কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মুকুলের ঘ্রাণে জেগে উঠেছে প্রকৃতি

গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। ছবি : কালবেলা
গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। ছবি : কালবেলা

নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা জনপদ কলমাকান্দা উপজেলা এখন বসন্তের আগমনী বার্তায় ভরে উঠেছে। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল- ক্ষুদ্র হলুদাভ-সবুজ ফুলের ঝাঁক যেন চারদিককে সাজিয়েছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। বাতাসে ভেসে আসে মিষ্টি ঘ্রাণ, যা মানুষকে মাতোয়ারা করছে।

ভোরবেলার হালকা আলোতে আমগাছের ডালে বসে ডাকে কোকিল। তার সুমিষ্ট কুহুতাল যেন কলমাকান্দার বন-বিশ্বকে মাতিয়ে তুলেছে। দোয়েল উড়ে বেড়াচ্ছে ডাল বদল করে, শালিক দলবেঁধে বসে আছে গাছের মাথায়, বুলবুলি মুকুলের ফাঁকে ফাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে, আর ফিঙে দূরের খোলা আকাশ থেকে এসে ডালের আগায় বসেছে। মৌমাছির গুঞ্জন, পাখির কণ্ঠ- সব মিলেমিশে যেন তৈরি করছে এক প্রাকৃতিক অর্কেস্ট্রা। এই দৃশ্য কলমাকান্দার প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।

তবে কৃষি অফিস বলছে- আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড় বা অকালবৃষ্টির কারণে অনেক মুকুল ঝরে যেতে পারে, তাই সময়মতো পরিচর্যা জরুরি।

এবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের গ্রামগুলো যেন নতুন সাজে সেজেছে। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের আমগাছে মুকুল ফুটেছে, শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। দেশি জাতের সঙ্গে আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আমেও মুকুল এসেছে। মুকুল আসা মানে শুধু সৌন্দর্য নয়- এটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এবার গাছে মুকুল ভালো এসেছে। পেছনের অভিজ্ঞতা বলে, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে ফলনও ভালো হয়। প্রতিটি মুকুল মানে পরিবারের জন্য সম্ভাবনা। একটি গাছে ভালো ফল হলে সেই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ মেটানো যায়- শিশুদের বই-খাতা, ঈদের নতুন পোশাক, এমনকি ছোটোখাটো ঋণও মেটানো যায়।

লেংগুরা গ্রামের মমিন মিয়া বলেন- এখানে শুধু দেশি জাতের আম নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা আনা হয়েছে। খিরসা, মোহনা, রাজভোগ, বারি-৪, গোপালভোগ— সব মিলে বাগানগুলো যেন এখন এক রঙিন মুকুলমেলা। প্রতিটি গাছের মুকুলের ঘ্রাণে পুরো গ্রাম মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। তবে মুকুল যেন ঝরে না পড়ে, সেই চেষ্টা করতেই আমরা প্রতিটি গাছের পরিচর্যা করছি।

কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমের মুকুল আসা মানেই ফলনের সম্ভাবনার সূচনা। তবে কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরিচর্যা করা প্রয়োজন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ফলন ভালো হবে। তবে ঝড় বা অকালবৃষ্টির কারণে অনেক মুকুল ঝরে যেতে পারে, তাই সময়মতো কাজ করতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা জারি

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

বাংলার নদী, বাংলার জীবন : ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

ল্যাবএইডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

কক্সবাজারে ১৯ রোহিঙ্গা আটক

১০

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় পিছু হটল ইসরায়েলি বাহিনী

১১

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

১২

কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু 

১৩

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে, তুলে ধরল একাধিক কারণ

১৪

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের উপদেষ্টা মঞ্জুশ্রী রায় চৌধুরীর পরলোকগমন

১৫

রামিসা হত্যা : দ্রুতই শুনানি করতে চান রাষ্ট্রপক্ষ

১৬

কেআইবিতে জুনিয়রের ঘুসিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

১৭

ইরানে ইসরায়েলি হামলায় দুই সেনা নিহত

১৮

অপু থেকে বুবলী : সন্তান প্রসঙ্গে কেন বারবার একই চিত্র?

১৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির ব্যাখ্যা

২০
X