কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩, ০২:২৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আ.লীগের সংঘর্ষে নিহত যুবক রেজাউল

রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের তিন অঙ্গসংগঠনের শান্তি সমাবেশ শেষে সংঘর্ষে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে। তার নাম রেজাউল ইসলাম। তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়ণখোলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে। গতকাল রোববার আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

গত শুক্রবার গুলিস্তানে শান্তি সমাবেশ শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ জন আহত হন। হাসপাতালে নিলে তাদের মধ্যে এক যুবক মারা যান। শুরুতে তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা গেলে তার নাম রেজাউল ইসলাম।

রেজাউলের চাচা আজাহারুল ইসলাম জানান, মোবাইল ফোনে পুলিশ তার ভাতিজার মৃত্যুর খবর জানায়। তাদের ঢাকায় গিয়ে রেজাউলের লাশ আনতে অনুরোধ করে।

স্বজনরা জানান, কৃষক আবদুস সাত্তারের প্রথম সন্তান রেজাউল যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস বিভাগের ছাত্র ছিলেন। দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি বড়। রেজাউল রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। ময়মনসিংহের জামিয়া ফয়জুর রহমান মাদ্রাসা থেকে পড়া শেষ করে ঢাকায় দাওরায়ে হাদিস পড়তে যান। কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে আসেন। পরে গত বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য আবার ঢাকায় যান।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে লাশ নিতে আসা রেজাউলের বোনজামাই জুয়েল মিয়া জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর অসুস্থ থাকায় খিলগাঁওয়ে তার বেয়াইয়ের বাসায় যাওয়ার সময় বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ পড়তে যান রেজাউল। এর পরই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, রেজাউলের মৃত্যুর খবরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা বিলাপ করছেন। মা রেনুজা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ছেলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে গিয়েছিল। গত শুক্রবার সকালে ফোন করে তিন হাজার টাকাও চাইছে। টাকা পাঠানোর আগেই ছেলেরে মেরে ফেলা হলো।

বাবা আবদুস সাত্তার বুক চাপড়ে বলেন, ‘কত কষ্ট কইরা লেহাপড়া (লেখাপড়া) করাইতাছি। শুক্রবার দুপুরেও মোবাইলে কথা হইল। পুলাডা ডেঙ্গু পরীক্ষা করব বইলা তিন হাজার টাকাও চাইছে। জুমার দিন বাজারের দোকান বন্ধ আছিল বইলা পাঠাবার পাই নাই। পরদিন সকালে তো শুনি বাপ আমার নাই। আমার বাপের কী দোষ, ও তো কোনো দল করত না। তাইলে কেন অরে মারল? আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করি, আমার পুলারে যারা মারছে, আপনে তাদের সঠিক বিচার করবাইন।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২১ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

ইতিহাসের এই দিনে যত ঘটনা

গ্রিজমানদের খালি হাতেই ফেরত পাঠাল ইন্টার মিলান  

একটি হুইল চেয়ারের আকুতি প্রতিবন্ধী সিয়ামের

ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে চবিতে ফুলের দাম বেড়েছে ৩ গুণ

সীমান্তে শেষবারের মতো বোনের লাশ দেখলো স্বজনেরা

‘উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই’-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

‘ডাল ভাত খেয়েও যুদ্ধ করতে পারি’

ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

কোম্পানি রিটার্নের মেয়াদ ২ মাস বাড়ানোর দাবি এফবিসিসিআইর

১০

ন্যায্যতা সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস / উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান 

১১

এমপিদের থোক বরাদ্দের আগে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি টিআইবির

১২

চাকরি গেল জাবির আলোচিত সেই শিক্ষকের

১৩

পঞ্চগড়ে বন্যহাতির আক্রমণে যুবক নিহত

১৪

অনলাইনে ভিডিও দেখে গামছা বিক্রেতার ছেলের মেডিকেলে চান্স

১৫

বাড়ছে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম

১৬

‘দুই-তিনটা লাশ ফেলে দেব’- ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

১৭

বোরকা পরে বোনের পরীক্ষা দিতে এসে আটক ভাই

১৮

ভক্তদের বিরাট-আনুশকার সুখবর

১৯

নতুন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় রমরমা ‘ব্যাকডেট’ নিয়োগ বাণিজ্য

২০
X