

দূরজলে ডোবে ছায়া
চলে যাচ্ছি জেনেও ডাকে ফাল্গুনের আকাশ
কী গভীর মর্মরধ্বনি! তুমুল বঞ্চনার উচ্ছাস!
নুপূরাঙ্কনে তোমার পদচিহ্ন খুঁজি
বিরহ আসেনি কখনো, জেতা হয়নি অন্তরালের বাজি!
হৃৎকম্পন থেমেছে আগেই, মাপিনি দুরত্বের শরীর
অস্থিনদীতে হিম বাতাস, ভুলে যাওয়া সময়, অস্থির!
উঠানে ছায়া রেখে হেঁটে যায় ভাঙা দুপুর
কোথাও বিরতি নেই, বাজছে বেহালার সুর।
সুখবেলা উড়ে যায়
উড়ছে সব
কালের ধূলায় আঁকা পুরাণের পাতা
মিছিলের শার্ট
বুকে লেপ্টে থাকা তরুণীর আঁচল।
কোথাও কিছু উড়ছে না, এখন
মেঘ সব ফিরে গ্যাছে জলে
ঘ্রাণবেলা পেরিয়ে ফ্যাকাশে চোখ
অপেক্ষা সব উড়ে গ্যাছে ঝাপসা বাতাসে
বেলা শেষে পরে আছে উঠানজোড়া;
পায়ের ছাপ রাখা আছে গোধূলি বেলায়
পিছনে আয়ু রেখে সুখবেলা উড়ে যায়।
স্মৃতি অথবা দুরত্বের ঘ্রাণ
জানার কিছু নেই,এই রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিল কেউ
হাতের ঘ্রাণ এখনও লেগে আছে
এখানে দুরত্বের প্রি-মর্টেম হয়েছে
জলকাঁদায় ধুয়ে নেবার প্রয়োজন নেই!
উপহারের পরিশিষ্টে তোমার ঘ্রাণ
রাতজাগা কাব্যলোকে ঢাকা মৌনতা বিলাস
পুনশ্চঃ লেখার কিছু নেই
শব্দ আর নিঃশব্দের মধ্যে যে সময়ের সুহ্ম ব্যবধান
সেটাই স্মৃতি!
দ্রৌপদীর শাপ
একটা বিকেল চাপা দেয়া ছিল
উচ্ছিষ্ট মূল্যবান ভাতের থালার নিচে
নগরের নিয়ন আলোয় হাঁটে ছিন্নমূল কুকুরের দল
ভদ্রলোকেরা রাত জাগে উৎকন্ঠা নিয়ে।
কে যেন নবনীতাকে বলেছিল
আর ক’টা দিন বেঁচে যাও
গোলাপ বলে মৃত অর্কিড ভরে দাও বুকে
দ্রৌপদীর শাপে ভস্ম হও আর
বৃষ্টি আর বারুদ একসাথে ধুয়ে যাক!
তারপর? পৃথিবী কবিতার জঞ্জালমুক্ত
এখন গোগ্রাসে অভিসম্পাত গিলে খায়!