

পটুয়াখালীর বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নকে ভয়াবহ নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতীরবর্তী এলাকাকে ‘বালুমহাল’ তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে এই আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।
জানা গেছে, বাউফল উপজেলা ভূমি অফিস গত ৪ জুন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ধুরা বালুমহাল ও বগা লঞ্চঘাট থেকে কারখানা লঞ্চঘাট পর্যন্ত এলাকা ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে আহ্বান করা বিজ্ঞপ্তিতে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায়, আগামী ১১ জুন বেলা ৩টায় সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে প্রকাশ্য ডাকের আয়োজন করে। সরকারি এই উদ্যোগের প্রতিবাদেই আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন জেলা প্রশাসকের কাছে এ আবেদন করেছেন।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিগত কয়েক বছরে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীব্র ভাঙনে নাজিরপুর, কালাইয়া ও ধুলিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার একর ফসলি জমি, বসতভিটা, হাট-বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তাই মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪ ধারা অনুযায়ী যেসব এলাকা নদী ভাঙনপ্রবণ, সেখান থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নাজিরপুরের ভেতেরকাঠি থেকে কালাইয়া পর্যন্ত অঞ্চলটি বর্তমানে তীব্র ভাঙন কবলিত। এমতাবস্থায় কোনো প্রকার হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভে বা বৈজ্ঞানিক জরিপ ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং ভাঙনের তীব্রতা ও গতি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি সামান্য রাজস্ব আয়ের চেয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নাজিরপুর ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ মানচিত্র থেকে স্থায়ীভাবে হারিয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর পক্ষে আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন অবিলম্বে আগামী ১১ জুনের ইজারা বা খাস আদায়ের প্রক্রিয়া স্থগিতের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটিকে বালুমহাল তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ে জরুরি সুপারিশ প্রেরণ এবং দ্রুত ওই এলাকায় স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।