

ঝরেপড়া শিউলি
অভাব কিংবা অভ্যাস চুষছে সভ্য লজেন্স চৌধুরীর কুকুরটাও তো সুযোগ পেলে খায়, নেশাগ্রস্তরা নির্বোধের ঠিকানায় বসতি গড়ে আমি শুনি ঝড়ে ঝরেপড়া শিউলির ক্রন্দন।
উঁচুতলার নিচু মানুষের সুক্ষ্ম অভিনয় দেখি নিচুতলার কোমল মাটির সবিনয়টাও দেখি, অবশ্য শিক্ষা, পরিবেশ কিংবা জন্মান্ধ দায়ী তাই পূর্বসূরি শত্রু হয়ে যায় উত্তরসূরির কাছে।
নির্গত নিকোটিনে ছিন্নভিন্ন সম্পর্কের মমতা পাপ রাজ্যের কর্পোরেশন কর্মী হিমশিম খায়, ওই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েই রাজসাক্ষী হতে চাই ; পরিশুদ্ধ সমাজ বিনির্মানে লেখা থাকুক নাম।
নির্ঘুম রাতের গল্প
সেই ঝিঁঝিঁ ডাকা সন্ধ্যে শুনশান নীরব এলোমেলো জোনাকির নিবুনিবু আলো; তারকাপুঞ্জ নিখোঁজ হয় মেঘের রাজ্যে দীঘির জলে কুৎসিত অদ্ভুতুরে আতঙ্ক।
ডাইরির পাতাগুলো উইপোকা’র দখলে যেখানে স্মৃতিগুলো মমি করা ছিল যত্নে; আমি আমার ফাঁসি চেয়েছিলাম সেখানে ব্যর্থতার দায় চাপে ওই ধর্মগ্রন্থের পৃষ্ঠায়।
মহানিশায় থরথর করে বুক কেঁপে ওঠে আর দীর্ঘায়িত হয় নির্ঘুম রাতের গল্পটা ; অন্ধকারে বারংবার সুবেহ-সাদিক খুঁজি বসন্ত বাতাসের প্রত্যাশা অধরা রয়ে যায়।
অপাংক্তেয়
অস্পষ্ট পৃষ্ঠাগুলো বার্ধক্যে; ওখানে তামাটে রঙে পরিত্যক্ত স্বপ্ন নখের আঁচড়ের কালশিটে দাগ, আর ছিন্নভিন্ন বস্রে কিশোরী ঘ্রাণ।
কলঙ্কিত হয় সমাজের বিধিমালা; সুগন্ধির আড়ালে সমাজপতির চরিত্র হিংস্র পোষ্যবর্গ সুশীলের ছায়ায় নিমগ্ন, অথচ, সেদিনের কিশোরীটি অপাংক্তেয়।
স্বপ্নগুলো বেওয়ারিশ
তবুও বেঁচে থাকে আকিঞ্চন ; অনিকেতন প্রায়োপবেশন করে নিত্যদিন, নিঃশব্দে নিকোটিন জমে অন্তরাত্মায় অগ্নিদগ্ধ স্বপ্নগুলো বেওয়ারিশ যন্ত্রণায়।
জীবনের প্রাগুক্ত ছন্দ আমৃত্যু দ্বন্দ্বে; অপত্যনির্বিশেষে লালিত লক্ষ্য অদ্ভুতুড়ে, নিঃসৃত বাক্যে পরাজয়ের ছাপ স্পষ্ট কাঙ্ক্ষিত নিশ্বাস পরিনত দীর্ঘশ্বাসে।
আমার শহরে বৃষ্টি নামুক
আমার শহরটাতে বৃষ্টি নামুক মুষলধারে নকল ধুয়ে বেরিয়ে আনুক আসলটারে, যেমনি করে শুদ্ধ মানুষ সব বেঁচে থাকে সুগন্ধি তাই ছড়িয়ে পড়ুক জীবন বাঁকে।
আসুক তবে বৃষ্টির ফোটা চৌচির মাঠে পুণ্যের ফসল জমিয়ে থাকুক কর্ম পাঠে, অন্তর পোড়া দুর্গন্ধে সমাজ নষ্ট করে ছাইগুলো তাই উড়ে যাক হঠাৎ ঝড়ে।
