

সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেছেন, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন এখন শুধু সমাজের প্রচলিত পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ডিজিটাল মাধ্যমেও তারা নানা ধরনের সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, শিশু পর্নোগ্রাফি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গুম ও হত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, এই স্মার্ট সময়েও শিশু ও নারীরা ডিজিটাল মাধ্যমে সুকৌশলে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কখনো তারা সাইবার বুলিং, আবার কখনো অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছে। শিশু পর্নোগ্রাফির বিস্তারও দিন দিন বাড়ছে। ফলে শিশুরা এখন নিজেদের ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে বর্তমান সময়ে নির্যাতনের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। সাইবার ও ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে মানুষের সম্মানহানি করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কারও ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে একজন নারী, একজন কর্মকর্তা, একজন রাজনৈতিক নেতা যে কেউ অপপ্রচারের শিকার হতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপতৎপরতা থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও রেহাই পাচ্ছেন না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকেও এসব অপপ্রচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
নিপুণ রায় বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সাইবার নির্যাতন, অনলাইন হয়রানি এবং এআই অপব্যবহারের মতো নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ বিষয়ে চলমান বাজেট অধিবেশনেই একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. উমর ফারুক বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রশাসন নিয়মিত কাজ করছে এবং এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে নারী ও শিশুদের প্রতি সব ধরনের সহিংসতা, যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং, গুম ও হত্যার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ইমাম, পুরোহিত, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।