

ব্যালট ও সিলের দৃশ্যে
ব্যালটের ভেতর ভেসে উঠেছে প্রিয়ার মুখ ঠিক তখনি ব্যালটের কী ক্রন্দন! আর সিলজুড়ে পৃথিবীসমান আগুনের কুণ্ডলি
ব্যালট ও সিল মিলে অভিযোগ জমা দিয়ে আসলাম সুক্ষ্ম চিঠির মতো গুঁজিয়ে দিয়েছি সাদা বাক্সে...
বুকের ভেতর...
নিঃশ্বাস উড়ছে ভোটারদের কারো চোখে আগুনেরও ভিড় অথচ কী যে আহ্লাদ আমাদের! পুনঃজন্মের মতো জেগে উঠেছিলাম সকালে ঘুমের ভেতর খেলা করেছে লাল নীল মার্কার উৎসব
কালো আঙুলের টিপে প্রতিবাদ লিখছিলাম মিছিলের মতোই কেঁপে উঠেছিলো সিল এরই ফাঁকে আরেক বুথের দিকে প্রিয়তমার টলমলে হাসিটুকু অদ্ভুত ভঙ্গিমায় হেঁটে আসছিলো ঠোঁট রাস্তা ধরে
ততক্ষণে সিলটা ঝড় তুলেছে ব্যালটে তুমুল অন্ধকার ছেনে কেবলি আলোর মিছিল আমরা থেমে নেই কোথাও কিছু একটা ফিরুক, কিছু একটা আসুক
ভোটের দৃশ্য
ভোটের কেন্দ্রে যেতে যেতে উঁচু হয়েছে আকাশ আরও নরম বাতাসগুলো ফিরে তাকাচ্ছে না ষড়যন্ত্রের দিকে তাকিয়ে আছি আমি কিছু একটা হলে খারাপ কি! পুলিশের সতর্কতা পেরিয়ে কিছু হলে দোষের কিছু নেই
কেউ কেউ ভিড়ের দৃশ্যে- আড়ালের মতো হয় কেউ কেউ ওঁৎ পাতা হরিণীর মতো
এর ফাঁকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে ব্যালট বাক্স অভিনয়ের ভঙ্গিতে কাঁপছে সিলযুক্ত মার্কা পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার
কী যে সুদিন আর দুর্দিনের পার্থক্য! হুদাই সব-মিলেমিশে থাকার অভিনয় সবকিছু জানি আমি, দেখেছি অন্তর্বাসের ভেতরে লুটতরাজের ইতিহাস লুণ্ঠনের দৃশ্যে ঝুঁকি নিয়েছিলো আমার বন্ধু সাংবাদিক
অনেকেই আছে-নরম কণ্ঠের ভেতর গুঁজিয়ে রেখেছিলো এইসব দৃশ্য তারা নিঃশ্বাস ছেড়ে তুলে নিয়েছিল মেরুনরঙা সিল ব্যালটভাষ্যে সঁপেছিলো ঠোঁটের সম্মিলন জনগণের আঙুলের দাগ- সরল রেখার মতো তখনও সুউচ্চে দাড়িয়ে
সেই ব্যালটগুলো চুরি হচ্ছে... স্রোতের বিপরীতে ম্যাকিয়্যাভেলির মতো উৎকীর্ণ সাহসে আলুথালু শরীর নিয়ে পালাবে আর কতোদূর সিনেম্যাটিক স্টাইলে ফিরে এসেছে জনগনের সহাস্যে- আঙুলের দাগ
ওপরে নির্মিত আকাশের চোখ চেয়ে আছে বাতাসও নির্বিঘ্নে ছড়িয়েছে ডানা প্রেমিকার ভোটের দৃশ্য নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিলো আমার।
মেডিকেল, আমার বোন ও কাঁটাপাথর
সুখবর এলো, আমার বোনের অপারেশন সাকসেসফুল সিস্টারের হাতে একটা বাটি ছিলো বাটির ভেতর অনেকগুলো সাকসেসফুল রঙের চাকু কী সুন্দর চাকুগুলোর উস্কানো ভঙ্গি!