তোমার শহর আমার মতো সাজাও যদি সুখের আমেজে ভাসবে তুমিও নিরবধি, বিষের বাঁশিটা ছাড়ো এবার তওবা করে নইলে কিন্তু পচতে হবে সারা জনম ভরে।
ধ্বংসিত জীবনের ক্রন্দন
সুদ - আসলের কর্মযজ্ঞ, জটিল অংক ক্ষমার অযোগ্য শাস্তির পাল্লা অস্বস্তিকর, দংশিত অস্তিত্বে ধ্বংসিত জীবনের ক্রন্দন অতঃপর আমার আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে।
কিছু ভুল গোনে মাশুল এলোমেলো কাব্যে পিছনের দরজায় ঠকঠক করে পিছুটান , কিংকর্তব্যবিমুঢ় বর্তমানে অমাবস্যার ছোঁয়া সদরের পাহারাদার অদ্ভুত কিম্ভূতকিমাকার।
সম্পর্কগুলো দূরে সরে যায়, বড্ড স্বার্থপর ; হন্তদন্ত হয়ে অন্ধকারে খুঁজি উপসংহার অবশেষে... উত্তরসূরির মেঝেতে আঁকি পরিণতির চিত্র।
ধূম্রজাল
স্বভাবের সঙ্গে অভাবের মেলবন্ধন পুড়ে ছারখার নৈতিকতার পাণ্ডুলিপি ; বিবস্ত্র বোধ নিঃশব্দে নিকোটিন ছড়ায় সংস্পর্শে খাঁটি মধুও নিমিষেই বিষ।
শাড়ির আঁচলে গোঁজা ছলনার বীণ মুহুর্তের মোহে সভ্যতার মোহেঞ্জোদারো; আমিও নির্বাসিত হই ঝরাপাতার স্তূপে লজ্জায় সুইসাইড করে পাড়ার যুবক।
স্বত্ত্ব গুলিয়ে যায় চারিত্রিক ধূমজালে কলিতেই স্বপ্নভঙ্গ অদ্ভুত মায়াজালে।
রক্তভেজা ঘুমন্ত বালিশ
সহজলভ্য তালিকায় সংরক্ষিত সতীত্ব এটার দায়ভার স্বভাব কিংবা অভাবের ; অনিষ্টে উচ্ছ্বসিত বানর সুযোগ খোঁজে সুগন্ধির অন্তরালে চিত্রনাট্যের অধ্যায়।
অদৃশ্য অস্পৃশ্য কালিমায় উত্তরাধিকার সভ্যতার মানদণ্ডে ভুক্তভোগীর কর্মফল ; অনুশোচনার রক্তভেজা ঘুমন্ত বালিশ তারপরও স্বেচ্ছায় পরাস্ত হই বারংবার।
মন্দের বাজারে শুদ্ধাচার বিক্রি হয় না শুদ্ধ সমাজ বিনির্মানে সুশীলের পণ্ডশ্রম ; তবুও চারিত্রিক সনদে শিষ্টাচারের ছাপ দুর্ভাগ্যে দুর্ভাবনার স্থায়ী রেখা ভাগ্যচক্রে।
প্রশ্নগুলো অমীমাংসিত
কিংবা ফুলগুলো ভাইরাস আক্রান্ত অথবা প্রজাপতির ডানায় বহন বিষ; নয়তো মালীর অবহেলার করুণ চিত্র তবুও সবাই বেকসুর খালাস হয়ে যায়।
ভাগ্যচক্রে ভর করে জীবনের গল্পটা নিথর নিস্তব্ধ স্বপ্নগুলো ঝরে পড়ে , স্তব্ধ বর্তমান অতীত ইতিহাস গড়ে; আর মৃত্যুর প্রশ্নগুলো অমীমাংসিত।
আমিও মানুষ হতে চেয়েছিলাম
