নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রত্মসংগ্রাহক ও গবেষক হাবিবুল্লাহ পাঠান মারা গেছেন

প্রত্ম সংগ্রাহক ও গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান। ছবি : কালবেলা
প্রত্ম সংগ্রাহক ও গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান। ছবি : কালবেলা

প্রত্ম সংগ্রাহক ও গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান (৮৭) মারা গেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের বটেশ্বর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি।

তিনি উয়ারি-বটেশ্বরখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে ও পাঁচ নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। এ ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। গত দেড় মাস আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। তার ফুসফুসের ক্যানসারের চতুর্থ পর্যায় চলছিল ও মুখে খাবার বা ওষুধ খাওয়ানো যাচ্ছিল না। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সম্প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে আনা হয়। সেখানেই বেলা সাড়ে ১১টায় হাবিবুল্লাহ পাঠানের মৃত্যু হয়।

জানা যায়, ১৯৩৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান। তার পিতার নাম হানিফ পাঠান ও মাতা মেহেরুন্নেসা। হানিফ পাঠান ছিলেন একজন লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষক। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাদ সংগ্রহকারী হানিফ পাঠানই প্রথম প্রত্নস্থান উয়ারী-বটেশ্বরকে জনসমক্ষে তুলে ধরেন। পিতার হাত ধরে হাবিবুল্লাহ প্রত্নসংগ্রহ এবং গবেষণায় আগ্রহী হয়ে উঠেন। ১৯৫৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় তিনি পিতার সঙ্গে উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থলের গবেষণায় সাহায্য করা শুরু করেন। তাদের প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ করা হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে ২০০০ সালে উয়ারী-বটেশ্বর খননেন কাজ শুরু হয়।

তারা পিতা-পুত্র মিলে ‘বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার’ নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। ওই জাদুঘরে তিন হাজার বছরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এ অঞ্চলে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে দুষ্প্রাপ্য বই, ঐতিহাসিক সাময়িকী ও স্মারক।

মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান ১৬টি বই লিখেছেন । ২০০৯ সালে মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান বাংলা একাডেমির ফেলো নির্বাচিত এবং ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিতর্কের মুখে ‘পেদ্দি’ থেকে মুছল জাহ্নবীর আবেদনময়ী দৃশ্য

একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প

১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা সমর্থকের ব্রাজিলে যোগদান

ডাকাতি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’

বছরে কতবার পরিষ্কার করা হয় মসজিদে নববী?

আত্মসমর্পণের পর পাঁচ আ.লীগ নেতা কারাগারে

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা নিহত

একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

কিউবায় ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

পরম আমাকে বিয়ে করেনি বলে তাদের ভীষণ দুঃখ: রাইমা

১০

চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু

১১

আ.লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

১২

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বহু হতাহত

১৩

পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

১৪

নতুন কিছু করার অঙ্গীকার শি-কিমের

১৫

চার বছর পর ফিরেই মোসাদ্দেকের ফিফটি

১৬

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ

১৭

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান সাময়িক বরখাস্ত

১৮

রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

১৯

মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

২০
X