আমাকে বলছে, এই নিন আপনার বোনের পাথরগুলো আমি পলিব্যাগে ভরিয়ে নিলাম
পাথরের শরীর কাঁটা কাঁটা, হলদে শাড়ির ভেতর থেকে নববধুর মতো চেয়ে আছে পাথরগুলো অদ্ভুত রঙের-না লাল, না হলুদ
বোন আমার চিকচিকে আলোয় ফিরে আসে পোস্ট আপারেশন রুমে মুখ থেকে বেরোচ্ছে সুগন্ধিযুক্ত গঙানি অবচেনের ভেতর দিয়ে গড়িয়ে হাওয়া- হৃদয় ভেঙে খান খান হয় আমাদের
চারপাশ দুর্গন্ধ- ছুপ ছুপ রক্তের স্তূপ স্যাভলনি হাওয়া দৌড়োচ্ছে এদিক সেদিক আমি টের পাই- বোন আমার নিষ্পাপ, নিথর
কী যে ব্যাপার! মানুষের পিত্ত্বথলির ভেতর এতো আঁটসাঁট করে কিভাবে ঘর বাঁধে ওরা? মা পাথর, সন্তান পাথর-বেশ সংসারি ভাবসাব
সিসিইউ, মেডিকেল ও মৃতময় একটা রাত
বাউন্ডুলে হাওয়ায় উড়ছে দুর্গন্ধময় পাখি পাখিদের পায়ে নিরিবিলি মৃত্যুর কান্না তবুও আমি কেতাদুরস্ত দর্শকের ভূমিকায় ঢুকে যাচ্ছি সিসিইউ বিভাগে
মেডিকেল মানেই তো ভয়, দ্বিধা আর সংকট চারপাশ কান্নার আওয়াজ যেনো, নাকে কাছাকাছিই কারো কারো মৃত্যুর ফেরেস্তারা পা ঠেকে বসে আছে
কারো কারো হার্টের বেলুন ওইপোকার ঢিবির মতো উঠছে নামছে কারোটা ফুলস্টপের কাছে রেখেছে পা আমার চোখে ছলছলময় ধূঁয়োনদী
সিসিইউতে আমার পা পড়ছে খুব ধীরে ধীরে চোখের উঁচুতে আমার ভয়গুলো দাড়িয়ে যাচ্ছে নার্সের বিপি মেশিন থেকে থেকে গলা থেকে নেমে দৌড়াচাছে রোগীর বুকে, পাঁজরে দুঃসংবাদের পাখিরা কানাকানি করছে ভিড়ের ভেতর কার নিঃশ্বাস নিয়ে আকাশের দিকে উড়ে যাবে, ভাবছি
এতো যে রোগী! সিনেম্যাটিক ভঙ্গিতে আলোরা ফিরে যাচ্ছে ঘরে রোগীর সিথানে পলিব্যাগে গিজগিজ লাল,সাদা, হলদে রঙের টেবলেট যেদিকে নেমে এসেছে আকাশের রাত জানালার ফাঁকে মিছিলের মতো অন্ধকার তখনো, কেউ হুঁ হুঁ করে উড়ছে- কোনোখানে...
প্রার্থনার মতো সুর
জায়নামাজে দাঁড়িয়ে কত কথা হয়, ঈশ্বরের সাথে এই নরক, এই নহর, বেহেস্ত, দোযখ তারপর ইনিয়েবিনিয়ে অন্য প্রসঙ্গ আস্তিক অথবা নাস্তিক, অথবা মধ্যবর্তী কোন প্রশ্ন আমার বিশ্বাস আর নিঃশ্বাস আরো পোক্ত হয় আরো মুখোমুখি হই, সমুখে আড়াল না রেখে জানি, কোন পর্দায় আটকানো যায় না ঈশ্বরকে
সে অনেক কথা, তাবৎ বৃক্ষের পাতা কেন ঝরে যায় কেন এই বৃষ্টি, এই রোদ কেন হিন্দু, কেন মুসলিম অথবা আরো
আমি কাঁপছি না একটু এতো উদ্ভ্রান্তভাবে আবেগ উড়াচ্ছে চোখের ছাপরি ঘরে এসে পরছে নোনতা প্রার্থনা দাড়িয়ে দাড়িয়ে অনেকক্ষণ কথা ফালতু অফালতু, হেসে, কান্নায়
অথচ, আমার সংসারের কথা বলায় হলো না ইশ্বর!
