তূয়া নূর
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

তূয়া নূরের কিশোর কবিতা

তূয়া নূর। ছবি : সংগৃহীত
তূয়া নূর। ছবি : সংগৃহীত

দোষ

ভাঙলো যখন মাছের বাটি ছিড়লো যখন শিকে, অকাজ করার একজনই তো— আঙুল যায় তার দিকে।

দেয়াল ভরা আঁকাজোকা কাণ্ড গেছে ঘটে, কে করেছে? কে সে আবার! খবর গেছে রটে।

বিড়ালটা যে খুব নিরীহ কথা বলতে পারে? তাইতো সবাই ইচ্ছে মতো দোষ চাপায় তার ঘাড়ে

মাকে ডাকা

মা না বলে অন্য ভাষায় যায় কি মাকে ডাকা, মা ছাড়া যে বুকের ভেতর ভীষণ রকম ফাঁকা।

মা মা বলে ডেকে ডেকে অন্যরকম সুখ, ছোট্ট একটা শব্দ রাখে ভরে বিশাল বুক।

ইচ্ছে করে পাখির মতো যাই ডেকে এই বনে, মা যদি সেই সুদূর থেকে ডাকটা আমার শোনে।

ঢাউস চাঁদ

ধীরে ধীরে সন্ধ্যা ডেকে সূর্য গেলো ডুবে, ঠিক তখনই আলো মেখে চাঁদ উঁকি দেয় পূবে।

চাঁদ কী বলো দেখতে এমন ঢাউস মাপের হয়? দেখলে হঠাৎ পথে নেমে কার লাগে না ভয়?

শূন্য আকাশ একখানা চাঁদ কমলা চাদর পড়া, লুকোচুরি খেলা শেষে পড়লো ফাঁদে ধরা।

সূর্য থেকে সড়ো

আমার কাছে হাত বাড়ায়ে যখন তুমি দাঁড়ালে, শীতের কাঁপন লাগলো তখন সূর্য গেলো আড়ালে।

চাই না কিছুই, সামনে তোমার ছায়াটা যে বড়ো, আমার শরীর গরম করা সূর্য থেকে সড়ো!

টমেটো হলো রাঙা

ফল-ফলাদি হবার স্বপ্ন দিলো মনে দোল, কব্জি নেড়ে সবজি আলা বাঁধায় তখন গোল।

ইচ্ছে ছিলো আপেল হয়ে থাকবে খুকুর হাতে, কমলা, কলা, আঙ্গুর, ডালিম মিশবে তাদের সাথে।

কেটে তাকে রান্না করে— তাতেই হলো কাল, স্বপ্ন ভরা টমেটোর মুখ লজ্জায় হলো লাল।

হাত-পা ভাঙে

কালো মেঘের পাহাড় থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ে, একটা বিষয় তখন খোকার ভীষণ অবাক করে।

বৃষ্টি পড়ে ছাদের ওপর বৃষ্টি পড়ে গাঙে, আছড়ে পড়ে বরষা জলের হাত-পা বলো ভাঙে?

মানুষ

কোনো ডিমের খোলস সাদা বাদামী রঙ কারো, ভেতর কেমন বুঝতে হলে ভেঙে দেখতে পারো!

শক্ত খোলস একটু টোকায় যখন হলো ভাঙা, দেখা গেলো ডিমের অন্তর সমান ভাবে রাঙা।

বেলা যায়

সূর্য ডোবে— কতো রকম ভাবনা আসে ঝেঁপে, সাগর ছোঁয়া দূরের আকাশ রঙে কে দেয় লেপে।

রঙের খেলা মন ভরে দেয় যাদুর মায়ায় টানে, সাগর জলের একটানা সুর কি বলে যায় কানে?

সাগর ফেনা আছড়ে পড়ে বকের পায়ের কাছে, যে চলে যায় আটকে রাখার সাধ্য কী তার আছে?

ভাগ্য লেখা

হাতের তালু জুড়ে কতো আঁকা বাঁকা দাগ যে, গণক যারা জানতে পারে কি লেখা তার ভাগ্যে?

হাতটা ধরে চলে ভালো ভাগ্য গণার খেলা, গালিব বলেন, হাত যাদের নেই কী হয় তাদের বেলা!

দাঁত থাকতে

দাঁত থাকতে আমরা যে দাঁতের নেই না কোনো যত্ন, বুঝি না যে দাঁত আমাদের মূল্যবান এক রত্ন।

হারায় যখন অবহেলায় হয় না তখন কষ্ট, ফিরে তাকায় যখন এসে সময় তখন নষ্ট।

কবি পরিচিতি : তূয়া নূরের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের যশোর শহরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে লাভ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মেসিতে এম এস সম্পন্ন করে। বর্তমানে ফ্লোরিডাতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত। কবিতা, ছড়া, গল্প ও অনুবাদ তার প্রিয় বিষয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চলচ্চিত্রের গল্পে নারী সুরক্ষা ও দেশীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

জাপানের পর এবার নেপালেও নিষিদ্ধ ভারতের আম

গাড়ি চালিয়ে পার্থকে নিয়ে ‘সংসদের পথে’ প্রধানমন্ত্রী

দিনে কয়টি আম খাওয়া উচিত? সুস্থ থাকতে জানুন সঠিক পরিমাণ

বাজেটে বাড়ছে না সিগারেটের দাম

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নারীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

প্রথমবার ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত

ছুরিকাঘাতে লাদেন নিহত

বাজেটে পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর

১০

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

১১

পূর্ণিমাকে নিয়ে শাবনূর বললেন ‘আমাদের দা-কুড়াল সম্পর্ক না’

১২

দেশে নিবন্ধিত সিমের পরিমাণ জনসংখ্যার দ্বিগুণ

১৩

কুয়েতে গৃহকর্মী নিয়োগ : ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ 

১৪

রামিসার ডেথ রেফারেন্সসহ পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি উচ্চ আদালতে

১৫

সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো বাজেটই কার্যকর হবে না : বিরোধীদলীয় নেতা

১৬

জামায়াতের ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ

১৭

সাভার পৌর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

১৮

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে এই ৭ কথা বলা উচিত নয়

১৯

২০২৫ সালে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ

২০
X