ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নজর কাড়ছে ‘বাংলার চেরি’ জারুল

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন হয়ে ফুটেছে নয়নাভিরাম ‘জারুল’। ছবি : কালবেলা
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন হয়ে ফুটেছে নয়নাভিরাম ‘জারুল’। ছবি : কালবেলা

প্রকৃতিতে ঋতুচক্রের আবর্তে এখন গ্রীষ্মকাল। কাঠফাটা রোদ আর তপ্ত নিশ্বাসের মাঝেও প্রকৃতি নিজেকে সাজাতে ভোলেনি। গ্রীষ্মের এই খরতাপে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন হয়ে ফুটেছে নয়নাভিরাম ‘জারুল’। বেগুনি রঙের এই ফুলের মায়াবী রূপ দেখে মনে হয়, যেন কোনো নিপুণ শিল্পী পরম মমতায় প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিয়েছেন।

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে আধুনিক কবি আহসান হাবিব, সবার লেখনীতেই জারুল পেয়েছে বিশেষ মর্যাদা। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যেমন ফুটে উঠেছে ‘কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজলের’ রূপ, তেমনি আহসান হাবিবের ‘স্বদেশ’ কবিতায় জারুল গাছে দুটি হলুদ পাখির চিত্রকল্প বাঙালির আজন্ম চেনা। এই চিরচেনা জারুলই এখন ব্রাহ্মণপাড়ার গ্রাম-বাংলার পথপ্রান্তকে মোহনীয় করে তুলেছে।

জারুলের বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। ল্যাটিন শব্দ ‘লেজারস্ট্রমিয়া’র অর্থই হলো সুন্দর। ইংরেজিতে একে ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’ বলা হলেও এর মুগ্ধকর সৌন্দর্যের কারণে একে ‘বাংলার চেরি’ বলা হয়। জারুল গাছের আদি নিবাস মূলত দক্ষিণ এশিয়া। এই গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই, যা পানির নিচেও নষ্ট হয় না। গ্রীষ্মের শুরুতে ফোটা এই ফুলের রং গাঢ় বেগুনি হলেও কখনো কখনো তা সাদার কাছাকাছি আভা তৈরি করে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার ধার কিংবা বাড়ির আঙিনায় গুচ্ছ গুচ্ছ জারুল ফুল ফুটে আছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী, সবাই একবারের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াচ্ছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অনেকেই মুঠোফোনে ফ্রেমবন্দি করছেন এই নৈসর্গিক দৃশ্য।

স্থানীয় শিক্ষার্থী তানজিলা ইবনে রহমান বলেন, প্রকৃতি আমাদের মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ সময় জারুলের মতো ফুলগুলো আমাদের চোখ ও মনকে প্রশান্তি দেয়।

শুধু সৌন্দর্যই নয়, জারুলের রয়েছে অসাধারণ ভেষজ গুণ।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, জারুলের পাতা, মূল ও ফল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কাশি, আমাশয় ও বাতের ব্যথার প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে দুঃখজনকভাবে দিন দিন এই গাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

প্রবীণ শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী করে গড়ে তুলতে হলে জারুলের মতো দেশীয় গাছের চারা বেশি করে রোপণ করা প্রয়োজন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্যও অটুট থাকবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিয়ের অনুষ্ঠানে মসজিদে খেজুর ছিটানো যাবে কি

প্রচুর রাগ হলেও শাকিবই আমার রাগ ভাঙায়: বুবলী

তামিম-মোসাদ্দেকে ভর করে অজিদের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিল টাইগাররা

বিতর্কের মুখে ‘পেদ্দি’ থেকে মুছল জাহ্নবীর আবেদনময়ী দৃশ্য

একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প

১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা সমর্থকের ব্রাজিলে যোগদান

ডাকাতি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’

বছরে কতবার পরিষ্কার করা হয় মসজিদে নববী?

আত্মসমর্পণের পর পাঁচ আ.লীগ নেতা কারাগারে

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা নিহত

১০

একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

১১

কিউবায় ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

১২

পরম আমাকে বিয়ে করেনি বলে তাদের ভীষণ দুঃখ: রাইমা

১৩

চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু

১৪

আ.লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

১৫

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বহু হতাহত

১৬

পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

১৭

নতুন কিছু করার অঙ্গীকার শি-কিমের

১৮

চার বছর পর ফিরেই মোসাদ্দেকের ফিফটি

১৯

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ

২০
X