

কত দিন হলো
কত দিন হলো দেখতে পাইনি গাঙপাড়ে সাদাকাশ দেখতে পাইনি ডানা মেলে ওড়া ঝাঁকেঝাঁকে বালিহাঁস। দেখতে পাইনি কাজলা বিলের শাপলা ফুলের হাসি... রঙিন পালের সারি সারি নাও ছুটে চলা পাশাপাশি।
কত দিন হায় দেখিনি চাষির উঠোনে ধানের গোলা কত দিন হলো পিঠার গন্ধে হয়নি তো মনভোলা কত দিন হলো ঘাসের শিশিরে হয় নাই হাঁটাহাঁটি হয়নি তো শোয়া গাছের ছায়ায় বিছিয়ে শীতলপাটি কত দিন হায় মোরগের বাগ শুনতে পাইনি ভোরে কত দিন হলো ডাকপিয়নের হাঁক শুনি নাই দোরে
কত দিন হায় দেখা হয় নাই শালবনে পাতাঝরা কত দিন হলো মাঠে ছুটে ছুটে হয়নি ফড়িং ধরা কত দিন হলো 'আয়রে খোকন' ডাকটি শুনিনি মায়ের কত দিন হলো খবর নেয়াই হয়নি সবুজ গাঁয়ের।
কত দিন হলো দেখিনি বাড়ির আতাগাছে কাকাতুয়া-- শুনিনি পেঁচার হুমহুম ডাক, শেয়ালের হুয়াহুয়া। লিচুডালে বড়ো মৌচাকখানি দেখিনি তো কতদিন গাঁয়ের মায়ের কাছে যে আমার হয়ে…
মেঘের সাথে খেলা
দল বেঁধে মেঘ যাচ্ছ কোথায় আকাশগাঙে ভেসে একটুখানি দাঁড়াও আমার দৃষ্টিসীমায় এসে পড়ার ঘরের শার্সি দিয়ে দেখবো আমি চেয়ে কেমন করে পাখনা দোলায় মিষ্টি মেঘের মেয়ে।
ও মেঘ তুমি চলছ কোথায়, কোন্ সাগরের তীরে সেই সায়রে মিশবে বুঝি মেঘপরীদের ভিড়ে নাও না আমায় আমিও যাব তোমার সাথে ভেসে একটু না-হয় হারিয়ে যাব মনহারানোর দেশে।
হারিয়ে গিয়ে মেঘের দেশে বাড়িয়ে দেবো ডানা মনটা তখন খুশির চোটে হবে যে আটখানা মেঘপরীরা আমার সাথে করবে কত খেলা খেলতে খেলতে বিকেল শেষে ফুরিয়ে যাবে বেলা।
বেলাশেষের আঁধার যখন নামবে ভুবন বেয়ে মা বুঝি ঠিক থাকবে আমার পথের দিকে চেয়ে ও মেঘ তখন যত্নে আমায় পৌঁছে দিও ঘরে ফিরলে মা-যে জড়িয়ে নেবে আদর-সোহাগ করে।
ও পেঁজামেঘ তুলোট তুলোট শারদমেঘের ভেলা কল্পনাতে তোমার সাথে আমার যত খেলা। পড়ার ঘরের জানলা দিয়ে নিত্য তোমায় দেখি অংক রেখে তোমায় নিয়ে পদ্য-ছড়া লেখি।
তুমি আমার ছড়ার পাখি, স্বপ্ন আঁকিআঁকি যখন তুমি বৃষ্টি ঝরাও অবাক চেয়ে থাকি।
শহর এবং আমি
ইটপাথরের শহর যেন বিষণ্ণতায় ঘেরা সামনে হাজার বাধার প্রাচীর হয় না ঘরে ফেরা। ইচ্ছে করে যাই বেরিয়ে শহর থেকে দূরে মন যেখানে মুগ্ধ হবে পাখপাখালির সুরে
ঘুরব গাঁয়ের মাঠে মাঠে, শস্যক্ষেতের আলে দেখব জেলে মাছের আশায় জাল ফেলেছে খালে খালের শেষে হিজলপুরের পথ পেরিয়ে নদী দোলদুলানো ঢেউরা নদীর ছুটছে নিরবধি। সন্ধ্যা হলে ফিরব কোনো অচিন চাষির ঘরে দুয়ার খুলে মিষ্টি হেসে নেবে আপন করে। চাষির বাড়ি রাত কাটিয়ে শহর ফেরার তাড়া কাজের মাঝে ডুবলে শেষে থাকবে না আর সাড়া।
শহর আমার ভাল্লাগে না, শহর বড়ো জ্বালায় বিকট জোরে শব্দ করে মানুষ গাড়ি চালায় ভিড়ভাট্টা, হট্টগোলে জীবন ওঠে তেতে তাও পারি না শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে। শহর আমার বাঁচার সহায় দিনযাপনের উপায় বাঁচার শেকল পরিয়ে রাখে শহর আমার দু'পায়।
শহর ছেড়ে হয় না যাওয়া; হাঁপিয়ে যখন উঠি পাহাড়-নদীর হাতছানিতে অচিন গাঁয়ে ছুটি। দু-এক দিনের স্বস্তি-সুখের আবেশ মেখে আবার শহরমুখো হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই ভাবার।
