কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শুভজিত বিশ্বাসের কবিতা- আমি কবি নই...

কবি শুভজিত বিশ্বাস। ছবি : কালবেলা
কবি শুভজিত বিশ্বাস। ছবি : কালবেলা

আমি কবি নই

আমি কবি নই তোমার ছেড়ে যাওয়া উদ্যানের এক টুকরো অবহেলা।

যাপিত জীবনের হৃদয় ভেদ করে গজিয়ে ওঠা ফুলগুলো যেখানে ঝড়ে পড়েছিল ভুল হয়ে। তার ঠিক পাশেই, একান্ত বিষণ্নতার গল্প হয়ে কাঁপতে থাকা আমি এক দুঃখশিশু। আমি কবি নই।

আমি কবি নই তোমার ছুড়ে দেওয়া অন্ধকারের একগুচ্ছ বিস্ফোরণ। উদ্ভ্রান্ত মাতাল, বেদনার স্রোতধারা, নাগ ঠোঁটে ব্যাঙের আত্ম চিৎকার।

শেষ চম্বুনের ঘোর থেকে বেরিয়ে আসা অপবিত্র জঞ্জাল। বিরহ সঙ্গীতের ঝংকার, নিয়তির দাবিহীন ছেলেখেলা। আমি কবি নই।

আমি কবি নই তোমার ছেড়ে যাওয়া উদ্যানের এক টুকরো অবহেলা।

তুমুল প্রেম

দেখে নিঅ, আমিও একদিন তোমার প্রেমে পড়বো। তুমুল প্রেম! বিষণ্নতার গল্প শেষে, তোমার সুডৌল বুকের কোমলতায় হারিয়ে যাবো। নিঃশব্দে, নীরবতায় রোমন্থন করবো তোমার প্রণয়ের ফল্গুধারা।

আমিও তোমার প্রেমে পড়বো। শ্রাবণের মেঘনার উথালপাথাল ঢেউয়ের মতো তোমার শিরায় উপশিরায় বইয়ে দেবো ভালোবাসার সুর ঝংকার! উন্মাদ প্রেমিক হয়ে ছুঁয়ে দেবো তোমার ওষ্ঠের সজীবতা! নেশাতুর লাল চোখ, উস্কো-খুস্কো চুল আর তৃষিত বুকের হাহাকারে প্রকম্পিত করবো তোমার চারিধার।

ভয় পেয়ো না! অসভ্য প্রেমিকের সহজাত প্রবৃত্তিকে ভয় পেতে নেই। উপভোগ করতে হয়।

দেখে নিঅ, তোমার জীবন তরঙ্গে আমি নতুন ফুলের সুবাস ছড়াবো। তোমার প্রতিটি পদচিহ্ন আমি রাঙিয়ে দেবো নতুন ঊষার আলোতে।

দেখে নিঅ, আমিও একদিন তোমার প্রেমে পড়বো। তুমুল প্রেম!

ভালোবাসি তোমায়

যদি তোমার ষন্ডা-পান্ডা-গুন্ডা মার্কা বড় ভাই মাথা ঝাকিয়ে কলার চেপে ভাঙা পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির অন্ধকার ঘরে নিয়ে দাঁত-হাত সব ভেঙে দেয়।

শ্যাওলা পড়া স্যাঁতস্যাঁতে পিচ্ছিল দেয়ালে মাথা ঠুকে রক্তাক্ত করে আমাকে। যদি ব্যথায় জ্ঞান শূন্য আমাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। তবুও দেখে নিঅ, সকালের শিশির মাড়িয়ে, ভাঙা হাত গলায় ঝুলিয়ে মাথায় ঈষৎ রক্তাক্ত ব্যান্ডেজ বেঁধে তোমার পথ আগলে দাঁড়িয়েছি আমি।

যদি তোমাকে উত্যক্ত করার দায়ে গ্রামে সালিশ বসে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে সারা গ্রাম ঘুরাতে চায়। হাজারটা মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেতে হয় আমাকে। তবুও দেখে নিঅ, মুচলেকা বেমালুম ভুলে গিয়ে, ক্রিকেট ব্যাট হাতে নিয়ে খেলার ছলে তোমার বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে আছি আমি।

যদি ভ্রাম্যমাণ আদালত তুলে নিয়ে যায় আমাকে।

তোমাকে ভালোবাসার দায়ে নিক্ষেপ করে কিশোর কারাগারে। কতো আর হবে? এক মাস, দু’মাস অথবা তিন মাসের জেল। তবুও দেখে নিঅ, জেল জীবনের কালো স্মৃতি ভুলে, মাথার লম্বা চুলে হাত বুলিয়ে ছিটি বাজিয়ে চলছি আমি তোমার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।

যদি তোমার বিরক্তির সীমা ছাড়িয়ে যায় আমার অত্যাচারে। তোমার কোমল ফুলেল মন হয়ে ওঠে বিদ্রোহী।

