

আড়ি নেওয়া মেয়ে
যে মেয়েটা না বলে চলে গেলো
কোন কারণ না দেখিয়েই প্রস্থান নিলো
সে একটা রঙধনু হয়ে ফিরে আসবে আবার
কোন একদিন বৃষ্টির পরে তাকে ফের দেখতে পাবো
আকাশের মেঘ থেকে উঁকি দিয়ে সে হাসবে
আমার দিকে তাকিয়ে।
যে মেয়েটা বলে গেলো না আমাদের আর
কখনো দেখা হবে কিনা
তাকে পুনরায় দেখার জন্য আমি ঘুমের ভেতরেও
জেগে থাকি
আমার মস্তিষ্ক থাকে সজাগ
কানদুটো থাকে খাড়া
এইবুঝি দরজায় তার কড়া নাড়ার আওয়াজ শোনা যাবে।
যে মেয়েটা যাবার বেলায় বলে গেলো না তার হয়েছে নতুন ঘর,
আমি প্রতিবছর তার জন্য এ ঘরে নতুন চাল তুলি,
মেঝে মেরামত করি
আমি আড়ি নেয়া মেয়েটির জন্য হৃদয়ের দরজা
খুলে বসে থাকি।
না বলে যাওয়া মেয়েটি আসলে আড়ি নিয়ে
মুখভার করে বসে থাকে,
যেকোন দিন ফিরে আসতে পারে।
অবুঝ মানসী
কতো কিছু এনে দিতে চাই
কতো কিছুই তো দিচ্ছি,
কিন্তু মন ভরছে কই তোমার!
কেমন বাংলার পাঁচের মতো দুর্বোধ্য মুখ করে
বসে আছো।
ফসিলের কপার ঘড়ি, ভিকেনজার নাকছাবি,
রাজকোটের বাজুবন্দ, ফরাসি পারফিউম,
লাহোরি মখমল, কাশ্মিরি গোলাপ,
দিয়াশলাইয়ের ভেতর বন্দী টাঙ্গাইলের মসলিন,
এমন কতো কিছুই তো দিলাম!
কিন্তু তোমার কেবল ওই একই আবদার-
ডানা ভাঙা পাখির মতো মুখথুবড়ে পড়ে থাকবো
আমি তোমার কোলে মাথা রেখে।
এ কেমন তিয়াস গো তোমার আমায় নিয়ে!
এ কেমন প্রেম শিখেছ তুমি বাপু!
এমন অবুঝ হলে হয় বলো?
পাখির তো ডানা গজায়ই আকাশে উড়বে বলে
তুমি বরং চলো আকাশ হবে।