

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পাওনা টাকা আদায়ের জেরে জহিরুল ইসলাম সরকার (৫০) নামে এক জমি ব্যবসায়ীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত জহিরুল মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে। তিনি দেবীদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসিক এলাকায় বসবাস করে জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার বিকেলে বালিবাড়ি গ্রামের মোবারক ও শাহীনসহ কয়েকজন যুবক জহিরুলকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। প্রথমে তাকে ভিরাল্লা বাস স্টেশন এলাকায় এবং পরে মোবারক হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে জহিরুল অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে নিহতের স্বজনরা মোবারক, তার ছেলে আশিক ও শাহীনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় জাল দলিল, জমি কেনাবেচায় জালিয়াতি এবং বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ছিল। এমনকি একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির দায়ে পাওনাদাররা প্রায়ই তাকে খুঁজতেন।
সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি নাগরিক সমাবেশেও ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় সংসদ সদস্য অভিযুক্ত জহিরুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। অভিযুক্তরা জহিরুলের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, আটক মোবারক ও তার ছেলে আশিককে বুধবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং শাহীন নামে অন্য একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।