রীতা ভৌমিক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩, ০২:২৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

স্থানীয় প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে

কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের নারীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারসহ দেশের বাইরেও বিক্রি করছেন।

লিখেছেন রীতা ভৌমিক-

কুয়াকাটা থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মিশ্রিপাড়া। এখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বাস। মিশ্রিপাড়ার এই রাখাইন পল্লিতে কয়েকটি দোকান নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি ব্যবসা কেন্দ্র। এখানে কাপড়, কসমেটিকস, আচার, শো-পিস, জুয়েলারির কয়েকটি দোকান রয়েছে। এই দোকানগুলোর একটিতে শাড়ি, বিছানার চাদর, শাল, থ্রি-পিস, কামিজের পসার সাজিয়ে বসেছেন নুয়েসে রাখাইন। কুয়াকাটা থানাবাদ ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। লেখাপড়ার পাশাপাশি দোকানও সামলান তিনি।

নুয়েসে রাখাইনের মতে, বড় বোন এনাখিন রাখাইন আর মা তেনুসে রাখাইন দোকান দেখাশোনা করতেন। বড় বোনের বিয়ের পর সংসার, বাচ্চা, কাপড় বুনন সব সামলাতে গিয়ে দোকানে বসতে পারেন না। বড় বোনের বদলে আমি কলেজ থেকে ফিরে দোকানে বসি। দুর্গম রাস্তার কারণে রাত ৮টার পর পর্যটকরা আর এদিকে আসেন না। এর ফলে ব্যবসায়িকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নুয়েসে তৃতীয়। তিনি চাদর না বুনলেও পরিবারের সবাই চাদর, শাড়ি বোনেন। বাবা বাখেন রাখাইনও চাদর বোনেন। নিজেদের পণ্য নিজেরাই বিক্রি করবেন ভেবে ২০১০ সালের দিকে বাজারে মা-বাবার ফ্যাশন সেন্টার নামে একটি কাপড়ের দোকান দেন। কাপড় বুননের পাশাপাশি এ ব্যবসাটিও চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

নুয়েসের পরিবারের মতো রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্য পরিবারের সদস্যরাও সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে গামছা, লুঙ্গি, শাড়ি ও জামার কাপড় বোনেন। একটি চাদর বুনতে ৫ থেকে ৬ দিন লাগে। তাদের তৈরি উৎপাদিত পণ্য রাখাইন পল্লির স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। কেউ কেউ নিজেরা দোকান দিয়েছেন। কেউ কেউ অন্যের দোকানে বিক্রি করেন।

তেনুসে রাখাইন বলেন, যাতায়াতব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় মিশ্রিপাড়ার রাখাইন পল্লির উৎপাদিত পণ্য সেভাবে বাজার তৈরি করতে পারেনি। কারণ এটি মৌসুমি ব্যবসা। শীতকালে পর্যটকরা কুয়াকাটায় এলে তখন বিক্রি কিছুটা বাড়ে। করোনা এ ব্যবসায়ে ধস নামিয়েছে। এরপর আবার দুর্গম রাস্তা। স্থানীয় চেয়ারম্যান রাস্তা সংস্করণে বাধা দিচ্ছেন। রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে এই এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ। সরকার রাস্তা সংস্করণ করলে আমরা ব্যবসায়ীরাই শুধু উপকৃতই হতাম না, আমাদের যাতায়াতব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটত। শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা, শহরের সঙ্গে যোগাযোগের পথটা সুগম হতো।

তিনি আরও বলেন, যাতায়াত সমস্যার কারণে বেশিরভাগ পর্যটকই মিশ্রিপাড়ায় আসতে আগ্রহ দেখান না। দোকানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় যারা আসেন তাদের সব দোকান থেকে কেনা সম্ভব হয়ে ওঠে না। দেখা যায়, অনেকে সকাল থেকে দোকান খুলে বসে থাকলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না। আবার ঢাকার ব্যবসায়ীরা অর্ডার দিয়ে এই পণ্য ঢাকাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছেন; কিন্তু তারা অর্ডার দিয়ে পণ্য নিয়ে কোন দেশে পাঠাচ্ছেন, তা আমাদের জানান না। ঢাকার বিভিন্ন মেলায়ও আমাদের পণ্য নিয়ে অংশ নিই। তখন যা বেচাকেনা হয়।

নেত্রকোনা থেকে আসা পর্যটক আলপনার মতে, মিশ্রিপাড়ার রাখাইন বৌদ্ধ মন্দিরটি অনেক প্রাচীন। বৌদ্ধ মন্দিরটি দর্শনের টানে অনেক পর্যটক এখানে আসেন। সেই সঙ্গে বাড়তি আকর্ষণ রাখাইন পল্লি ঘুরে দেখা ও পাশেই বাজারের দোকান থেকে তাদের উৎপাদিত পণ্য পছন্দসই কেনা। আমিও সেই টানেই এখানে এসেছি; কিন্তু এরকম বিপজ্জনক রাস্তা পেরিয়ে কোনো পর্যটক এখানে আসার পথে যে কোনো দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন। দুর্গম ৮ কিলোমিটার পথে পুলিশ টহলের ব্যবস্থাও নেই। অথচ প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় একটি তীর্থস্থান। রাস্তাটি সংস্করণ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি, এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আমি মনে করি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বঙ্গবন্ধুর দুঃসময়ের বন্ধু, কিংবদন্তি রাজনীতিক শওকত আলী

১৩০ টাকায় শুরু করা নার্সারির বাজারমূল্য ২০ লাখ

যশোরে ভাষা শহীদদের স্মরণে ৫২শ মোমবাতি প্রজ্বলন

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল

সাভারে খঞ্জনকাঠি খাল উদ্ধার করল উপজেলা প্রশাসন

শোক ও গৌরবের একুশে আজ

২১ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

ইতিহাসের এই দিনে যত ঘটনা

গ্রিজমানদের খালি হাতেই ফেরত পাঠাল ইন্টার মিলান  

একটি হুইল চেয়ারের আকুতি প্রতিবন্ধী সিয়ামের

১০

ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে চবিতে ফুলের দাম বেড়েছে ৩ গুণ

১১

সীমান্তে শেষবারের মতো সরুকজানের লাশ দেখল স্বজনরা

১২

‘উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই’- প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

১৩

‘ডাল ভাত খেয়েও যুদ্ধ করতে পারি’

১৪

ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

১৫

কোম্পানি রিটার্নের মেয়াদ ২ মাস বাড়ানোর দাবি এফবিসিসিআইর

১৬

ন্যায্যতা সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস / উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান 

১৭

এমপিদের থোক বরাদ্দের আগে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি টিআইবির

১৮

চাকরি গেল জাবির আলোচিত সেই শিক্ষকের

১৯

পঞ্চগড়ে বন্যহাতির আক্রমণে যুবক নিহত

২০
X