

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত গান থেকে অর্জিত রয়্যালটির অর্থ আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ ও কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে ঢাকার ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর মো. আহসানুল হাবিব অনিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন লোকসংগীত শিল্পী মো. শরীফুজ্জামান সোহাগ।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী এস এম বিপ্লব হোসেনের মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২১ সালে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউশন সংক্রান্ত চুক্তির মাধ্যমে শিল্পী সোহাগের দুই শতাধিক গান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ করা হয়নি।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান Spotify, Apple Music, iTunes, YouTube Music, TikTok, Facebook Music Library, Shazam এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ডিস্ট্রিবিউশন করা হয়েছে।
শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে বিজ্ঞাপন, স্ট্রিমিং, ডাউনলোড, কনটেন্ট আইডি ও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে। অথচ চুক্তি অনুযায়ী তার পাওনা রয়্যালটির কোনো অংশই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
নোটিশে আরও বলা হয়, চুক্তিপত্রে শিল্পীর স্বাক্ষর নেওয়া হলেও ডিস্ট্রিবিউটরের স্বাক্ষরযুক্ত কপি চার বছরেও শিল্পীর কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। বিভিন্ন সময় হিসাব ও অর্থ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।
আইনজীবী এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালটি, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রের কপি এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোটিশে দণ্ডবিধির ৪০৩, ৪০৬, ৪১৫ ও ৪২০ ধারাসহ কপিরাইট আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগ দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। রয়্যালটির অর্থ এবং প্রকৃত হিসাব পাওয়ার জন্যই তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিস্ট্রিবিউটর মো. আহসানুল হাবিব অনিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি নিয়মিত রয়্যালটি পরিশোধ করেছেন এবং শিল্পীর সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি শিল্পীর বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গ ও কপিরাইট সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই আইনগত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।