ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ, এসপি কার্যালয় ঘেরাও

রুনা হত্যার বিচারের দাবিত
রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ। ছবি : কালবেলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থী ও নিহতের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেটে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধের পর তারা ‘লং মার্চ টু পুলিশ সুপার কার্যালয়’ কর্মসূচি পালন করেন এবং সেখানে গিয়ে এসপি কার্যালয় ঘেরাও করেন।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শওকত মো. হাসান ইমামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, তার সন্তানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘুরাঘুরি করছে কিন্তু প্রশাসন তাদেরকে আজ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারছে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক এবং তার চারটা অবুঝ বাচ্চা, এই বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও প্রশাসনের উচিত ছিল এতদিনে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা। আজ পর্যন্ত কিন্তু তারা কেউ গ্রেপ্তার হয় নাই। তাদের কাউকে কি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে? তাহলে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চলছে এটাই কি চলতে থাকবে? একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের যদি নিরাপত্তা না থাকে, সেখানে একজন সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, আমার স্ত্রী মৃত্যুর পূর্বে যে ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন, আর মৃত্যুর পরে সেই ষড়যন্ত্রটা এখনও বাস্তবায়ন চলছে। প্রশাসন এই ফজলুকে দিয়ে একক সিদ্ধান্তের একটি নীল নকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ, শ্যাম সুন্দর সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগের অর্থ তছরুপ করার অভিযোগও আছে। সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমি মনে করি, এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা বাস্তবায়নকারীর অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হাবিবুর রহমান। অপরদিকে শ্যাম লক্ষ লক্ষ টাকা বিভাগে তছরুপ করেছে।

বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সোহান জানান, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন, প্রধান আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্যান্য আসামিদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে মূল ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে ভিসি কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দপ্তরে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের পরিবার ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশ ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

বাংলার নদী, বাংলার জীবন : ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

ল্যাবএইডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১০

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

১১

কক্সবাজারে ১৯ রোহিঙ্গা আটক

১২

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় পিছু হটল ইসরায়েলি বাহিনী

১৩

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

১৪

কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু 

১৫

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে, তুলে ধরল একাধিক কারণ

১৬

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের উপদেষ্টা মঞ্জুশ্রী রায় চৌধুরীর পরলোকগমন

১৭

রামিসা হত্যা : দ্রুতই শুনানি করতে চান রাষ্ট্রপক্ষ

১৮

কেআইবিতে জুনিয়রের ঘুসিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

১৯

ইরানে ইসরায়েলি হামলায় দুই সেনা নিহত

২০
X