রাফসান জানি
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৪১ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

পিলারের লোভে কোটি টাকা খোয়ালেন সাবেক এমপি

চক্রের চারজন গ্রেপ্তার
পিলারের লোভে কোটি টাকা খোয়ালেন সাবেক এমপি

জমি খুঁড়তে গিয়ে ম্যাগনেটিক পিলার পেয়েছে এক কৃষক। আমেরিকান কোনো প্রতিষ্ঠান জানতে পারলে কিনে নেবে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকায়। এমন উড়ো খবর যায় এক সাবেক এমপির কানে। তিনি আবার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানেরও কর্ণধার।

দীর্ঘ দর কষাকষির একপর্যায়ে একটি ‘মার্কিন কোম্পানি’র সঙ্গে যৌথভাবে ২৫০ কোটি টাকায় পিলার কিনতে রাজি হন ওই সাবেক এমপি। এর মধ্যে ৩৫ কোটি টাকা নিজে দিতে রাজি হন। চুক্তির সময়ই সাড়ে ৩ কোটি টাকা দিয়ে দেন। বাকি সাড়ে ৩১ কোটির চেক দেন। ২৫০ কোটির বাকি ২১৫ কোটি টাকা আমেরিকান ওই প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ডিরেক্টর দেবে বলে তাকে জানায়। পিলার কেনার এমন সাজানো চুক্তি ও বৈঠক হয় ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। ২৫০ কোটি টাকায় পিলারটি কিনে ৫০০ কোটিতে বিক্রি করা হবে বলে জানানো হয় তাকে। কথা মতো ৩৫ কোটির লভ্যাংশের শেয়ারও বুঝে নেন সাবেক ওই সংসদ সদস্য।

চুক্তির পর ম্যাগনেটিক পিলারটি নিয়ে হোটেল থেকে বের হন। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরই সিনেমার দৃশ্যের মতোই ডাকাতের কবলে পড়েন। লুট হয়ে যায় ৩৫ কোটি দামের পিলার। এ ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানে কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংবা বিক্রেতা কৃষকসহ পিলার সংশ্লিষ্টরা। একপর্যায়ে ওই এমপি বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। সবই ছিল সাজানো নাটক।

পরে রমনা থানায় মামলা করেন তিনি। মামলাটির তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) রমনা বিভাগ। তদন্তে ডিবি জানতে পারে, সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরিচয় হওয়া আমেরিকার হেরিটেজ অকশন কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর, কৃষক ও ম্যাগনেটিক পিলার সবই ভুয়া। প্রতারণার জালে ফাঁসাতে ভিন্ন নাম-পরিচয়ে তার সামনে হাজির হয় এই নাটকের সব কুশীলব।

গত রোববার ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজিয়া ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল পিলার প্রতারক চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলো মো. মিজানুর রহমান মজনু, মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে তাহেরুল ইসলাম, মো. জসিম ও ইব্রাহিম ব্যাপারী। তাদের কাছ থেকে কথিত ব্রিটিশ সীমানা পিলার, চারটি প্রাচীন কয়েন, নগদ ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন, একটি চুক্তিপত্র, ৩২টি চেক, ভুয়া ভিজিটিং কার্ড ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

নাজিয়া ইসলাম কালবেলাকে জানান, প্রতারক চক্রের প্রধান তাহেরুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন কাজ করে। তার মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, চক্রটি চার থেকে পাঁচটি গ্রুপে কাজ করে। তাহেরুল ইসলাম আমেরিকার হেরিটেজ অকশন কোম্পানির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর, মজনু গ্রামের কৃষক, পিলারটি আসল না নকল তা বোঝানোর জন্য কেমিস্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয় জসিমকে। হোটেল থেকে বের হওয়ার পর যে ডাকাতরা হামলা করে, তারাও ওই চক্রের সদস্য। এভাবেই লোভের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

সাবেক ওই এমপির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সদস্যরা ভাগাভাগি করে নেয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্র্যাকে চাকরির সুযোগ, বয়সসীমায় ছাড়

সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল

সাংবাদিক ও কবি তালাত মাহমুদ মারা গেছেন

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আবারও ইয়েমেনিদের হুঁশিয়ারি

বাড়ির আঙিনায় ড্রেনের পানি, দুর্গন্ধ ও মশায় অতিষ্ঠ

পাহাড়ি হলুদের দাম দ্বিগুণেরও বেশি, তবু কেন এত কদর

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক ধ্রুপদী সংগীত সম্মেলন শুরু

১৩ জেলায় তীব্র ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

ত্রিপুরা ভাষায় পাঠদান না থাকায় চট্টগ্রামে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী

লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা, ১৭ দিনে ঝরল ৭ প্রাণ

১০

ওডেশায় রুশ ড্রোন হামলায় নিহত বেড়ে ১০

১১

চার বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

১২

৪ মার্চ : নামাজের সময়সূচি

১৩

সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকায় যাবেন না

১৪

আজ ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

১৫

নিয়মিত খেজুর খেলেই মিলবে উপকার

১৬

খাবার অযোগ্য চাল সরবরাহের অভিযোগ

১৭

ফোডেন জাদুতে ইউনাইটেডকে হারাল ম্যানসিটি

১৮

কোস্টগার্ডের অভিযানে ৯০ মণ জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ

১৯

শুস্ক মৌসুমে যমুনার ভাঙন, অর্ধ-শতাধিক বাড়িঘর বিলীন

২০
X