মেডিকেলে চান্স

১৭

বাড়ছে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম

১৮

‘দুই-তিনটা লাশ ফেলে দেব’- ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

১৯

বোরকা পরে বোনের পরীক্ষা দিতে এসে আটক ভাই

২০
X