চৌরাস্তার মোড়ে জুতা খুলে সপাটে আঘাত করতে থাকো আমাকে। যদি তোমার সেই ষণ্ডা-পাণ্ডা-গুণ্ডা মার্কা বড় ভাই, তার বন্ধু, তার বন্ধুর বন্ধু এসে যোগ দেয় তোমার সাথে। রাস্তায় ফেলে আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত করো আমাকে। কান থেঁতলে যায়, বুক ছিলে যায়। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে। নাক মুখ দিয়ে গলগল করে বেরিয়ে আসতে থাকে কালো কালো রক্ত। যদি মনে হয়, আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, মারা যাচ্ছি আমি। তখনো দেখে নিঅ, ঝাপসা চোখেই তোমার দিকে তাকিয়ে আছি। ফোলা ফোলা রক্তাক্ত ঠোঁট। গলা ধরে আসছে। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। আওয়াজ বের হচ্ছে না। তবুও ঠিক আগের মতোই খুব শান্ত গলায় লাজুক হাসি দিয়ে আমি বলছি, ভালোবাসি তোমায়।

আমার আপন গানের আনন্দে

খুব ইচ্ছে করছে, আমি মরে যাই! সুন্দর গভীর অন্ধকারে হারিয়ে ফেলি নিজেকে। বিষণ্ণতার জঞ্জাল ছিঁড়ে, নীরবতার সাগর মন্থনে চলে যাই! আমার খুব ইচ্ছে করছে, আমি মরে যাই! স্বেচ্ছামৃত্যু!

কাঁকতাড়ুয়ার মতো নির্জীব প্রাণের স্পন্দনকে থামিয়ে দিয়ে, শব্দহীন গানের জোয়ারে ভাসিয়ে দিতে চাই আমার সব আবেগের শুষ্কধারা।

আমি নিঃশব্দের সৈকতে হেলিয়ে দিতে চাই আমার প্রাণহীন দেহকে। আমি মৃত্যুর মতো সুন্দর অন্ধকারের তীব্রতায় বিলীন করতে চাই নিজেকে। আমি পাশবিকতার সর্বোচ্চ আনন্দকে উপভোগ করতে চাই অসামাজিক হয়ে। আমি বজ্রের চূড়ান্ত উত্তাপ ঢেলে শীতল করতে চাই হৃদয়ের অবাধ্য স্পন্দনকে। আমি মরে যেতে চাই, মরে যেতে চাই। আমি স্বেচ্ছামৃত্যু চাই!

আকাশের ওপারে, তারাদের ঠিক পেছনে। যেখানে হিম অন্ধকার একে অপরকে প্রেয়সীর মতো জড়িয়ে আছে।

অমাবস্যার গল্পগুলো ভেদ করে আমি সেখানে পৌঁছাতে চাই, আমার আপন গানের আনন্দে! আমার খুব ইচ্ছে করছে, আমি মরে যাই!

কবির কথন : সত্যি বলতে আমি কবি নই। আমি পাঠক-কবিতার পাঠক। কবিতার ছন্দে নিজের জীবনকে উপভোগ করতে ভালোবাসি। এই ভালোবাসা কখনো কখনো অসহ্য সুখ হয়ে ওঠে; তখনই কলম হাতে নিই। কিছু আঁকিবুঁকি করি। আবার নিজেই পড়ি। আমিই আমার কবিতার প্রথম পাঠক। কখনো বই আকারে আমার লেখা প্রকাশিত হয়নি, যদিও কবিতার সংখ্যা কয়েক শত হবে। তবে বিভিন্ন সময়ে পত্রিকা কিংবা সাহিত্য ম্যাগাজিনে কিছু লেখা প্রকাশ পেয়েছে। সুপাঠ্য কিছু আমি কখনোই লিখতে পারি না—এমনটাই আমার বিশ্বাস। ছন্দের দখল, চিত্রকল্পের সীমাবদ্ধতায় আমার লেখাগুলো আদৌ কবিতা হয় কি না, সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তবু লিখি। নিজের ভালো লাগার জন্যই লিখি। এই লেখাগুলো যদি কখনো কোনো পাঠকের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র দাগ কাটতে পারে, তাতেই আমার সর্বোচ্চ আনন্দ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পরম আমাকে বিয়ে করেনি বলে তাদের ভীষণ দুঃখ: রাইমা

চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু

আ.লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বহু হতাহত

পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

নতুন কিছু করার অঙ্গীকার শি-কিমের

চার বছর পর ফিরেই মোসাদ্দেকের ফিফটি

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান সাময়িক বরখাস্ত

রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

১০

মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

১১

ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন গ্রেপ্তার সেই ৬১ আইনজীবী 

১২

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন কোর্স বাতিলের খবর ‘ভিত্তিহীন’ : শিক্ষা মন্ত্রণালয়

১৩

তথ্য উপদেষ্টা / ‘শর্ত মেনে’ আ. লীগের যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে

১৪

কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ৭০ জনের বেশি

১৫

সা ক্ষা ৎ কা র / ইসলামি অর্থনীতিকে বিকল্প পথ হিসেবে গ্রহণ না করলে বাজেটের দুষ্টচক্র ভাঙবে না

১৬

চসিক মেয়রের সঙ্গে বিসিবি পরিচালক সাকিফ সালামের সাক্ষাৎ

১৭

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হত্যার ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

১৮

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিট  / সেরাদের তালিকায় ব্রাজিলের তিন গোলরক্ষক, নেই কোনো আর্জেন্টাইন

১৯

স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

২০
X