প্রেমিকা
যে কিনা ভেতরে এসেছিলো অথচ, দেখতে চায়নি দোচালা ঘর ড্রইংরুমের দেয়ালে বিমূর্ত প্রতিচ্ছবি
বিমূর্ত এবং অস্পষ্ট অনেকটা তবে মুখের ওপরে চুলের গ্রাফিতি অতোটা বিমূর্ত নয়
তারপর, নাকের পাশে একটু দুঃখ আঁকা জানি, দুঃখের রঙ বা ছবি নেই ওখানেই প্রশ্নের কালাকানুন রেখে দিয়েছি যেই আসুক, প্রশ্নের নিকটে যাবে
সংকেত ভেঙে যে কবি এতোটা পথ এসেছে তার হৃদয়ে কার ছবি-এমন উস্কোখুস্কো নেফারতিতিরে বলেছিলাম বড্ড হেসে ‘রানি হইচো বটে আমার প্রেমিকার মতো হইতে পারলে না’।
দুঃখ সেরে উঠলেই
দুঃখ সেরে উঠলেই কান্নার রঙ পাল্টে যায় তারপর,ম্যাজিক বিভ্রমে পৃথিবীতে ধীরে ধীরে আবিষ্কৃত হয় আমি নামক জীব
এটা কোনো কথা... কোনো হৃদয় কোথাও নেই মনে হয়, কারো শরীরে হৃদয় ওঠেনি জেগে এতো বালিকা, এতো রমণীরা কেন যে হৃদয় দেয়নি হৃদয়ে
ঈশ্বর জানেন, ভুল পাত্রে হৃদয় দিতে নেই
কার হৃদয়ে,হৃদয় পুঁতলে সোনা ফলে কার হৃদয়ে বৃষ্টি পুঁতলে, চারা ফলে
আমি হৃদয় দিতে পারিনি কোথাও কারো শরীরে অথবা শরীরের মতো মোড়ানো অঙ্গে
কেউ কাউকে নেয় না- না হৃদয়, না মানুষ
এই ভেবে, আমার সমস্ত দুঃখ-হৃদয়ে রেখেছি তুলে কান্নাগুলো তোলা আছে ঝুলন্ত সিকায় আমার চক্ষুদ্বয় ঝুলে আছে- সেই থেকে
শীতের পদাবলি
এখানে জমছে কাচের নীরবতা, পৌষের রাত ফুটপাথের ছায়াগুলো খবরের কাগজের মতো ছাপা অক্ষরে, পরিস্ফুটিত হচ্ছে-
রোদ তখন দূরের আত্মীয়—নাম জানা, অচেনা স্পর্শ দাড়কাকেরা ঠোঁটের কিনারে রেখে দিয়েছে হিম
চা স্টলে,আগুণের ভির, ঠোঁটে ছুপ ছুপ ধূঁয়োর উড়াল অব্যক্ত প্রার্থনার মতো, ফিরে আসেনা প্রেমিকা আধা আধা-কথা, আধা-আধা নিঃশ্বাস-চুপ চাপ নীরবতা
রাতে চাঁদ পরিধান করে আছে সাদা দস্তানা বিকিকিনি শেষে কিছু দুঃখ ফিরে আসে ঘরে অজস্র হিম- শর্ষে ফুলের হলুদ ভাষা কেড়ে নিয়েছে নদী কথা বলে, বরফের ভাষায়- জলের শরীরে নেই অতীতের মতো চার রঙা শাড়ি
শীত আসলে সময়ের সব প্রেমিকা—পাখি হয়ে যায় খেজুরে রসে চুমু রেখে টুপ টুপ শব্দে ঝরে পড়ে সকালে রস বিক্রেতা হাঁক ছাড়ে ‘এই রস নিবি রস’ আমি তখন আশি টাকা দরে এক কেজি চুমু কিনে নেই