

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ছেলের মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রোল সংগ্রহ করতে প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে এক মাকে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ডেমলা ফিলিং স্টেশনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে কয়েকশ মোটরসাইকেল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন স্থানীয়রা। লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে ছিলেন সাগর বৈদ্যের মা বিথিকা রানী বৈদ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা পাঁচ দিন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার পর নির্দিষ্ট ইউনিয়নভিত্তিকভাবে পেট্রোল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিয়নে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ ঘিরে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে।
এর আগে বুড়িগোয়লিনী ইউনিয়নে তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের বিরোধ তৈরি হলে তাকে মারধর করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নে দুই হাজারের বেশি মোটরসাইকেল রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ভাড়া চালক বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
বিথিকা রানী বৈদ্য বলেন, ‘আমার ছেলে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল ভাড়া চালানোসহ কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। সময় মতো তেল না পাওয়ার কারণে কৃষি কাজের শ্রম দিতে গেছে। আমি এই দুইদিন তেলের লাইনে অপেক্ষা করছি। গতকাল তেল দেওয়ার খবর শুনে এই লাইনে অপেক্ষা করছি। সকালে সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীদের তেল দিয়েছে। পরে সাধারণ জনগণের লাইনে কিছু তেল দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ম ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ লাইনে রাস্তার দুই পাশে প্রায় দুই-তিন শত গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন তেল পাব জানি না।
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। এখন স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।