

তিস্তা থেকে নেমে আসা সতী নদী লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের মধুরাম ও সিরামধুরাম নামক দুই এলাকার কয়েক গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে। নৌকায় নদী পার হওয়াই ছিল ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মধুরাম মৌজার সতী নদীর পূর্ব পাশে সিরামধুরাম ও জগৎবেড় গ্রামের ৭ শতাধিক পরিবার এবং নদীর পশ্চিম পাশে ভোটনাথ, চিনাইতলী ও খলাইঘাট গ্রামের দেড় হাজার পরিবার বাস করে। নদীর ওপারে রয়েছে কৃষিজমি।
ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা হাটবাজারে যাওয়া লোকজন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ শত শত লোকজনের প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হতে হয়। সময় মতো নৌকা পাওয়া না গেলে তাদের চার- পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিল তাদের নিত্য দুর্ভোগ। ফলে দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকার মানুষজন নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে লালমনিরহাট যুবদলের নেতাকর্মীরা সেখানে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি ভাসমান সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু তিস্তা নদীর পানির ওঠানামার সঙ্গে ওই সতী নদীর স্রোত ও পানির উচ্চতা পরিবর্তন হওয়ায় স্থায়ী বাঁশ বা কাঠের সেতু নির্মাণ সম্ভব ছিল না। অবশেষে জেলা যুবদল থেকে তৃণমূল যুবদলের নেতাকর্মীরা নিজেরাই অর্থ দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাম বসিয়ে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ৮০ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ মিটার প্রস্থ একটি ভাসমান সেতু তৈরি করে দেন যুবদলের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে ভাসমান সেতুটির উদ্বোধন করেন রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আশাদুল হাবিব দুলু। এসময় তার সহধর্মিণী লায়লা হাবিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিচুর রহমান আনিচ ও সদস্য সচিব হাসান আলীসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এখন ভাসমান সেতুটির ওপর দিয়ে সহজেই নদী পার হতে পেরে এলাকার মানুষজনের প্রশংসায় ভাসছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। দৃষ্টিনন্দন এই সেতুটি দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, এখন আর ঘুরে যেতে হবে না। ফসল ঘরে তুলতেও আগের মতো কষ্ট হবে না। তিনি যুবদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
স্কুলশিক্ষার্থী তাজেদুল ইসলাম বলেন, নদীর ওপারে আমার স্কুল। বর্ষার সময় নৌকায় নদী পার হতে খুব ভয় পাই।
গৃহিণী মনোয়ারা বেগম বলেন, অনেক সময় নৌকা পাওয়া যায় না। বাচ্চাদের স্কুলে যেতে অনেকটা পথ ঘুরতে হয়। এখন বাচ্চারা সেতু দিয়ে নদী পার হয়ে সোজা স্কুলে যেতে পারবে। এতে আমরা খুব খুশি।
জেলা যুবদলের সভাপতি আনিচুর রহমান আনিচ বলেন, তিস্তার পানি বাড়া-কমার কারণে ভাসমান সেতুই ছিল কার্যকর সমাধান। ভাসমান সেতুটি চালু হওয়ায় নদীর দুপারের হাজারও মানুষ এর সুফল পাবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে। সেতুটি দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মানুষের কষ্ট দূর করাই বিএনপির লক্ষ্য। যুবদলের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ওই নদীর ওপর স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মন্তব্য করুন