নদীপাড়ে
ছোট ছোট বাড়িগুলো ভারি সুন্দর কাঁচাপাকা শনঘেরা সারি সারি ঘর। সবুজের মাতামাতি ডাকে বেণুবন কাশঝোপে কিচিমিচি পাখির কুজন।
গাছ থেকে ধুপধাপ পড়ে পাকা বেল ছুটে চলে রেলগাড়ি বাজে হুইসেল। চাঁদমামা ডাকে আয়, মন নাই পাঠে বইখাতা সব ফেলে ছুটে যাই ঘাটে।
ভাটফুল দোলে কতো অই নদী তীরে পেঁজাতুলো মেঘগুলো নীলে যায় ভীড়ে মাঝরাতে নিঝ্ঝুম নেই চোখে ঘুম ঝাউবনে নিশিহাওয়া যেন ঝুমঝুম।
বসে আছি নদীপাড়ে জল চিকচিক জলপিপি উড়োউড়ি দেখি ঠিকঠিক। পালতোলা নাও ছোটে রোজ বহু দূর পাড়ঘেঁষে জেলেপাড়া মনোহরপুর।
মন যদি চায়
যখন আমার মন মানে না কোথায় হারাই কেউ জানে না স্বপ্ন মেলে ডানা যায় কি ঘরে থাকা? এইতো আমি ঘুরছি একা স্বপ্ন ডানায় ভেসে মাঠ পেরিয়ে হাঁটছি আমি মায়া দ্বীপের দেশে। দ্বীপের দেশে নদীর সাথে বন্ধু হয়ে খেলি কলকলানো নদীর সোরতে চোখের পাতা মেলি। ময়ূরপঙ্খি দেখে আমার সারাটাদিন কাটে মা খোঁজে তাই গলির মোড়ে পোড়াবাড়ির মাঠে। চাঁদ বরষায় ঝিলিমিলি তারার মাতামাতি জল পরিদের গল্প শুনে কাটাই সারারাতি। মন যদি চায় যাই হারিয়ে আমি মা জানে না কেউ মানে না আমার এ পাগলামি।
পাহাড় তুমি বন্ধু আমার
পাহাড় তুমি বন্ধু আমার প্রিয় টাইগার হিল তোমার সাথে সখ্যতা আর অন্য রকম মিল। সাত সকালে রাঙাআলো উঁকি দিয়ে ওঠে দার্জিলিংয়ের শৈল শহর ট্রয় ট্রেন ছুটে।
যায় হারিয়ে দূরের পাহাড় বাতাসি লুপ ছেড়ে শিলিগুড়ির চায়ের বাগান মনটাকে নেয় কেড়ে। পাহাড় তুমি বন্ধু আমার গুলমার্গ প্রিয় গন্ডোলাতে চড়ি আমি মনে সাহস দিও।
ভূস্বর্গে এসে যখন সোনমার্গ যাই সিন্ধু নদীর কলধ্বনি শুনতে শুধু পাই? লিডার নদী লিডার নদী ঝর্ণা বেয়ে নামো। নাও ভাসিয়ে রাফটিংয়ে পেহেলগামে থামো।
ঘোড়ায় চড়ে আরুভেলী মনের সুখে ঘুরি পাহাড় তুমি বন্ধু আমার নেইকো তোমার জুড়ি
আমি হতে চাই
আমি হতে চাই সক্রেটিস, প্লেটো, ওমর খৈয়াম বিশ্বসাহিত্যে ছড়িয়ে যাবে আমার সে সুনাম। আমি হতে চাই শিল্পী জয়নুল, এস এম সুলতান চারুকলায় আনব বয়ে বাংলাদেশের মান। আমি হতে চাই ইবনে বর্তুতা ফাহিয়েন ভাস্কোদা দেখব ঘুরে সাগর, মরু,পার হবো নর্মদা । আমি হতে চাই পর্বতারোহী এভারেস্ট করব জয় সেই খবরটা ছড়িয়ে যাবে সারা বিশ্বময়। আমি হতে চাই রোনালদো,পেলে, মেসি, ম্যারাডোনা দেশের গৌরব আনব বয়ে ঘোচাবো বঞ্চনা। আমি হতে চাই সিন্দাবাদ ও কলম্বাসের মতো আমার জাহাজ ঢেউ পেরিয়ে ছুটবে অবির…
ছুটির সুখে
বোশেখ মাসের এই ছুটিতে ঘুম কাতুরে চেয়ার ব্লাকবোর্ড আর ঘন্টির ও নেই কেয়ার।
শার্শিখোলা পুব জানালার ফাঁকে ভোরের আলো খোকন বলে ডাকে দেয় না সাড়া তাকে
জারুল বনে শুকনো পাতা উড়ছে উতল হাওয়ায় মনটা বড় ফুরফুরানো ছুটির মজা পাওয়ায়
নেইতোরে আজ নামতা পড়া সবুজ মাঠে পিটি খোকন সোনা নানুর কাছে লিখতে বলে চিঠি চিঠির ভাঁজে মুড়িয়ে দিলো গোলাপ ফুলের পাতা ছুটের সুখে উলোটপালট খোকন সোনার মাথা।