দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভূমধ্যসাগরে মৃতদের মধ্যে চারজন সুনামগঞ্জের

সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার সময় দিরাই উপজেলার চারজন নিহত। ছবি : কালবেলা
সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার সময় দিরাই উপজেলার চারজন নিহত। ছবি : কালবেলা

উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হয়েছেন একদল অভিবাসী। সমুদ্রপথে যাত্রা শুরুর পর ছয় দিন খাদ্য ও পানি ছাড়া সমুদ্রে ভেসে থাকতে থাকতে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সেখান থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বাংলাদেশির মধ্যে ৪ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়।

তারা হলেন, দিরাই তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।

শনিবার (২৮ মার্চ) এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

জানা যায়, তোবরুক বন্দর থেকে ২১ মার্চ একটি নৌকায় করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে তারা দিক হারিয়ে ফেলে এবং ছয় দিন ধরে খাদ্য ও পানি ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকে। নৌকাটি ক্রেটা দ্বীপের দক্ষিণে লেরপেটরা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।

উদ্ধার ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে তারা প্রাণ হারান।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া কয়েকজন অভিবাসী গ্রিসের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সাগরপথে গ্রীসের আরেক যাত্রী দিরাইয়ের মাটিয়াপুর গ্রামের যুবক 'তারেক মিয়া' পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

নিহতদের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের ওয়াকিব মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান নামের এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

স্থানীয়রা দ্রুত নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচার চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

গ্রিস কোস্টগার্ড জানায়, ক্রেটা দ্বীপের কাছ থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে। পরবর্তীতে জানানো হয়েছে, জীবিতদের মধ্যে ২১ বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদান এবং একজন চাঁদের নাগরিক রয়েছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশের নিচে ভারত

নেত্রকোনায় রোহিঙ্গা যুবক আটক

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

শিশু অপহরণ চক্রের দুই নারী সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৩ শিশু

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মারা গেছেন

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে

৯ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, আটক ১

জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে যুবদল নেতার ওপর ককটেল হামলা : শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

১০

পাকিস্তানি রিভলভার ও গুলিসহ যুবক আটক

১১

কক্সবাজারে পাচারচক্রের সদস্য আটক

১২

আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া লড়াই

১৩

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বাগযুদ্ধকে ‘প্রেমিক-প্রেমিকার ঝগড়া’ বললেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত

১৪

খাল নেই, তবু কোটি টাকার সেতু

১৫

দৃষ্টিহীন মালেকের হাত ধরে আলোকিত হচ্ছে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

১৬

দেশের ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

১৭

প্রকৃতির অলংকার অনিন্দ্যসুন্দর প্রজাপতি ‘হরতনি’

১৮

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

১৯

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, বিশ্বকাপ থেকে বাদ রেফারি ওমর আরতান

২০
X