অথচ একদিন আমিও মানুষ হতে চেয়েছিলাম ওই দূর পাহাড়ে বসে স্বচ্ছ গোধূলি দেখবো বলে - স্বপ্ন পূরণে যাত্রা করেছিলাম কাকডাকা প্রভাতে কণ্টকাকীর্ণ পথে হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত হলাম অবশেষে।
কর্মযজ্ঞ পৌরহিত্যের দায়িত্বে বিবেকের পাণ্ডুলিপি হিসাবের ভাগ্য খাতাটা উল্টাতে ব্যস্ত প্রহরগুলো নৈতিকতা আর মানবিকতার নির্দিষ্ট পৃষ্ঠায় শূন্য উপসংহারে তাই মনুষ্য রূপে অমানুষ রয়ে গেলাম।
নির্ঘুম রাতের গল্প
সেই ঝিঁঝিঁ ডাকা সন্ধ্যে শুনশান নীরব এলোমেলো জোনাকির নিবুনিবু আলো ; তারকাপুঞ্জ নিখোঁজ হয় মেঘের রাজ্যে দীঘির জলে কুৎসিত অদ্ভুতুরে আতঙ্ক।
ডাইরির পাতাগুলো উইপোকা’র দখলে যেখানে স্মৃতিগুলো মমি করা ছিল যত্নে ; আমি আমার ফাঁসি চেয়েছিলাম সেখানে ব্যর্থতার দায় চাপে ওই ধর্মগ্রন্থের পৃষ্ঠায়।
মহানিশায় থরথর করে বুক কেঁপে ওঠে আর দীর্ঘায়িত হয় নির্ঘুম রাতের গল্পটা ; অন্ধকারে বারংবার সুবেহ-সাদিক খুঁজি বসন্ত বাতাসের প্রত্যাশা অধরা রয়ে যায়।
চোখের কালো দাগে দুঃখ খুঁজি; কত নির্ঘুম রাত আছড়ে পড়ছে ওখানে, শুকিয়ে গেছে দুঃখী নোনাজল কপোলে আর চিন্তার ভাঁজ স্থায়ী হয়েছে কপালে।
ওই নীল ঠোঁটে ভয়ানক কষ্ট খুঁজি; বিষাক্ত কীটের আঁচড় এঁকেছে মানচিত্র, সময়ের নিশ্বাসে ঝরে পড়েছে দীর্ঘশ্বাস কতটা রক্তাক্ত হলে বিলীন হয় অস্তিত্ব।
শবদেহের কাপড়ে ইতিহাস খুঁজি; মেলানো যায় না অতিক্রান্ত প্রহরগুলো, অসমাপ্ত জীবনাঙ্ক দ্রোহের কথা বলে বড্ড জটিল কুটিল গানিতিক সূত্রটা।
সভ্যতায় লুকিয়ে থাকা নষ্ট খুঁজি- কলঙ্কিনীর হারানো দিনপঞ্জির পৃষ্ঠায়, সম্পূর্ণ নিখোঁজ সভ্য মানুষের পদচিহ্ন পোস্টমর্টেমে শুধু পশুত্বের ছাপ স্পষ্ট।
কবি পরিচিতি : কবি ও কথাসাহিত্যিক তুহীন বিশ্বাস ১৯৭৪ সালে বরগুনা জেলার বরগুনা সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার লেখা দেশ বিদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত প্রকাশ হয়। ২০২১ অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিমর্ষ বালার্ক’ প্রকাশিত হয়। ইতোমধ্যে তিনি পাঠকের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। শিক্ষা জীবনে তিনি বি কম অনার্স, এম কম (হিসাব বিজ্ঞান) সম্পন্ন করেন।