

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মামলা তুলে না নেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পূর্ব শত্রুতার জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমানের ছেলে ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটনের ছেলে ফারসিদ তালুকদারকে একই গ্রামের এখলাস হোসেন, একরাম ফকির ও কহির ফকিরসহ কয়েকজন মিলে পথরোধ করে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় ফারসিদ তালুকদারের মা উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা করেন। সম্প্রতি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামি ও তার লোকজন বাদী উম্মে হাফিজা ও তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুহূর্তে ওই মামলার বাদীর স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন বাড়িতে ফেরার পথে একই গ্রামের কহির ফকির, দুলালী বেগম, এখলাস, সিরাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর শুরু করে।
এ সময় লিটনের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও বেড়াতে আসা শালিকা উম্মে হাবিবা উর্মি এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাদের ওপড় চড়াও হয়ে মারধর করতে লাগলে তারা পালিয়ে জনৈক শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে ধাওয়া করে তাদের কুড়াল, হাসুয়া ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। হামলায় বাদী উম্মে হাফিজা, তার স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন, তার ছেলে ফারসিদ তালুকদার, মেয়ে নুসরাত জাহান নিহা ও বেড়াতে আসা উম্মে হাবিবা উর্মি মারাত্মক জখম হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি হাসপাতাল ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উম্মে হাবিবা উর্মি রাত ১১টায় মারা যায়। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার সুযোগে হামলাকারীরা বাদীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।
এ ঘটনায় শনিবার (২১) মার্চ দুপুরে নিহতের বোন উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সকালে হামলাকারী কহির ফকির, দুলালী বেগম, আইয়ুব হোসেন ও এখলাস হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।