

শিক্ষকদের পদোন্নতি, শিক্ষক সংকট দূরীকরণের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো মঙ্গলবার (১২ মে) চলছে শিক্ষকদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি।
শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বন্ধ রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এ কারণে কার্যত অচল হয়ে আছে গোটা ক্যাম্পাস।
এদিকে- দাবি আদায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যান, সাতজন ডিন এবং ৪৫ জন ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরই মধ্যে অধিকাংশ গণপদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। রাতের মধ্যে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
এর আগে ১১ মে সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপকসহ ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির পাশাপাশি শিক্ষক সংকট দূরীকরণের দাবিতে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। ওইদিন রেজিস্ট্রার, প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের বের করে দিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা।
শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে এসে ফিরে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে পিছিয়ে পড়ছেন তারা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ বিভাগে সেশনজট দেখা দিয়েছে। আন্দোলন দীর্ঘ হলে সেই শঙ্কা আরও বেড়ে যাবে। তাই অচিরেই চলমান সংকটের সুষ্ঠু সমাধানের দাবি শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষক আন্দোলনের সংগঠক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলে গণপদত্যাগ করবে সবাই। এরই মধ্যে ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সাতজন ডিন পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর দিয়েছেন। এছাড়া ৪৫ জন ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যে বেশিরভাগ গণপদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। বাকিদের স্বাক্ষরগ্রহণ সম্পন্ন হলে পদত্যাগপত্র উপাচার্যের দপ্তরে জমা দেবেন।
তিনি আরও বলেন, গত দুবছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যোগ্যতা থাকার পরও পাচ্ছেন না পদোন্নতি। শিক্ষক সংকটের কারণে একজনকে নিতে হচ্ছে একাধিক ক্লাস। যে কারণে প্রতিনিয়তই সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষকরা। বার বার জানানোর পরেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করা না হলে আন্দোলন চলবে।
উল্লেখ্য, পদোন্নতি এবং শিক্ষক সংকট দূর করার দাবিতে গত ২১ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা। তারা প্রথমে কর্মবিরতি, পরে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন উপাচার্য। তবে সিন্ডিকেটের সভায় শিক্ষকদের সেই দাবির গুরুত্ব দেননি উপাচার্য। এ কারণে গত ১০ মে শিক্ষকরা সাধারণ সভা করে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং সিন্ডিকেটের একজন সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দেন।
চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেটের সভা ইতিবাচক হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলন ডাক দিয়েছে। শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আশার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান।