

‘এতদিন শুধু শুনেছি একসঙ্গে একাধিক মানুষকে কবর দেওয়া হয়েছে। এবার চোখের সামনে দেখছি। পাশাপাশি ৪টি কবর খোঁড়া হয়েছে। একই পরিবারের ৪ জনকে কবর দেওয়া হবে। এর আগে আমরা এমন দৃশ্য আমাদের গ্রামে দেখিনি।’ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এক চা-দোকানি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে গেলে কথাগুলো বলেন স্থানীয় চা-দোকানী নূরু হোসেন।
জানা গেছে, নূরু হোসেনের দোকানের পাশের কবরস্থানে এক সারিতে খোঁড়া হয়েছে ৪টি কবর। সেই কবরগুলোতে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে কুমিল্লার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী নিলুফা আফরোজ ঝর্ণা, মেয়ে লাবিবা ও ছোট ছেলে সাহেদ আশরাফকে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় যাত্রীবাহী স্টার লাইন বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারে থাকা চালকসহ একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। এ সময় প্রাণে বেঁচে যান একই গাড়িতে ভাই-বোনের পাশে থাকা ১২ বছর বয়সী আবরার। সে গাড়ির বাম-পাশের পিছনের সিটে বসা ছিলেন। তবে চোখের সামনে সপরিবারের সকলের মৃত্যুতে সে এখন বাকরুদ্ধ।
প্রসঙ্গত, নিহত মুফতি আব্দুল মমিন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের (ভগ্নিপতি) ছোট বোন ঝর্ণার স্বামী। নোয়াখালী জেলার সেনগাব উপজেলায় মুফতি আব্দুল মমিনের বাড়ী হলেও তিনি বিয়ে পর থেকে থাকতেন ঢাকার মোহাম্মদপুর ও লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে।