নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে তলব করে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের নোটিশের জবাব দিতে মাগুরা দায়রা ও জজ আদালতে সশরীরে হাজির হন সাকিব আল হাসান। গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার অনেক নিয়মকানুন জানা নেই। আমি এখন থেকে জানার চেষ্টা করব। যা হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এরপর থেকে সবকিছু জেনেই আমি চলব।’
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় সাকিব নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের নোটিশের জবাব দিতে মাগুরা দায়রা ও জজ আদালতে সশরীরে হাজির হন।
সাকিব বলেন, ‘আমার যা জবাব তা আমি ঠিক জায়গামতো দিয়েছি। সবকিছু ক্যামেরার সামনে বলা যায় না। আমি যেহেতু প্রথমবার ইলেকশন করছি, তাই স্বাভাবিকভাবে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে।’ মাগুরা দায়রা ও জজ আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাকিব আল হাসান প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় তার আইনজীবী সাজেদুর রহমান সংগ্রাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত ২৯ অক্টোবর সাকিব আল হাসান মাগুরায় গমন করেন। তখন কামারখালী এলাকায় জমা হয় উৎসুক জনতা। সেখানে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। সেখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না কিংবা দলীয় কাউকে তিনি ডাকেননি। সুতরাং এতে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়নি। আমরা নোটিশের জবাবে এসব উল্লেখ করেছি। ভবিষ্যতে আমরা এসব বিষয়ে সতর্ক থাকব। আইন মেনে চলব।’
এর আগে নির্বাচনী এলাকা-৯১ ও মাগুরা-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধানী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সত্যব্রত শিকদার বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) এই তলব আদেশ দেন। তাকে আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) অনসুন্ধান কমিটির কাছে সশরীরে হাজির হয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
তলব আদেশে বলা হয়, ‘আপনি জনাব সাকিব আল হাসান, মাগুরা-১ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী হিসিবে ঘোষণার পর গত ২৯/১১/২৩ইং তারিখ বুধবার ঢাকা থেকে মাগুরা আগমনের সময় পথিমধ্যে কামারখালী এলাকা থেকে শোডাউন করে গাড়িবহর নিয়ে মাগুরা শহরে প্রবেশ করেন এবং নাগরিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাতে জনগণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেন। যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, ইলেকট্রিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আপনি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৬ (ঘ), ৮ (ক), ১০ (ক) এবং ১২ ধারার বিধান লঙ্ঘন করেছেন।’
মন্তব্য করুন